ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে কুরবানির ২০ অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা বাকী ৭টির ॥ খাস আদায়ের পায়ঁতারা

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : কুরবানি ঈদের বাকি সপ্তাহ দুয়েক। এই ঈদের মূল চাহিদা কুরবানির পশু। এ উপলক্ষে প্রতিবছরই রাজধানীতে কুরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের আয়োজন করে থাকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। আয়োজিত হাটগুলোতে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই আসতে শুরু করবে পশু। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরু, ছাগল, মহিষ, উট এসে ভিড় জমাবে রাজধানীর হাটগুলোতে। কিন্তু যে হাটে তাদের ওঠানো হবে সেই হাটের বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতার জালে বন্দী। ঝুলে আছে পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তির মারপ্যাঁচে। পাঁয়তারা করা হচ্ছে,খাস আদায়ের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিসহ গোষ্ঠীর লাভবানের। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের একটি হাটে পশু ওঠানোর অবকাঠামো তৈরীর কাজ শুরু করে দেয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ওই হাটটি নিয়ে কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দূরে থাক, প্রাথমিক সিদ্ধান্তই হয়নি।
জানা গেছে,ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি স্থানে পশুর হাট বসানো হবে এবার। এরমধ্যে গাবতলী স্থায়ী হাট বাদে বাকি সবগুলো ঈদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে বসানো হয়। এসব হাটের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে মাসখানেক আগেই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবার সেই নিয়মে দরপত্র আহ্বান করা হলেও সম্পন্ন হয়নি সবগুলো হাটের ইজারা।
এবছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাবতলী স্থায়ী হাটসহ ৮টি স্থানে হাট বসবে। এরমধ্যে রয়েছে- উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, মিরপুর ডিওএইচ এর উত্তর পাশের সেতু প্রোপার্টি সংলগ্ন খালি জায়গায়, মিরপুর সেকশন-২ (ইস্টার্ন হাউজিং) এর খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা, আশিয়ান সিটি হাউজিং, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, ভাটারা (সাঈদ নগর) হাট এবং গাবতলী স্থায়ী পশুরহাট। 
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। এসব হাটের মধ্যে রয়েছে- মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জয়গা, ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেশনের আশপাশের খালি জায়গা, ঝিগাতলার হাজারীবাগ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা ইউ অ্যান্ড ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর খালি জায়গা সংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা।
দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে ৭টির ইজারা এখনো সম্পন্ন হয়নি। অর্থাৎ, কাক্সিক্ষত মূল্য না পাওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অথচ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২২ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।
উত্তরের উত্তরখান ও দক্ষিণের ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেশনের আশপাশের খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা ইউ অ্যান্ড ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়নি।
ডিএনসিসির ৭টি পশুর হাটের সরকারি ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭ টাকা। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি অস্থায়ী হাটের ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ টাকা।
হাটের ইজারা সম্পর্কে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের ৮টি হাটের মধ্যে ৭টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। শুধু উত্তরখানের হাটটি এখনো ইজারা হয়নি। সেটার জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের ১৩টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে ৭টি ইজারা হয়েছে, বাকি ৬টির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তারা যেভাবে বলবে সেভাবেই বাকি হাটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দক্ষিণ সিটির ৬টি হাট
দক্ষিণের ৭টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হলেও বাকি ৬টির জন্য সিদ্ধান্ত চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোারেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় ১৩টি পশুর হাটের মধ্যে ৭টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫০ টাকায়। এই সাতটি হাটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০ জুলাই ৬টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয় ২ কোটি ৭০ লাখ ৯৭ হাজার ১৫০ টাকায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৯ জুলাই একটিতেও কোন দরপত্র পাওয়া যায়নি, সবশেষ ৩১ জুলাই মেরাদিয়া হাটের ইজারা হয় মাত্র ৬৮ লাখ ৩০ হাজার টাকায়।
এদিকে বাকি ৬ টি হাটে কোন দরপত্র জমা না পড়ায় সিদ্ধান্ত চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ৭টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, সবশেষ গত ৩১ জুলাই মেরাদিয়া হাটটির ইজারা হয়েছে। কিন্তু বকি ৬টি হাটে তিনবার দরপত্র আহব্বান করলে কোন সিডিউল জমা পড়েনি। তাই সিদ্ধান্ত চেয়ে মন্ত্রনালয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরি এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো বলে আশা করছি।
 যে ৬টি হাটে কোন দরপত্র জমা পড়েনি এগুলো হলো: ব্রাদার্স ইউনিয়ন পশুর হাট, ধুপখোলা, ধনিয়া, আরমানিটোলা, কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশের খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ। এই হাট ছয়টিতে বরাবারের মত স্থানীয় লোকদের দিয়ে খাস আদায় করা হতে পারে বলে জানান ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ। তবে অনেকের ধারণা সিন্ডিকেটের কারণে এই হাটগুলোতে কোন দরপত্র জমা পড়েনি। এতে ডিএসসিসি মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে একাধিক ইজারাদার অভিযোগ করে বলেন, হাট ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩টি দরপত্র জমা পড়তে হয়। সাধারণ ইজারাদাররা দরপত্রই কিনতে পারেননি। দু-একজন কিনলেও ভয়ে জমা দিতে পারেননি। ফলে প্রভাবশালীচক্র পছন্দমতো দর দিয়ে হাটগুলো ইজারা নিয়েছে। আবার বাকি ৬টি হাটের ক্ষেত্রে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি। সেগুলো অতীতের মতো ঈদের আগ মুহূর্তে দলীয় লোকদের দিয়ে পরিচালনা করা হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ