ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্যাস শেষ হয়ে যাবে ৮-৯ বছরেই: নসরুল হামিদ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী ৮-৯ বছরে দেশের সম্পূর্ণ গ্যাস নিঃশেষ হয়ে যাবে।

বুধবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় বৃহস্পতিবার ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শেল তেল কোম্পানির কাছ থেকে ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রে কেনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্মরণ করতে দিবসটি পালন করে জ্বালানি বিভাগ ও এর সহায়ক সংস্থাগুলো।

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি বের করা, জ্বালানির অর্থনৈতিক ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো, পেট্রোবাংলা আয়োজিত সেমিনার, প্রভৃতি।

নসরুল হামিদ জানান যে একটি বা দু’টি গ্যাসক্ষেত্র ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে এবং অন্যগুলো হ্রাস প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৮-৯ বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত গ্যাসক্ষেত্র পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের নতুন কোনো ক্ষেত্র আবিষ্কার হয়নি। অনেক দেশে প্রাকৃতিকভাবেই এমনটি ঘটে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৩টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। যেগুলো প্রতিদিন ৩,৭০০ মিলিয়ন ঘটফুট চাহিদার বিপরীতে ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। প্রতিদিন ১,০০০ মিলিয়ন ঘটফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রে ১০৮টি কূপ খনন করার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এখন পর্যন্ত, মাত্র আটটি কূপ খননের কাজ বিভিন্ন ঠিকাদারদের দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর ফলাফল খুব ইতিবাচক নয়, কারণ এই কূপগুলোর প্রত্যেকটি প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপন্ন করে যা বেশি কার্যকর নয়।

তিনি বলেন, বাকি ১০০টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা এখন পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে কারণ ঠিকাদাররা ৩০ মিলিয়ন ডলার চাচ্ছে, যা ব্যয়বহুল।

নসরুল হামিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন ধারণা আসছে। ‘সেজন্য আমাদের খুব সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার এখন জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে’, যোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেবে এলএনজি। কিন্তু আমি আশা করি, জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবে না, যা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।’

সূত্র: ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ