ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসি’র নতুন মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের অপেক্ষা

খুলনা অফিস : যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলার জন্য খুলনা মহানগরীতে সীমিত ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন। এরমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশন, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনা হয়েছে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইজিবাইকের জন্য আলাদা লেনের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, খুলনার অপেক্ষাকৃত কম আয়তনের সড়কে অধিকসংখ্যক যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হলে যানজট নিরসন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জানা যায়, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকদফা বৈঠক হলেও ইজিবাইকে লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে। এই সেক্টর থেকে প্রতিদিন অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি ও চালকরা ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করায় সবকিছু যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইজিবাইক শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন মেয়রের চেয়ারে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশনের সূত্র মতে, সড়কে শৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সভা ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় মহানগরীতে ৫ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
জানা যায়, নগরীতে বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে ইজিবাইকের সংখ্যা সীমিত করতে পূর্বের দেওয়া ১ হাজার ৯৬০টি লাইসেন্সের সাথে নতুন করে ৩ হাজার ৪০টি ইজিবাইকের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর নগর ভবনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের আরেকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২০১৬ সালের ১১ মে তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ইজিবাইকের লাইসেন্স কমিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে ওই সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী ও নাগরিক নেতা এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনায় প্রতিনিয়ত ইজিবাইক বাড়ছে জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের স্বার্থগত কারণেই। তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলার জন্য সীমিত আকারে ইজিবাইকে লাইসেন্স দিতে হবে। শহরের মধ্যে নির্দিষ্ট পোশাকে নির্দিষ্ট রুটে এই যানবাহন চললে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
খুলনার সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী আমেনা সুলতানা নিশি জানান, ইজিবাইক অনেক ক্ষেত্রেই সড়কে গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। সড়কে ইজিবাইকের জন্য আলাদা লেন করা হলে যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এদিকে কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বের দেয়া ১ হাজার ৯৬৩টি ইজিবাইকের লাইসেন্স এর সঙ্গে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৩৭টি লাইসেন্স দেয়ার কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে নগরীর স্থায়ী বাসিন্দা অথচ ইজিবাইক চালক এমন লোক অগ্রাধিকার পাবে। ওই সিদ্ধান্তু অনুসারে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন গ্রহণসহ ইজিবাইক চলাচল নীতিমালা চূড়ান্ত করার কথা বলা হলেও দীর্ঘ সাত মাসে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ব্যাপারে মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি মিটিং-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ইজিবাইক মালিক-চালক সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিলন বলেন, কেসিসির বর্তমান পরিষদ তাদের লাইসেন্স দেয়ার কথা বলে তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এ কারণে ইজিবাইক সংগঠনগুলো সঙ্কট নিরসনে নবনির্বাচিত মেয়রের চেয়ারে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ