ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে ৬ শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন করে ছাত্রলীগ

গত সোমবার শাহবাগে বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে আটক শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে ৬ শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন করার পর থানায় সোপর্দ করা হয় তিন শিক্ষার্থীকে। গত সোমবার শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে আটক আরও দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অতপর দিনভর আন্দোলনের পর আটককৃত সেই ৩ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার ঢাবি প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। এরপরই তারা প্রক্টর অফিস থেকে মিছিল করতে করতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলে গত সোমবার দিবাগত রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেস্ট রুমে ৬ শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধর করে ছাত্রলীগ। পরে ভোরে প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে তিন শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চার শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাবি প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। ওই চার শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান সুফি, হল শখার তিন সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাইম, আশিক আল ফাহাত ও প্রবাল রৌশনী, দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ নির্জন ও মশিউর রহমান, সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক শামিম হোসেইন ও মাহমুদুল হক আরিফের বিরুদ্ধে। পরে মারধরের শিকার ৬ শিক্ষার্থী হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জোবায়দুল হক রনি, গণিত বিভাগের তারিকুল, প্রাণ রসায়ন বিভাগের মোজাম্মেল ও ওমর ফারুক। এর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মশিউর রহমান সাদিক, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সাদ্দাম হোসেন, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের ওমর ফারুক, বায়োক্যামেস্টি মোলিকুলার বায়োলজি বিভাগের জাহিদ ও ফিজিক্সের জোবাইদুল হক রনিকে মারধর করা হয়। আর পুলিশে দেয়া হয় তারিকুল, সাদ্দাম ও রনিকে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘ ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা তদন্ত পরবর্তী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাদের থানায় দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ অনুসন্ধান করবে যদি গুজবের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা না থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দীক সিসিম বলেন, ওইভাবে মারা হয়নি কাউকে, একটু চার্জ করা হয়েছে। ফোনে তাদের গুজবের কিছু ছবি ও তথ্য ছিল। এর আগে, গত সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দিলে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত সেই ৩ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ: ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে থানায় সোপর্দ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৬ আগস্ট) ফজলুল হক হলের এ ৩ শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর ছাত্রলীগ থানায় সোপর্দ করেছিল। মঙ্গলবার তাদের মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, তিন শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী শিক্ষার্থীদের দাবির কথা শুনে ১০ মিনিট সময় নেন। এরপর ওই ৩ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি শাহবাগ থানার সঙ্গে কথা বলেন। পরে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী তাদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ওই ৩ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান আটক ছাত্রদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি দুঃখিত, আটককৃতদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
গতকাল থানায় সোপর্দ করা এ ৩ শিক্ষার্থীসহ মোট ৬ জনকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ