ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীন আ’লীগের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু হয়েছে

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোমরে দড়ি দিয়ে রিমান্ডে নেয়া জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, ২২ শিক্ষার্থীকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। এ যেন গোটা ছাত্রসমাজের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নেয়া হচ্ছে। এটি জাতির জন্য শুধু লজ্জার নয়, এ দৃশ্য দেখে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, সরকার কতটা নিষ্ঠুর-নির্মম হতে পারে যে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য আন্দোলনের দাবি দমন করতে তাদের গ্রেফতার করে পায়ে ডা-াবেড়ি ও কোমরে দড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্মমতার পথ বেছে নিতে পারে, এটি তার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তো কোনো অন্যায় করেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এমন ন্যক্কারজনক দৃশ্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। অবিলম্বে তাদের রিমান্ড বাতিল করে মুক্তি দিতে হবে। গত মঙ্গলবারও চলমান ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ বের করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ছাত্রলীগকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তাদের কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ওঠে বসে। সে জন্যই ছাত্রলীগের হুকুমই তামিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগের কারণেই সেখানে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তবে সর্বব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। ন্যায্য দাবির আন্দোলনে তারা বিজয়ী হবেই।
বিএনপির এ নেতা বলেন, চলমান ছাত্র আন্দোলন সরকারি সহিংসতার ছোবলে রক্তাক্ত। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে এখন অবলম্বন করা হয়েছে নির্যাতনের পথ। দেখানো হচ্ছে নানা ধরনের নাটক ও প্রহসন। আন্দোলন শুরু হওয়ার দুদিন পর ওবায়দুল কাদের বললেন, এবার মাঠে নামবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগকে  মাঠে নামানো হলো কী কারণে, তার নমুনা তো সারা দেশবাসী দেখল। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের সশস্ত্র হামলা করতে ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতেই তাদের নামানো হয়েছিল। রক্তাক্ত শরীরে ভয়ার্ত আর্তনাদে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে কোমলমতি শিক্ষার্থী আর সাংবাদিকদের।
‘১/১১ এর কুশীলবরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারছেন না বলেই এখন প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন, গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন।
ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় বিএনপিকে জড়াতে তারা কুৎসিত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। ৬ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যে ছবিটি ৬ বছরের পুরোনো ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি ছবি। ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদলের এক নেতার নাম, আসলে সে ছাত্রদলের নেতা নন এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ছবি। তিনি বলেন, নীরব মানুষের ক্ষোভ যে ছাই চাপা আগুনের মতো ধিকি ধিকি জ্বলছে এবং সেটা যে কোনো সময় কুণ্ডলী পাকিয়ে বিরাট আকার ধারণ করতে পারে সেটির আঁচ পেয়েই বেসামাল কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, মঙ্গলবার আপনাদেরই একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরোক্ষে আপনাদের উদ্দেশ্য করেই স্বৈরাচারী চেহারার কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই উল্টো গণমাধ্যমের ওপর চলছে দলন নিপীড়ন, সশস্ত্র হামলা ও রক্তাক্ত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। ধমক দেয়া হচ্ছে ইলকট্রনিকস মাধ্যমকে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ, ন্যায়বিচারের বাণী গুমরে গুমরে কাঁদছে। দেশজুড়ে লুটের রাজত্ব চলছে সবই আছে সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। এই বীভৎস্য অনাচারমূলক অরাজক পরিস্থিতিকেই কি ওবায়দুল কাদের শান্তিময় পরিবেশ বলতে চাচ্ছেন।
রিজভী বলেন, আন্দোলন দমাতে এখন সরকারি সহিংসতার পাশাপশি তারা নির্বিচারে মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনে বিএনপিকে জড়াতে হীন কৌশল তারা প্রথম থেকেই এঁটে আসছে। এখন সেটা জোরেশোরে শুরু করেছে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক ফ্লেভার দেয়ার জন্যই এ মিথ্যা মামলা। বানোয়াট গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহববুল হক নান্নুকে, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরুন্নেছা হককে, অনলাইন এক্টিভিস্ট মাহাদী আরজান ইভান, রাজন বেপারী, ফাতেমা খানম, শান্ত ইসলাম জুম্মন, ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন পিয়াসকে ও যুবদল নেতা টিপু সুলতান মজুমদারকে। আমি অবিলম্বে আটককৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ