ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

খুলনা : গতকাল বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার (এমইউজে) উদ্যোগে সারাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও গণমাধ্যমের উপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু

 

খুলনা অফিস : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন খুলনার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। একইসাথে সংবাদ মাধ্যমের উপর আরোপিত সেন্সরশীপ তুলে নেয়ার দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার (এমইউজে) উদ্যোগে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও গণমাধ্যমের উপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। 

এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান হিমালয়ের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য এহতেশামুল হক শাওন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ দিদারুল আলম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ আলী, এমইউজে খুলনার সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক আজীজী ও রাশিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রানা, সাবেক নির্বাহী সদস্য হারুন অর রশীদ, রূপসা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট কলামিস্ট নজরুল ও বরীন্দ্র গবেষক কবি এম হেফজুর রহমান, দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল হোসেন মনি, দৈনিক অনির্বাণের চীফ ফটো সাংবাদিক ও ব্যবস্থাপক আবুল হাসান শেখ, দৈনিক খুলনাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার এম এ জলিল, সংস্কৃতিকর্মী এস এ মুকুল, জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, মানবাধিকারকর্মী জিএম রাসেল ইসলাম, এইচএম শওকত হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।

প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের নিউজ কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নারকীয় হামলার শিকার হয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ২৫/৩০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছে। আন্দোলনের সঠিক সংবাদ যেন সাংবাদিকরা না দিতে পারে এজন্য পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামায় না। আবার কাউকে ক্ষমতায় বসায় না। তাহলে কেন তাদের ওপর হামলা করা হলো।

তিনি আরো বলেন, সরকার চাইছে যে হামলা, নির্যাতন করে তাদের ফ্যাসিবাদের অমরত্ব লাভ করাতে। সরকারের এ ফ্যাসিবাদ আচরণ সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসী মেনে নেবে না। অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সরকারের সকল নৈরাজ্য দূর করতে সাংবাদিক সমাজ দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে মুক্তির আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শনিবার রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকায় ছাত্র বিক্ষোভের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সরকারদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় ডেইলী স্টারের ফটো সাংবাদিক শায়েল রেজা, সেলিম সাদমান ও প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামকে ঝিগাতলায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় মারধর করে থানায় নিয়ে ৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। একই পত্রিকার আরেক সাংবাদিক সুষ্মিতা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে লাঞ্ছিত হন সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের আরও অন্তত ৪জন সাংবাদিক শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকদের হত্যা-নির্যাতন মামুলি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলনের সময় সংবাদ পরিবেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করে বেসকারি টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষকে তথ্য মন্ত্রণালয় যে পত্র দিয়েছে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপের সমতুল্য। এত দিন অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশীপের কবলে পড়ে এমনিতেই গণমাধ্যমজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ গৃষ্টি হয়েছে। এখন সরাসরি এবং প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকার স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ