ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন পরবর্তী ২ দিনের পরিবহণ ধর্মঘটে পোশাক শিল্পের বেশি ক্ষতি হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক অবস্থা এবং আসন্ন ঈদ-উল-আজহার প্রাক্কালে চট্টগ্রামস্থ পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে জরুরি এক মতবিনিময় সভা গতকাল বুধবার বিজিএমইয়ের চট্টগ্রাম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিজিএমইয়ের প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু) বলেন, দুঃখের বিষয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও পরবর্তী ২দিন পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটে সাধারণ জনজীবন যেমন বিঘিœত হয়েছে, তেমনি বিঘ্নিত হয়েছে আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের আমদানী ও রপ্তানী পণ্য পরিবহণ করা যায়নি। আমদানীকৃত পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা সম্ভব হয়নি এবং রপ্তানীতব্য পণ্য জাহাজীকরণের জন্য সময়মত বন্দরে পৌঁছানো যায়নি। এতে একদিকে কারখানার উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হয়েছে অপরদিকে রপ্তানীর জন্য পণ্য প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এ’সব পণ্য যথাসময়ে জাহাজীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ডিস্ কাউন্ট দিতে হবে এবং অধিক ভাড়ায় বিমান যোগে প্রেরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট রপ্তানীতব্য তৈরি পোশাকের ১,১৬৮টি বক্স কন্টেইনার ছাড়াই ৫টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করে। নিশ্চিতভাবে সংশ্লিষ্ট রপ্তানীকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। বন্দরে মোট ধারণ ক্ষমতা- ৪৮,০০০ টিউজ। গত ২৯/০৭/২০১৮ইং তারিখে বন্দর ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিল ৪১,০০০ টিউজ। ৭ আগস্ট বন্দর ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিল ৪৩,৫০৭ টিউজ। এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে আমদানী-রপ্তানী পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারীতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। একদিকে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি, অন্যদিকে বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত ইক্যুপমেন্ট না থাকায় প্রায়শই জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়, যা- প্রতিনিয়ত তৈরি পোশাক খাতের গতিশীলতা ব্যাহত করে। বর্তমানে বন্দরে ০৪টি গ্যাংট্রি ক্রেন আছে। আগামী অক্টোবরে আরো ৬টি গ্যাংট্রি ক্রেন সংযুক্ত হবে। যা আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও চলমান প্রবৃদ্ধির মোকাবিলায় পতেঙ্গা উপকূলে ১২০০ একর জায়গায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন এরিয়ার ৬ গুণ বেশি এই বে-টার্মিনাল। এই টার্মিনালে বেশি ড্রাফটের জাহাজসহ একসাথে ৩০-৩৫টি জাহাজ বার্থিং করতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ চলাচল জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এই টার্মিনালে ২৪ ঘন্টা জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এতে জাহাজের গড় অবস্থান কাল কমে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রথম পর্ব এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের কাজ সমাপ্ত হবে মর্মে বন্দর সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে ভুমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, আগামী ২২ আগষ্ট  পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি ভাতা ইত্যাদি সময়মত পরিশোধের দায় রয়েছে কারখানা মালিকদের। গত রোজার ঈদসহ পূর্ববর্তী সব ঈদে আমরা শতভাগ কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি আসন্ন ঈদ-উল-আজহা’র মাসেও আমরা শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতাদি পরিশোধ করতে সক্ষম হবো। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরিবহণের ঘোষিত ও অঘোষিত ধর্মঘটে ক্ষতিগ্রস্থ রপ্তানীকারকদের পক্ষে সময়মত মজুরী পরিশোধ করা কষ্ট সাধ্য হবে। এ’ক্ষেত্রে ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা অত্যাবশক। ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশনায় ব্যাংক সুদের হার ৯% নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবার (০৯/০৮/২০১৮) থেকে কার্যকর করার জন্য  অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আমরা আশা করি তা যথাসময়ে কার্যকর হবে এতে বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
 তিনি বলেন, চট্টগ্রাম গার্মেন্টস্ শিল্পের সূতিকাগার। ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশের তৈরি পোশাকের ৪০ শতাংশই চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানী হত। সম্ভবতঃ কোটা পরবর্তী মুক্তবাজারে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হয়ে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। হাতের কাছে বন্দর, আইসিডি, কাস্টমস্্সহ সবরকম সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ ব্যর্থতা হতাশাজনক। বর্তমানে চট্টগ্রামে নিবন্ধিত কারখানা-৬৮১টি, চালু আছে ৩৫৭টি, বন্ধ হয়েছে ৩২৪টি। সরকার মিরসরাইয়ে বন্দর সুবিধাসহ বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছেন। সেখানে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা সহ তুলনামূলক স্বল্প মূলে প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। কর্ণফুলির পূর্বতীরে আনোয়ারায় গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। কর্ণফুলি নদীর তলদেশে নির্মিত হচ্ছে টানেল। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এ’সব পুরোপুরি চালু হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের দৃশ্যপট। চট্টগ্রামে বিনিয়োগ বাড়বে এবং তৈরি পোশাক শিল্প, পর্যটনসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরে আসবে হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ