ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কিশোরীরা সাফের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে?

অরণ্য আলভী তন্ময় : এক বছরেরও কম সময় আগে প্রথমবারের মতো সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ কিশোরী ফুটবলাররা শিরোপা জিতেছিল। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখতে ভুটানে এখন বাংলাদেশ দল। শিরোপা জেতার মিশন নিয়েই থিম্ফুতে পা রেখেছে লাল সবুজ প্রতিনিধিরা। ব্যবধান মাত্র আট মাসের। এক বছরের মধ্যে আবারও শিরোপা লড়াইয়ে নামছে কিশোরীরা। আজ ৯ আগস্ট ভুটানে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরের প্রথম চ্যাম্পিয়ন বলে এবারও ট্রফির স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়ে ভুটান গেছে মারিয়া মান্দা-তহুরা খাতুনরা। ৯ আগস্ট থিম্পুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে বাংলাদেশ। ছয় দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে পাকিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে। গত বছরের ডিসেম্বরে কমলাপুর স্টেডিয়ামে কিশোরী সাফের প্রথম আসরের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ভিন্ন কন্ডিশনে চ্যালেঞ্জটাও বেশি। এবারও আঁখি খাতুনদের বড় বাধা ভারত। তবে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের বিশ্বাস, শিরোপা ধরে রাখতে পারবেন তারা। তার আত্মবিশ্বাসের মূলে মেয়েদের অনুশীলনের মধ্যে থাকা। ‘যেভাবে অনুশীলন করা যায় আমরা তার সবই করেছি। আর প্রথম আসরে ভালো খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এরপর মেয়েরা কিন্তু বসে ছিল না। নিয়মিত অনুশীলন করেছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। সাফের জন্য দল প্রস্তুত। আশা করি এবারও ভালো কিছু করতে পারব আমরা’ আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন বাংলাদেশের কোচ ছোটন। আরামবাগের টার্ফে অনুশীলন করেছে মেয়েরা। কিন্তু ভুটানে খেলতে হবে ঘাসের মাঠে। সমস্যা হওয়ারই কথা। তবে কোচ ছোটন মাঠের পার্থক্য নিয়ে ভাবছেন না, ‘আমরা তো সব সময়ই এই টার্ফে অনশীলন করি, খেলি আবার ঘাসের মাঠে। মাঠ নিয়ে আমি ভাবছি না। পুরো দলের টেকনিক্যাল-টেকটিক্যাল থেকে শুরু করে মানসিক ও সোশ্যাল-এই চারটি বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। ভুটানে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এখানে টার্ফে অনুশীলন করেছি বলে ভুটানে ঘাসের মাঠে খেলতে পারব না তা কিন্তু নয়। সব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে মেয়েরা।’ গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা বেশিরভাগ ফুটবলারই আছে বর্তমান দলে। ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনেরই আছে সাফের শেষ আসরে খেলার অভিজ্ঞতা।
নতুন মুখ বলতে ইলা মনি, শাহেদা আক্তার রিপা, রেহেনা আক্তার, রোজিনা আক্তার ও নোশন জাহান। তবে এই পাঁচজন হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি কাপে খেলেছিল। বলা যায়, বাংলাদেশের এই দলটা বেশি অভিজ্ঞ। নিজ দলের সতীর্থদের নিয়ে খুশি অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার চোখেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন, ‘গত আসরের চ্যাম্পিয়ন প্রায় প্ররোটা দলই আমরা এবার খেলছি। তাই লক্ষ্য আমাদের একই। গতবার সাফ জিতেছি, এবারও শিরোপা ধরে রাখতে চাই। টুর্নামেন্টের জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’ গত আসরের সেরা খেলোয়াড় ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনও শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে জোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। গত আসরে দুই গোল করা আঁখির ভাষ্য, ‘শিরোপা ধরে রাখার কাজটা যে সহজ হবেনা এটা বলতেই পারি। সেখানে ভালো খেলাই আমাদের লক্ষ্য। আমি একজন ডিফেন্ডার। সবার আগে আমার দায়িত্ব ডিফেন্স সামলানো। এরপর সুযোগ পেলে গোল করব। শিরোপা জয়ের সব চেষ্টাই করব আমরা।’ দেশের পুুরুষ ফুটবলের দুর্দশার মধ্যেই নতুন আশা হয়ে জেগেছে মহিলা ফুটবল। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় দেশের মেয়েরা নিজেদের প্রমাণ করছেন। গত ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল জয়ী দলটির সামনে বছর ঘোরার আগেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট, কমলাপুর স্টেডিয়ামে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহিলা ফুটবলে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসে বাংলাদেশ। তার সাত মাস পরে দলটির মোটাদাগে চেহারা একই আছে। বয়সের কারণে বাদ পড়েছে মার্জিয়া, আর পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় রুনা, রুমি, দীপা, সাগরিকা জায়গা পাচ্ছে না দলে। দল গঠন নিয়ে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কথা,  ‘যারা ভালো করছে, তাদেরকেই দলে নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, এই দলের শক্তি আগের চেয়ে বেশি। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের মূল পর্বের ম্যাচগুলোয় শক্তিতে খানিকটা পিছিয়ে ছিল আমাদের মেয়েরা। এখন সেটা নেই, তারা সমান তালে লড়াই করে যাবে’। গেল ডিসেম্বরের টুর্নামেন্টে আরো একটি সমস্যা দেখা গিয়েছিল। সমস্যা ফরোয়ার্ড লাইনে, একটু শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোল পেতে বাংলাদেশের মেয়েদের কষ্ট হয়েছিল। গোলাম রব্বানী ছোটন অবশ্য এখন আর গোলের সমস্যা দেখছেন না, ‘এখন গোল নিয়ে আগের মতো সমস্যা হবে না। মার্চে হংকংয়ে একটি টুর্নামেন্টে অনেক গোল করেছে আমাদের খেলোয়াড়রা। তহুরা ১০টি ও শামসুন্নাহার ৮টি গোল করেছে। দেশে সিনিয়র দলের বিপক্ষে যে প্র্যাকটিস ম্যাচগুলো খেলছে সেখানেই তাদের স্কিলের উন্নতি হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।’ হংকংয়ের ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ১০-০ গোলে মালয়েশিয়াকে, ৮-০ গোলে ইরানকে ও ৬-০ গোলে হংকংকে হারায়। ইরান ও মালয়েশিয়ার মেয়েরা শারীরিকভাবে এগিয়ে থাকলেও ফুটবলীয় কৌশলে এগিয়ে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের মেয়েরা দেশে প্রতি সপ্তাহে চারটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সঙ্গে। কখনো জেতে কখনো হারে। কখনো ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বড়দের ছাড়িয়ে যায় কেউ কেউ। এমন পারফরম্যান্সই আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে তাদের মনে। তাই কিশোররাও ভয়ার্ত নয় এই টুর্নামেন্ট নিয়ে। দৃশ্যমান সমস্যা একটিই, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু থিম্পুতে না স্ট্যামিনার ঘাটতি হয় বাংলাদেশের মেয়েদের। এটা বড় সমস্যা হয়ে না দাঁড়ালে পাকিস্তান ও নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোবে তারা। ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক ভুটান। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। এরপর সেরা দুই দলের ফাইনাল, যা এখন আর বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে স্বপ্ন নয়। নতুন পরাশক্তি হয়ে তারা শিরোপা ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবীন লীগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে নেপালকে ৬-০ গোলে, ভুটানকে ৩-০ গোলে এবং একই ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিকরা।
এদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কোন প্রস্তুতি ম্যাচ পাচ্ছেনা মারিয়া মান্ডার দল। ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামের কথা মাথায় রেখেই নিয়মিত আিিটর্ফশিয়াল টাফের্ অনুশীলন করেছে মেয়েরা। তবে শিরোপা জয়ের মিশনে নামার আগে বিদেশি কোনো দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আর তাই সবার প্রত্যাশা থাকবে শিরোপা ধরে রাখবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরারা। তবে ওসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে এষন নতুন মিশনে নেমে সেখানে সফল হতে চায় বাংলাদেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ