ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে কোনো সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে। এতে ৪০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। সরকার তাদের গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে সাংবাদিকদের নিবৃত করতে চায়। সাংবাদিকদের লেখনি থামিয়ে দিতে চায়। কিন্তু সরকারের মনে রাখা উচিত অতীতেও সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশ থেকে কোনো সরকার নিবৃত করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও করা যাবে না। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হামলা চালিয়ে, হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে সাংবাদিক সমাজকে স্তব্ধ করা যাবে না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে অতীতে কোনো সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করুন নইলে বুঝবো সরকার সন্ত্রাসীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। তখন সাংবাদিক সমাজ এক দফার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।   
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। রাজধানীর পাশাপাশি দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন, ডিইউজে বাসস ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম মানিক, দিনকাল ইউনিটের ডেপুটি প্রধান রাশেদুল হক, ডিআরইউ’র সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল কবীর সুমন, সাবেক অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল, ডিইউজে নেতা এইচ এম আল আমীন প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা নূরুল আমিন রোকন, সাদ বিন রাবি, শফিউল আলম গ্যালমান, জাকির হোসেন, নাসিম শিকদার, কবি রফিক হাসান প্রমুখ।
রুহুল আমীন গাজী বলেন, সরকার তাদের গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে সাংবাদিকদের নিবৃত করতে চায়। সাংবাদিকদের কলম স্তব্ধ করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। সরকারের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। সরকারের মনে রাখা উচিত অতীতেও সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশ থেকে কোনো সরকার নিবৃত করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও করা যাবে না। সরকার কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যেভাবে প্রতারণা করেছে সেভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সাংবাদিক সমাজ দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে লড়াই করছে তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের গ্রেফতার করতে পারবেন আর অপরাধী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারবেন না তা হতে পারে না। পুলিশ বাহিনীর সামনে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে অথচ পুলিশ সরকারের হুকুম না পাওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। পুলিশের কাজ সন্ত্রাসী ও গু-াবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয়া নয়। তাদের অবস্থান নেয়া উচিত এদেশের নিরীহ জনগণের পক্ষে। কেননা এ সরকারই শেষ সরকার নয়। হামলাকারীদের আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার না করা হলে আগামী রবিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।
এম. আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা সন্ত্রাসীদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, তাদের হুকুমেই হামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের আস্কারা দেওয়ার পরিণাম শুভ হবে না। তিনি বলেন, এক সপ্তাহে রাজপথে ৪০ জন সাংবাদিকের রক্ত ঝরিয়ে বিশ্বব্যাপী যে ধিক্কার কুড়িয়েছে তাতে সরকারের লজ্জিত হওয়া উচিত। হামলার সাথে সরকারের গুণ্ডাবাহিনী জড়িত হওয়ায় সরকার তাদের লোককে গ্রেফতার করতে দিচ্ছে না। কিন্তু পুলিশ যদি গ্রেফতার না করে তাহলে বুঝবো এ ঘটনার সাথে তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের জন্য এখন বড় সুযোগ যে, তাদের বিরুদ্ধে যে অপবাদ আছে তা ঘুচিয়ে ফেলা। সরকারের অন্যায় নির্দেশ পালন  না করে জনগণের কাতারে আসলে দেশের মানুষ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেবে। আর যদি সরকারের অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার করেন তাহলে দেশের মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকতে হবে।  
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সরকারি দলের ক্যাডারদের বর্বরতায় আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। তাদেরকে দেখতে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দেখতে গিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ জন্য তিনি দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। এখনো পর্যন্ত হামলাকারীদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। সাংবাদিকরা এক দফার সংগ্রাম শুরু করলে কেউ রেহাই পাবেন না। 
মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে তথ্যমন্ত্রী চিঠি চালাচালির নাটক করেছেন। নাটক বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনুন। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা জনগণের কাতারে থাকবেন নাকি সন্ত্রাসীদের কাতারে থাকবেন।
এদিকে বিএফইউজে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার, কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুর, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরসহ সারাদেশে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামী শনিবারের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে পরের দিন রোববার রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ