ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার দাবি মেনে নেয়া হয়েছে বললেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না -ডা. শফিকুর রহমান

নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট মন্ত্রি পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর যে খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের ও জনগণের দাবির প্রতিফলন না ঘটায় তীব্্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ২জন সহপাঠি নির্মমভাবে গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে নিহত হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এ আন্দোলন এতই জনসমর্থন লাভ করে যে, ঢাকার বাইরেও তা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনে শরিক হয়। এ আন্দোলন প্রায় ৭দিন চলে।
গতকাল মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার শুরুতে এ আন্দোলনে বাধা না দিলেও শেষের দুই/তিন দিন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চরম দমন নীতি চালায়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ একযোগে বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিশেষ করে গত ৫ ও ৬ আগস্ট সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনী নিরীহ ও নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় তাদের অভিভাবক ও দেশবাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। তিনি সরকারের এহেন দমন-নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর আক্রমণকারী দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি করছি।
তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ত ঝরানো আন্দোলনের ফলে দেশবাসী আশা করেছিল সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করবেন। কিন্তু মন্ত্রি পরিষদে আইনের যে খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাতে চালকের সাজা মাত্র দু’বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। এতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও মানা হয়নি। উচ্চ-আদালতের নির্দেশনা অনুসারে শাস্তির বিধান রাখা উচিত।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভোটার বিহীন সরকার। জনগণের নিকট এই সরকারের কোন জবাবদিহিতা নেই। ফলে একদিকে সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে বললেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের ও জনগণের দাবি মেনে নিয়ে জনপ্রত্যাশার আলোকে যথাযথ আইন প্রণয়নের জন্য আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ