ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আদালতে জাবালে নূরের চালকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার : যার বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল রাজধানীসহ সারাদেশ, সেই জাবালে নূর পরিবহণের চালক মাসুম বিল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন বরগুনা থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে নিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে গতকাল বুধবার এই বাসচালককে আদালতে হাজির করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় দেওয়া মাসুমের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেছেন, মাসুম বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় ওই দিন আরেকটি বাসের আগে পৌঁছতে বেপরোয়া চালিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই শিক্ষার্থীদের ওপর তার গাড়িটি তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সেদিন দুপুরে এমইএস বাসস্ট্যান্ডের কাছে ফ্লাইওভারের গোড়ায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একদল শিক্ষার্থী বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন জাবালে নূরের দুটি বাসের রেষারেষির মধ্যে মাসুমের চালানো বাসটি শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে গেলে প্রাণ হারান দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজীব।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের লাইসেন্স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তিনি হালকা গাড়ি চালানোর উপযুক্ত। ভারী গাড়ি চালানোর অনুমতি তার নেই। দিয়ার বাবা দূরপাল্লার বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম ফকির মামলা করলে র‌্যাব মাসুম ছাড়াও জাবালে নূরের আরও দুই বাসচালক ও দুই সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন চালক জোবায়ের ও সোহাগ আলী এবং সহকারী এনায়েত হোসেন ও রিপন হোসেন। এছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয় জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাত হোসেনকে।
এই ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। শিক্ষার্থীরা দায়ী চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানোর প্রেক্ষাপটে পুলিশ হত্যা সংক্রান্ত দন্ডবিধির ৩০৪ নম্বর ধারাটি মামলায় যুক্ত করে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ