ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় কমছে আবাদি জমি ॥ বাড়ছে আমন চাষের জমির পরিমাণ 

খুলনা অফিস : খুলনায় আমন চাষের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যদিকে কমছে আবাদী জমির পরিমাণ। তিন ফসলী উপসী ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা। এরমধ্যে আইলার পর আমন চাষের হার বেড়েছে আশানুরূপভাবে। এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে দেয়া তথ্য মতে, একসময় বজ্রমুড়ি, হোগলাপাতা, কৈজুরি, বাঁশফুল, বালাম, কাঁচড়া, খাটো কাঁচরা, চিনিকানাই জাতের সুগন্ধি ভাটিয়া জাতের ধান হতো। এখন আর এক ফসলী এ ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কৃষকরা। খুলনা জেলায় ২০০৩ সালে ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে আমন চাষ হয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০০৯ সালে জলোচ্ছাস আইলা আঘাত হানার পর তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮০ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। ওই সময় কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারে ৭৯ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ফসল। তবে ২০১৮ সালে এসে ওই চিত্র সম্পূর্ণরূপে পাল্টে গেছে। এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদগণ।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, মানুষ আমনে অধিক ফলনশীল ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে আগাম চাষের জন্য ব্রি-৩২, ৩৩, ৩৯ ও ৪৯ ভাল। নাবিযোগ্য চাষাবাদের ২২, ২৩ ও ৪৬ জাত উৎকৃষ্ট। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় আইলার ক্ষতিকর প্রভাব ছিল কৃষকরা সে অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে। লবণাক্ততা কমে যাওয়া আবাদযোগ্য জমিতে চাষ করছে। এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় গত ২০ বছরের ব্যবধানে কৃষিজমি কমেছে ১০ হাজার হেক্টর। ১৯৯৩ সালে খুলনা জেলায় কৃষি জমি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭২৪ হেক্টর, ১৯৯৮ সালে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর, ২০০৮ সালে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬৪ হেক্টর, ২০১২ সালে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬৪ হেক্টর, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এসে এই জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫শ’ ৪৭ হেক্টর এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে এই জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৩ হেক্টর। গত দুই যুগে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ প্রতিবছর খুলনায় চাষযোগ্য জমি কমছে প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমি। কৃষি জমি কমে যাওয়ার কারন হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এর জন্য দায়ি।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ জানান, জনসংখ্যা বাড়ছে। গ্রাম অঞ্চলে অপরিকল্পিত নতুন নতুন বাড়িঘর এবং শহর অঞ্চলে পুকুর- ডোবা-খাল ভরাট করে আবাসন, শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার কারণে খুব দ্রুত কৃষিজমি কমে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, বর্তমানে আবাদযোগ্য জমিতে ধান, তরমুজ, তিল, সরিষাসহ বেশ কিছু খাদ্যশস্য আবাদ হয়ে আসছে। এক জমিকে ২ ফসলি থেকে ৩ ফসলি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তা’ অসীম পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব নয়। সে কারণে কৃষিজমি কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ