ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরখাস্ত

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সদরের আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওমর ফারুককে অধ্যক্ষের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত রোববার বিকেলে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদ্রাসার অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. তৈয়ব আলী জানান, বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন রামগতির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ পাঁচ জন সদস্য।
এ তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব অনুমতি নিয়ে গত রবিববার মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ ওমর ফারুক ২০১১ সালে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষায় বহিস্কার হওয়া চার জন পরীক্ষার্থীর গোপনে পরীক্ষা নেন। ২০১৬ সালে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষার প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত উত্তরপত্র বোর্ডে জমা না দিয়ে মাদ্রাসার আভ্যন্তরিন পরীক্ষায় তা ব্যবহার করেন। তিনি মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত লিপিবদ্ধ করতেন না, মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবেও তা জমা করতেন না। এ ছাড়া তিনি ব্যাংক হিসাব (একাউন্ট) থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করেন। তিনি মাদ্রাসর শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেন।
তার অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের একটি অংশকে ব্যবহার করে তিনি ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। ২০১৬ সালে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়া গোপনে তিনি আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসা (ওয়াক্ফ) ট্রাস্ট গঠণ করেন এবং তাকেই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টের সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী করে ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করেন। ২০১৫ সালে তিনি মাদ্রাসর এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় মোবাইল ফোনে তাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। অধ্যক্ষ ওমর ফারুক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত করা হয়েছে। সব তদন্তেই ওমর ফারুককে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আহবান করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তদন্ত কমিটিকে তার বক্তব্য জানাননি। সব তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মামলাটি তদন্ত করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ