ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বৃক্ষমেলায় ১৬ দিনে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার চারা বিক্রি

খুলনা অফিস : শেষ হলো খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। খুলনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত বৃক্ষমেলায় ১৬ দিনে ৩৭ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ বিক্রি হয়েছে। যা গেল বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তবে, প্রথমদিকে চারা বিক্রি আশানুরূপ না হলেও মাঝামাঝি সময়ে এসে জমতে শুরু করে মেলা। গেল বছর ২২ দিনে ২৫ লক্ষাধিক টাকার গাছের চারা বিক্রি হলেও এ বছর ১৬ দিনে বিক্রি হয়েছে ৩৭ লক্ষাধিক টাকার গাছ।
মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেড এম মঞ্জুরুল করিমের দেয়া তথ্য মতে, গত ১৬ দিনে ৫৬ হাজার ৭শ’ ৫৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। যার বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২ টাকা। গত রবিবার মেলায় ৩ হাজার ১৯১টি গাছের চারা বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪৭৮টি বনজ, ৮৪৮টি ফলজ, ৩৭৮টি ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী ৬৪৪টি এবং ৮৪৩টি ফুল ও অন্যান্য গাছের চারা। যার বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯শ’ টাকা। ২০১৭ সালে ২২ দিনে ২৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৯ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয় ২১ জুলাই। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেলার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় মহানগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৪ আগস্ট মেলা শেষ। সম্পন্ন করা হয়েছে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও। সমাপনী দিনেই জেলা প্রশাসন মেলার সময় তিন দিন বৃদ্ধি করে। এ হিসেবে বর্ধিত সময় শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে মেলার সময় বাড়ানো হয়। সে সময় বর্ধিত সময় শেষে মেলায় গাছ বিক্রি করা হয় ৩৩ হাজার ৯৮টি। যার আর্থিক মূল্য ২৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৯ টাকা। এ দিকে মেলার বর্ধিত সময় রোববার পর্যন্ত গাছ বিক্রি করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৫৫টি। যার বিক্রয়মূল্য ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২ টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এ বছর ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৬৫৭টি গাছ বেশি বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সোমবার ও মঙ্গলবার গাছ বিক্রি আরও বেশি হবে। গত বছরের থেকে বেশি বিক্রিকৃত গাছের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। গত বছরের চেয়ে বিক্রয়কৃত টাকার পরিমাণও প্রায় দেড়গুণ। মেলায় ফলজ, বনজ, ভেষজ, শোভাবর্ধনকারী গাছসহ নানা ধরনের বৃক্ষ বিক্রি করা হচ্ছে।
একাধিক স্টল মালিক জানান, প্রথমদিকে গাছ বিক্রি কম হলেও মাঝামাঝি সময়ে বেচাকেনা জমতে শুরু করে। এরপর বেচাকেনা দিন দিন বাড়তে থাকে। গেল ৪ আগস্ট খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হলেও স্টল মালিকদের অনুরোধে মেলার সময়সীমা তিন দিন বর্ধিত করা হয়।
বিভিন্ন স্টল মালিকেরা জানান, সমাপনী অনুষ্ঠানের পর থেকে গাছের চারা বিক্রি অনেক কমে যায়। শেষদিন গতকাল সোমবারও বিক্রি অনেক কম হয়েছে। তবে গত রোববার ১ লাখ ৮০ হাজার ৯শ’ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে।
সোনালী নার্সারীর মালিক সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমদিকে বেচাকেনা অনেক কম হলেও মাঝামাঝি সময়ে বিক্রি বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর চারা বেশি বিক্রি হয়েছে।
মালিহা নার্সারীর মালিক আব্দুল হালিম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর গাছের চারা বেশি বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেলার সময় তিন দিন বৃদ্ধি করায় গাছের চারা আরও বেশি বিক্রি হয়েছে। মেলার মেয়াদ বৃদ্ধি করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নয়নতারা নার্সারির মালিক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, মেলায় বর্ধিত সময়ে ক্রেতাদের আগমন বেশি হচ্ছে। গাছও বিক্রি মোটামুটি ভালই হচ্ছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. বশির আল মামুন বলেন, জেলা প্রশাসনের কারণে মেলার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর কোনো সুযোগ নেই। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর গাছ বিক্রির সংখ্যা অনেক বেশি। টাকার পরিমাণও বেশি। এই টাকা থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ