ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের মত একটি লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার জন্য স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন,পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশে ওষুধের ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ষড়যন্ত্র  ছাড়া কিছুই নয়।  দ্রুত কারখানা খুলে দিতে হবে।
 লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আজম বলেন, একটি লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানা স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর। আমাদের ধারণা বিদেশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই চক্রান্তের সাথে সরাসরি জড়িত।এজন্য প্রতিষ্ঠানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাকিস্তানি নাগরিক ইরাম শাকী জড়িত।এ পাকিস্তানি নাগরিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সকল তৎপরতা চালিয়েছেন।বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় কর্মরত ইরাম শাকী গত দুই বছর ধরে কিছু বাংলাদেশিকে সাথে নিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছেন।
গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন লাভজনক প্রতিষ্ঠান দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানের নীট মুনাফা ৩৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছে এক হাজার কোটি টাকা।যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন ১৯৭৪ সাল থেকে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের কারখানায় উৎপাদন চালিয়ে আসছিল । সেখানে উৎপাদিত ভ্যাকসিন ইউনিসেফের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে।গত ২৬ জুলাই বিকালে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতিতে অন্তরায় সৃষ্ঠি ।জিএসকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে গত ২৬ জুলাই গ্ল-াক্সোস্মিথক্লাইনের সাপ্লাই চেইন প্রধান রাজু কৃষ্ণ স্বামীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়,এটি সত্যের অপলাপ মাত্র। শুধু ২০১৭ সালে এই প্রতিষ্ঠান ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ চার হাজার টাকা নীট মুনাফা করেছে। প্রতি ১০ টাকার শেয়ারে ডিভিডেন্ড দিয়েছে ৫৫ টাকা। রাজস্ব ও ট্যাক্স দিয়েছে ১৯৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা।এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনক কিভাবে হয়।
সাধারণ সম্পাদক মো. আজম বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার তৎপরতা আড়াল করতে গত দুই বছরে কারখানা আধুনিকায়ন ও কমপ্লয়েন্সের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। যাতে করে মুনাফা কম দেখানো যায়। এরপর তারা ব্যবসা রিভিউ করার নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার অধিকাংশ সদস্য বিদেশি।এভাবে করে গ্ল¬াক্সোস্মিথক্লাইন বন্ধ করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যায়।
 সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ষড়যন্ত্র কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারকরা আগে থেকে কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কমিয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকা উৎপাদিত অনেক ওষুধ গুদামে রেখে দিয়ে বাজারজাত করা হয়নি।
সম্মেলনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সফর আলী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান লাভজনক বলেই গত বছর তারা শ্রমিক-কর্মচারিদের পাঁচ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছিল। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে।  দ্রুত সময়ের মধ্যে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত বদল করে চালু করা না হলে রাজপথে আন্দোলন করা হবে।
গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের আইন বিষয়ক উপদেষ্ঠা অ্যাডভোকেট জানে আলম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কিছু কারণ থাকে। এখানে কোন ধরনের কারণ বিদ্যমান নাই। এছাড়াও কিছু নিয়ম মেনে কারখানা বন্ধ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের আইন মানেনি।
সরকার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হোল্ডার হলেও তারা সরকারকেও কিছু না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি তপন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ইউনিলিভার শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামানসহ গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতারা।
এর আগে  প্রতিষ্ঠানের কয়েক’শ কর্মচারি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বাইরে মানববন্ধন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ