ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হঠাৎ ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি

সড়ক দুর্ঘটনা ও হত্যার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অঘোষিত ধর্মঘটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে চরম কষ্ট ও ভোগান্তিতে ফেলার পর পরিবহণ মালিকরা এবার ভাড়া বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে জনভোগান্তির কারণ তৈরি করতে শুরু করেছেন। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে বুধবার প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা পর্যন্ত সকল স্থানের পরিবহণ মালিকরাই হঠাৎ করে পণ্যবহনকারী ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে সব জেলা থেকে রাজধানীতে সবজির প্রধান সরবরাহ করা হয় সেগুলোর সব ট্রাক মালিকই ভাড়া বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
উদাহরণ দিতে গিয়ে তারা জানিয়েছেন, এতদিন বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে ১২ টনের ট্রাকের ভাড়া যেখানে ছিল ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা, এখন সেখানে একই ট্রাকের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ এমনকি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। রাজধানী অভিমুখীন ট্রাকের পাশাপাশি টাঙ্গাইল ও জামালপুরের মতো জেলাগুলোর ক্ষেত্রেও ভাড়া বাড়িয়েছেন বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ ওই অঞ্চলের ট্রাক মালিকরা। অথচ এসব জেলায় যাতায়াতের পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল না। এখনো নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে চলেছেন।
ওদিকে চট্টগ্রাম, মংলা, হিলি ও বেনাপোলের মতো বন্দর এলাকাসমূহে পণ্যবহনকারী ট্রাক ও সকল যানবাহনের ভাড়াও রাতারাতি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিপদে পড়েছেন বিশেষ করে বিদেশ থেকে পণ্যের আমদানিকারকরা। কারণ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের পরিণতিতে এমনিতেই বন্দরে তাদের পণ্য আটকে থেকেছে। অনেক পণ্য এমনকি জাহাজ থেকেই খালাস করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও আমদানিকারকদের শুধু ভাড়ার অর্থই গুণতে হয়নি, ক্ষতিপূরণ হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ডেমারেজও দিতে হয়েছে। এখনো দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ধর্মঘটের পর যখন পণ্য খালাস করার এবং নির্ধারিত বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানোর মতো সুযোগ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তখনই ট্রাক মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
হঠাৎ ট্রাকের ভাড়া বাড়ানোর কারণ জানাতে গিয়ে সব রিপোর্টেই যানবাহনের লাইসেন্স, ফিটনেস এবং ড্রাইভারদের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র না থাকার কারণের কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে পণ্য পরিবহণের জন্য তিন লাখ ১২ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিক আপসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে। কিন্তু এসবের অর্ধেকের বেশি গাড়িরই কাগজপত্র ঠিক নেই। যে মালিকদের কাগজপত্র ঠিক আছে তারা আবার লাইসেন্সধারী চালক পাচ্ছেন না। মূলত সে কারণেই পণ্য পরিবহণের জন্য যথেষ্টসংখ্যক গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফলেই সংকটের শুরু হয়েছে, যার সুযোগে যথেচ্ছভাবে ভাড়া বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাক মালিকরা।
এমন অবস্থার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও ঘটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের সকল স্থানের বাজারেই সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ট্রাকের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে না কমিয়ে আনা পর্যন্ত তাদের পক্ষে সবজি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যও কমানো সম্ভব হবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের মূল্য বাড়তে থাকবে। ওদিকে এগিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আযহা। এ সময় এমনিতেই সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন মশলার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কুরবানির পশু আনার জন্যও বাড়ে ট্রাক এবং অন্য সব পণ্যবহনকারী যানবাহনের চাহিদা। সেজন্যই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ট্রাকের ভাড়া কমানোর এবং দ্রুত যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
আমরাও মনে করি, পবিত্র ঈদুল আযহার যখন দু’সপ্তাহেরও কম সময় রয়েছে তখন হঠাৎ করে ট্রাকের ভাড়া বাড়ানোর কার্যক্রম সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বলা দরকার, মালিকরা যেসব যুক্তি হাজির করেছেন সেগুলোকেও সমর্থন করা যায় না। কারণ, লাইসেন্সসহ কাগজপত্র ঠিক রাখার দায়িত্ব অবশ্যই মালিকদের। তাছাড়া অঘোষিত ধর্মঘটেও তারা নিজেরাই গিয়েছিলেন। সুতরাং ধর্মঘটের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য ব্যবসায়ী এবং জনগণকে জিম্মি করার অপতৎপরতা চালানোর অধিকার তাদের থাকতে পারে না। আমরা তাই অনতিবিলম্বে ট্রাকের ভাড়া কমিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ