ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুলিশ আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ একাকার -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। তিনি বলেন, এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ আইনের ফলে গণপরিবহণে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে গুরুতর আহত করলে বা প্রাণহানি ঘটালে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮’ এর খসড়ায় সোমবার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী দাবি করেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অবিরাম হামলা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থায় হামলা করেছে তা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে।
তিনি বলেন, সোমবার ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেনি। সাংবাদিকদের রসিকতা করে বলেছেন কারা হামলা করেছে তালিকা দেন। আমি বিচার করবো। ওবায়দুল কাদের সাহেব সাংবাদিক ছিলেন বলেই আমি জানতাম, কিন্তু তিনি এখন গণমাধ্যমে চোখ রাখা ভুলে গেছেন বলেই এ ধরনের অন্ধ, অজ্ঞ ও অর্বাচীনের মতো কথা বলছেন। মানুষ তার বক্তব্যকে কমিক এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে ধরে। ওবায়দুল কাদের সাহেব ছাত্রলীগের রামদা, পিস্তল, লোহার রড ও লাঠি দেখতে পান না। কিছু চতুষ্পদ প্রাণী আছে কালারব্লাইন্ড, আর আওয়ামী সরকার হচ্ছে ক্ষমতাব্লাইন্ড।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলমের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, এ সরকারের হাতে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, নারী কিংবা শিশু কেউ নিরাপদ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বলেছেন “নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে । তিনি বলেন, আমি এখন শঙ্কিত এসব স্কুল ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রচ্ছন্ন হুমকি। দেশবাসী শেখ হাসিনার সোনার ছেলেদের সশস্ত্র আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে তার নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে। রামপুরায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় সরকারি দলের হামলাকারীদের হিং¯্রতা তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গত পরশুওতো ধানমন্ডিতে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,  আর কোন বাবা মায়ের কোল খালি হোক আমি চাইনা”। তার এ বক্তব্যও মানুষের মনে আতঙ্ক ধরিয়েছে। প্রতিনিয়ত মায়ের কোল খালি হচ্ছে গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে। অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্যই এ সর্বনাশা সহিংস নীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতারণার কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। এখন কি হচ্ছে, কোটা আন্দোলনকারীদের লাশ মিলছে নদীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুম করা হচ্ছে। আবার গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন। ছাত্রলীগকে দিয়ে সশস্ত্র আক্রমণ করিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে, পঙ্গু করা হচ্ছে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের।
রিজভী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে  প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আতঙ্কজনক, উদ্বেগজনক ও ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতবাহী ছিল। তিনি বলেছেন, “সমানে ঢিল ছোঁড়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ অফিসকে লক্ষ্য করে তারা পাথর ছুঁড়ে মেরেছে এবং জানালা-দরজার কাঁচ ভেঙে একাকার করেছে। তিনি বলেন, ‘একটা ঘটনা দেখে আপনারা বুঝতে পারেন। বিডিআর গেটে হামলা, সেখানে গুলীবর্ষণ হচ্ছে, এই অস্ত্রটা কোথা- থেকে আসল? কারা গুলী করল?” পুলিশ যে অস্ত্রধারীদের পাহারা দিয়ে ছাত্রদের দিকে গুলী করাচ্ছে, লাঠি পেটা করাচ্ছে তারা কি বিরোধী দলের লোক হতে পারে? এটা কি পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। পুলিশ আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ একাকার। এটা দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে উঠেছে, আর মিথ্যাচার করে তাদের রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। মনে রাখবেন দেশ-বিদেশের মানুষ ও গণমাধ্যমের চোখ ঝাপসা হয়ে যায়নি। অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের নাম ধরে ধরে ছবি প্রকাশ হয়েছে। সুতরাং ছাত্রলীগের হাতে কিভাবে এ অস্ত্র আসল, কিভাবে তারা গুলী করলো, প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই হামলাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের শাস্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশের কিশোর তরুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্যায়ের মোকাবিলা করছে। সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২শ বছরের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন কখনই ব্যর্থ হয়নি। আন্দোলনরত এ স্কুল কলেজ পড়–য়াদের আন্দোলনও ব্যর্থ হবে না।
বিএনপি নেতাদের টাকা লেনদেনের খবর মিথ্যা ও বানোয়াট
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকা লেনদেনের যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে সেটিকে অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী  কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আমার নামে ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেন-দেন হয়েছে মর্মে ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করা হয়েছে। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক। ক্ষমতাসীনদের মদদে এধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। চরিত্রহনন, সামাজিকভাবে হেয় ও জনমনে ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এধরনের কুৎসা রটানো হচ্ছে। সংঘটিত এ অপপ্রচার গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা থেকে জনদৃষ্টি সরানোর জন্য নোংরা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং প্রিয় দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ