ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলে দেশও সচল থাকবে -চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো : সাগর, পাহাড়, নদী ও সমতল ভূমি পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই চট্টগ্রাম। বঙ্গোপসাগর আর পাহাড়-সমতলের বুক চিড়ে বয়ে চলা নদী কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর। এর কল্যাণে চট্টগ্রাম একটি সমৃদ্ধ জনপদ। তাই জীবন-জীবিকার তাগিদে বিশ্বের নানান প্রান্তের মানুষ ছুটে আসে এই নগরীতে। এই সব মানুষের কায়িক পরিশ্রমে বন্দরের সক্ষমতার উত্তোরণ ঘটিয়েছে। তাই শ্রমিকদের প্রতি অবহেলা নয়, সম্মান চাই। বন্দর শ্রমিক কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে মেনে নেয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
 তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগ আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ(সিবিএ)’র সভাপতি মোহাম্মদ মীর নওশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক আলহাজ্ব সফর আলী, কাউন্সিলর  মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, মো. কামাল, নুরুল আবছার, সরোয়ার মিয়া, হুমায়ুন কবির, মো. আবু বক্কর চৌধুরী বাপ্পী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে শ্রমিক কর্মচারীদের ভূমিকাই মূখ্য। শ্রমিক কর্মচারীদের দাবিসমূহ শতভাগ যৌক্তিক। বিশাল এই বন্দরে পর্যাপ্ত পরিমান টয়লেট, গোসল খানাসহ নিত্য ব্যবহার্য্য সুবিধাদি না থাকা অনাকাংখিত। কাজের পরিবেশ সৃষ্টি জন্য অবশ্যই জনগুরুত্বপূর্ণ সুবিধাদি থাকা অপরিহার্য। এতে বন্দরের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে। তিনি শ্রমিকদের ঐক্য প্রত্যাশা করে বলেন, ন্যায়সঙ্গত দাবি বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ঐক্য প্রয়োজন। মামলা, মোকদ্দমা বা আন্দোলন-সংগ্রাম মূখ্য বিষয় নয়। শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ থাকলে সকল অধিকার আদায় করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বাজেটের দুই তৃতীয়াংশ অর্থ এ বন্দর থেকে জোগান হয়ে থাকে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলে দেশও সচল থাকবে। মেয়র একটি স্বার্থন্বেষী মহল কতিপয় শ্রমিক-কর্মচারীকে পূজিঁ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছেন বলে  উল্লেখ করে বলেন একটি স্বার্থন্বেষী মহল চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ও সুখ্যাতিকে এবং দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের দেশপ্রেম বিবর্জিত কাজে যারা লিপ্ত তাদের বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের সজাগ ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন সিটি মেয়র। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, নেতৃত্বকে ব্যক্তির স্বার্থে নয়, শ্রমিক শ্রণি, দেশ ও জাতির স্বার্থে নিয়োজিত রাখতে হবে। মেয়র বলেন, বর্তমান সরকার একটি শ্রমিকবান্ধব সরকার। শ্রমিকদের উন্নয়নে এ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মরত সেবক আবাসন প্রকল্প (সেবক নিবাস) এর কথা তুলে ধরেন। মেয়র চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের যৌক্তিক দাবীসমূহ পূরণের সর্বাতœক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে শ্রমিকদের আশ্বস্থ করেন। বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের ১৪ দফা দাবিসমূহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস মালিকদের অধীনে কর্মরত উউন্সম্যানদেরকে বন্দরের শ্রম শাখায় অন্তর্ভূক্তি, কর্মক্ষেত্রে আঘাত প্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা হিসাবে চিকিৎসাকালীন সময়ের দৈনিক জীবিকাভাতা প্রদান, কর্মরত মেহনতি শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ‘গ্রুপ ইন্সুরেন্স’ বাস্তবায়ন, ‘টনিজ ভিত্তিতে মজুরি প্রদান, বর্ষাকালীন সময়ে প্রতি বৎসর রেইনকোট প্রদান, বন্দরের কন্টেইনার বার্থ, কার্গো বার্থ, বর্হিঃনোঙ্গর এবং সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল বার্থসহ সর্বক্ষেত্রে বন্দরের তালিকাভূক্ত শ্রমিক কর্মচারী বাধ্যতামূলক নিয়োগ করা, বর্তমানে কর্মরত ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ‘থ্রি শিফট’ চালু জেনারেল কার্গো বার্থে ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিক নিয়োগ, বন্দর পরিচয়পত্র প্রদান, জরুরিভাবে পর্যাপ্ত পানি ও টয়লেট সুবিধা প্রদান, শ্রমিক কর্মচারীদের মেয়ের বিবাহ বাবদ প্রদত্ত অনুদান, সিবিএ’র জন্য বন্দরের ‘জায়গায় ও অর্থায়নে’ আসবাবপত্রসহ অফিস বরাদ্দ প্রদান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ