ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে শুভঙ্করের ফাঁকি

*  দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে : বিএনপি
*  ছাত্র-ছাত্রী ও জনগণের দাবির প্রতিফলন হয়নি : জামায়াত
*  চালক, মালিকের জেল জরিমানাতে সমাধান নয় : ‘নিরাপদ সড়ক চাই’
*  বাস মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থই রক্ষা হবে : এডভোকেট মনজিল মোরসেদ
*  এখন আর দৃষ্টান্তমূলক সাজা বলা চলে না : ড. শামসুল হক
*  সড়ক আইনে যাত্রীস্বার্থ রক্ষা হয়নি : যাত্রী কল্যাণ সমিতি
স্টাফ রিপোর্টার : মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮’-এর খসড়ায় যাত্রী নয়, বাস মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। এটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের আগেই যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গত সোমবার সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএসে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর রাজধানীতে টানা কয়েক দিন বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এতে একপর্যায়ে একাত্মতা জানায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। সড়ক দূর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তিরসহ শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিল। এক পর্যায়ে সরকার সকল দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় শিক্ষার্থীদের সেই দাবি অনুপস্থিত রয়েছে।
বিএনপি : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ আইন গণপরিবহণে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আতঙ্কজনক, উদ্বেগজনক ও ভয়ংকর ইঙ্গিতবাহী ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সমানে ঢিল ছোড়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ অফিসকে লক্ষ্য করে তারা পাথর ছুড়ে মেরেছে এবং জানালা-দরজার কাচ ভেঙে একাকার করেছে।
জামায়াতে ইসলামী: নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর যে খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের ও জনগণের দাবির প্রতিফলন না ঘটায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ২জন সহপাঠি নির্মমভাবে গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে নিহত হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এ আন্দোলন এতই জনসমর্থন লাভ করে যে, ঢাকার বাইরেও তা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনে শরিক হয়। এ আন্দোলন প্রায় ৮দিন চলে।
গতকাল দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার শুরুতে এ আন্দোলনে বাধা না দিলেও শেষের দুই/তিন দিন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চরম দমন নীতি চালায়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ একযোগে বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিশেষ করে গত ৫ ও ৬ আগস্ট সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটুয়াবাহিনী নিরীহ ও নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় তাদের অভিভাবক ও দেশবাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। তিনি সরকারের এহেন দমন-নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর আক্রমণকারী দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি করেন।
টিআইবি: প্রস্তাবিত আইনে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত পাশ কাটিয়ে কার্যত বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে প্রাণহানির জন্য প্রযোজ্য সাজা কমানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৮৫ সালে দণ্ডবিধিতে যে সংশোধনীর মাধ্যমে বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত যান চালনায় সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরে কমিয়ে আনা হয়, হাইকোর্ট ২০১৪ সালে তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর বহাল থাকার কথা। অথচ গণমাধ্যম প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইনে তা ৫ বছর করায় কার্যত সাজা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আন্দোলনকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইলিয়াস কাঞ্চন: ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা মনে করি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালক, মালিকের জেল জরিমানাতে সমাধান নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানার পরে তা লাঘবে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, ত্রুটি সংশোধন ও চালককে দক্ষ করে গড়ে তোলা। আর এর জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা ও বাজেটের। তিনি আরো বলেন, এ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলাম ১০ বছর। হাইকোর্টের নির্দেশনা ছিল ৭ বছর। কিন্তু করা হয়েছে ৫ বছর। সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা হলেও সর্বনিম্ন শাস্তির কথা বলা হয়নি। আর এতেই শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। এটাও পরিস্কার করতে হবে। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের জন্য যে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হবে সেখানে সরকার, চালক ও মালিকের প্রতিনিধি থাকলেই চলবে না। সেখানে থাকতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের প্রতিনিধিও।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি: মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহণ আইনে যাত্রীর স্বার্থ রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন। এতে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কিন্তু তাতে সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ আইন দিয়ে চালকদের অমানবিক ও বেপরোয়া মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি।
এডভোকেট মনজিল মোরসেদ : আইনটি নিয়ে আদালতে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন যেভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাতে আদালত ও জনসাধারণের দাবির প্রতিফলন ঘটেনি। এটি যাত্রীদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা এখন দেখার বিষয়। আদালত সাজার মেয়াদ ৭ বছরের বেশি নির্ধারণ করার পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, যা রোববার আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দিয়ে এসেছিলাম। শিক্ষার্থী, জনগণ ও আদালতের চাওয়া ছিল আইনে সাজা আরও কঠোর হবে। যাতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। এটি কার্যকর হলে মূলত বাস মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থই রক্ষা হবে। আমাদের আহ্বান, আইন চূড়ান্ত করার আগে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে এমপিরা যেন নিরাপদ সড়কের কথা বিবেচনা করে আইনের খসড়া পুনর্বিবেচনা করেন।
ড. শামসুল হক : পরিবহন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, সবার প্রত্যাশা ছিল এতে দৃষ্টান্তমূলক সাজার কথা থাকবে। কিন্তু দেখা গেল দুর্ঘটনার সাজা ৫ বছর করা হয়েছে। অথচ উন্নত বিশ্বে এ ধরনের অপরাধে কোথাও ১০ বছর আবার কোথাও ১৪ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রয়েছে। সাজার পরিমাণ কমাতে কমাতে এমন পর্যায়ে এসেছে যে এটাকে এখন আর দৃষ্টান্তমূলক সাজা বলা চলে না। এতে বাস মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। এতে নিরাপদ সড়ক ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আমার মনে হয় না। এটি চালকসর্বস্ব আইনে পরিণত হয়েছে।
আইনে যা আছে: সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গত সোমবার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইন অনুযায়ী, বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায় মামলা দায়ের হবে। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। তবে গাড়ি চালানোর কারণে কারো নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে হত্যা বলে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হবে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বেপরোয়া ও অবহেলা করে গাড়ি চালানোয় কেউ গুরুতর আহত বা কারো মৃত্যু হলো সে জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সাজা হবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যদি তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় তাহলে দণ্ডবিধি ৩০২ এবং ক্ষেত্রমতে ৩০৪ এই আইনে প্রযোজ্য হবে। তার মানে, কোনো একটা দুর্ঘটনা হলো। কিন্তু দেখা গেল, তা শুধু সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না, এখানে চালক ইচ্ছে করলে দুর্ঘটনা এড়াতে পারত এবং তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তখন দণ্ডবিধির ৩০২ অনুযায়ী বিচার হবে।
সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, তদন্তে দুর্ঘটনা যদি উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে প্রমাণিত হলে তা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড) যাবে। আর চালকের কারণে প্রাণহানি হয়ে থাকলে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী সাজা দেয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তাই ঠিক করবেন- অপরাধ কোন ধারায় যাবে। আইনের নানা দিক তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, চালকদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাস হতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবেন না। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য বয়স হতে হবে ১৮ বছর। পেশাদার হলে বয়স হতে হবে ২১ বছর।
প্রস্তাবিত আইনে চালকের ভুলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে এসব পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট এভাবে শূন্য হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি আরও জানান, নতুন আইনে যানবাহনের চালক, হেলপারসহ পরিবহণসংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। এটি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনে নেই। শ্রম আইন ২০০৬-এর সঙ্গে মিল করে কর্মঘণ্টা সরকার ঠিক করবে।
আইনের নতুন ধারায় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা, সীমানা নির্ধারণ, মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ, গতিসীমা, শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেটা পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে। সরকার, চালক সমিতি, মালিক সমিতি মিলে এই বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, সিটবেল্ট বাঁধতে হবে, নারীদের আসনে অন্য কেউ বসতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ সংশোধন, পরিমার্জন ও সংশোধন করে ২০১৩ সালে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ