ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকরা দলকানা নয় হামলা করে নিরাপদে থাকা যাবে না

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয় সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নিউজ কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বেছে বেছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যেখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সেখানে তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাহলে আপনাদের কাজ কী? সাংবাদিকরা দলকানা নয়। হামলা করে নিরাপদে থাকা যাবে না। সাংবাদিকরা রাস্তায় নামলে সামাল দিতে পারবেন না। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনলে আমরা আমাদের পথ বেছে নেবো। এদিকে রাজধানীর কাওরানবাজারের সার্ক ফোয়ারা চত্বরে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে আরেকটি মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। তারাও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ডিইউজে- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বিএফইউজের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর যারা হামলা করে, তারা গুজবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের পেশাদারিত্বের জায়গা যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা সাংবাদিকদের শত্রু। দুঃখজনক হলেও সত্য, হামলার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ধরতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এই কোমলমতি বাচ্চারা রাস্তায় নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। তারা দেখিয়েছে কীভাবে চলতে পারে দেশ। কিন্তু এই আন্দোলনে ঢুকে পড়া এই তৃতীয় পক্ষ কারা? এই সরকার গণমাধ্যমবান্ধব, তাহলে সেখানে এরকম ঘটনা কেন ঘটছে?’
মোল্লা জালাল বলেন, আমরা ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী ১১ আগস্ট বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। আমার ভাইকে রাস্তায় পেটানো হবে আর আপনারা নিরাপদে থাকবেন, তা হবে না। আমি সর্বস্তরের সাংবাদিকদের এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাই।
শাবান মাহমুদ বলেন, প্রতিটি বিভাগে, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি থানায় আন্দোলন দেখতে চাই। গুজব রটনাকারীরা আমাদের বিভ্রান্ত করছে। গুজবে কান দেবেন না। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ কঠোর আন্দোলন করবো আমরা।
আবু জাফর সূর্য বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দিতে। তাদের চিহ্নিত করা আমাদের কাজ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার বাহিনীর কাজ কী?
সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, বার বার সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এরপর সাংবাদিকরাও প্রয়োজনে লাঠি হাতে প্রতিহত করবে। আমি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।
সার্ক ফোয়ারার সামনে মানববন্ধন
এদিকে রাজধানীর কাওরানবাজারের সার্ক ফোয়ারা চত্বরে আরেকটি মানববন্ধনেরে আয়োজন করেন সাংবাদিকরা। নিরাপদ সড়কের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তারা। একইসাথে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরুর জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। তা না-হলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এ মানববন্ধনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিক উজ্জ্বল জিসান বলেন, নিপীড়নের মাত্রা আমি নিজে মার খাওয়ায় বুঝা যায় কতটা ভয়াবহ। হামলাকারীরা গালি দিয়ে বলে, এই মিডিয়ার দরকার নাই। স্কুল-কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থীরাও কেউ এগিয়ে আসেনি। তারাও চায় আমরা মার খাই। হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন এক ধরনের মেন্টাল ট্রমার মধ্যে থাকে। পরিবার থেকেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
বিএফইউজে’র কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে হামলাকারীদের তালিকা দিতে। এতগুলো পত্রিকায় ছবি প্রকাশের পরও যদি তাদের না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা বুঝে নেবো সরকার মুক্ত গণমাধ্যমের বিপক্ষে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে হামলাকারী দলের সংবাদ বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো আমরা।
বাংলা ভিশনের সাংবাদিক দীপন দেওয়ান বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু না হলে, এরপর আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
সাংবাদিকরা বলেন, প্রতি মূহুর্তে হাজারো চাপ এবং বিপদ উপেক্ষা করে সত্য সংবাদ সংগ্রহ ও তা প্রকাশের চেষ্টা করছেন তারা। এ অবস্থায় সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং হামলা করার মাধ্যমে সত্য নয়, গুজবের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। সব ধরনের রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তারা। এর মাধ্যমে দেশ ও জনগনের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা ক্ষুণœ হচ্ছে বলেও জানান তারা।
এ ছাড়া মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইন ‘আই সে নো’ শুরুর ঘোষণাও মানবন্ধন থেকে দেওয়া হয়। সকল সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধীদের এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘# আই সে নো’ লিখে একাত্মতা প্রকাশের আহবান জানান তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ