ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টেনিস এবং কিছুকথা

মোহাম্মদ সুমন বাকী : জন ম্যাকেনরো। বিশ্বের খুবই ফেমাস একটি নাম। তাকে বলা যায় নন্দিত নায়ক। বিশ্ব টেনিস অঙ্গনকে ঘিরে এমন সুপার ডুপার পরিচিতি যার। বিনোদন জগতে তিনি পারপেক্ট উপহার। যা নতুন করে না বললেও হয়। জন ম্যাকেনরো টেনিস কোর্টে অতুলনীয় পারফরম্যান্স করেছেন বার বার। এই ভুবনের ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করে নাম তার। খেলেছেন দীর্ঘ সময়। সেটা বছরের পর বছর। টেনিস বল এবং র‌্যাকেটের স্পর্শে জনের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে আছে। তা এ ক্রীড়ায় ইতিহাসকে আলোকিত করে। যা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? সেটা স্থান পেয়েছে মানুষের হৃদয়ে। অবশ্যই ভালোবাসাকে আকড়ে ধরে। তা স্বচ্ছ পানির ন্যায় ফুটে উঠে যুগের পর যুগ ধরে। যা সবার জানা রয়েছে।
গত শতাব্দীর আশির দশকের সুপার হিরো সে। র‌্যাকেট হাতে উদ্ভাসিত নৈপূণ্য প্রদর্শন করে। উইম্বল্ডন এবং ইউ এস এ ওপেনসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সাফল্যের ছোঁয়ায় একাধিক বার গ্রান্ডস্লাম শিরোপা জিতে। সেটা ধারাবাহিক ভাবে। তাইতো বর্তমান শতাব্দীতে মিডিয়ার পাতায় জন ম্যাকেনরোর নাম আলোকিত হয়ে স্থান পেয়েছে। যা ফুটে উঠে লেখনির মাধ্যমে। ক্রীড়া পাগল প্রেমীরা কি বলেন? তিনি আমেরিকান প্লেয়ার। তার শরীরের গঠন লম্বা ও স্লিম ফিগার। এক বাক্যে অভিহিত করা যায়, সেটা খুবই ফাটাফাটি আকর্ষণের ধারায় চমৎকার। ইউ এস এ (মার্কিন) টেনিস ভুবনে এমন ঝলকে কোটি কোটি রমনীর স্বপ্নের পুরুষ জনের আবিষ্কার। যা তাদের কাছে বড় উপহার। সুন্দরী রমনীরা তার পারফর্ম দেখে মুগ্ধ হতো। জন জন রব তুলে তাকে উৎসাহ যুগাতো। তখন ক্রীড়ার এই অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছিলো। এমন পরিস্থিতি এখনো দেখা যায়। সেটা ঘিরে রয়েছে বিশ্ব টেনিসের আঙ্গিনায়। আন্দ্রে আগাসী, রজার ফেদেরা, স্টেফি গ্রাফ, সাবাতিনি, মার্টিনা হিঙ্গিস, নভ্রাতিলোভা, সেরেনা, ভেনাস, উইলিয়ামস, আন্না কুর্নিকোভা, শারাপোভা, ভুপাতি, লিয়ান্ডার পেজ, সানিয়া মির্জাদের পদচারনায় পৃথিবী নাচে টেনিসের উত্তেজনায়। তারা সো করেন সুপার নৈপূন্য। যা সকলের বোধগম্য। সেই তালিকায় পিট সাম্প্রাস অতুলনীয়। পারফরম্যান্স ও র‌্যাংকিং অবস্থান নিয়ে আলোচিত হয়েছেন যারা। সে জন্য বিশ্ব সেরা। তা সত্য কথা। তাদের সার্ভ বিদ্যুৎ গতির ঝলক। যা দেখলে পড়ে না চোখের পলক। সেটা পড়বেই বা কি করে? কারণ এখানেতো ফুটে উঠে নৈপূন্যের আকর্ষনীয় ঝলক। তা মন কেড়ে নেয় সবার। যা দৃশ্যমান হয় বার বার। সেটা নতুন কিছু নয়। তাই নেই ওয়ার্ল্ড টেনিসের জনপ্রিয়তা হারাবার ভয়। বলেন কি খেলা পাগল ভক্তরা? প্রশ্নের উত্তরটি আপনাদের কাছে থাক। স্মার্ট ক্রীড়া এটা। শক্তি প্রয়োগের আওয়াজ ছাড়া নীরবে পারফর্ম করতে হয়। কৌশল আক্রমনাত্মক।
ডিফেন্সিভ খেলার বিন্দু পরিমান সুযোগ নেই। তবে ডজ আছে। যা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। সেটা হলো এই ক্রীড়ার প্রধান অস্ত্র স্ট্যামিনার (দম)। তা থাকতেই হবে। যা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে অনায়াসে ঘায়েল করার জন্য যথেষ্ট। এমন ফর্মূলায় এগিয়ে চলেছে বিশ্ব টেনিস। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ খেলার উন্নয়নের ধারা ধরে রেখেছে। গত শতাব্দীর নব্বই দশকে বিশ্ব টেনিস ভুবনে আগমনী বার্তা জানায় তারা। যেখানে দু’টি নাম সোনালী পরশে স্থান পায়। যাদের পারফর্ম ছিলো আকাশ ছোঁয়া। আগাসী, সাম্প্রাস, স্টেফি, সাবাতিনি মান ফলো করে কোর্টে নেমেছেন যারা। মাঠের লড়াইয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন ইতিমধ্যে।
ভারতের জার্সী পরে ভুপাতি এবং লিয়ান্ডার পেজ নাম দু’টি বিশ্ব টেনিস আঙ্গিনায় আলোকিত হয়ে উঠে। অলিম্পিক গেমসে পদক জয় চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তাদের নিয়ে মিডিয়া একের পর এক গঠন মূলক প্রতিবেদন তৈরী করে। বিংশ শতাব্দীতে পারফর্মের এমন সাফল্যের ধারা সানিয়া মির্জা ধরে রাখে। তিনি আলোকিত হয়েছেন। এশিয়া টেনিস ভুবনে রানীর মুকুট পরেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কয়েকবার শিরোপা জিতেছেন। শুধু ভারতের নয়, দক্ষিন এশিয়ার গর্ব সে। এই বিষয়ে নতুন পাল পাড়া মনিমুক্তা সংঘের কর্মকর্তা জুয়েল হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা টেনিস। সেটা সত্য কথা। কিন্তু এমন ধারা বাংলাদেশে কতটা আছে তা এখন দেখা প্রয়োজন। আশির দশকে জন ম্যাকেনরোর খেলা প্রশংসিত হয় সকলের কাছে।
তার নৈপূণ্য আমার চোখের পাতায় ভাসে এখনো। যা আমি দেখেছি বিটিভির মাধ্যমে। তা বলাবাহুল্য। উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব টেনিসের লড়াইয়ে দাপট বজায় রেখেছে ভারত। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশ নেই কেন? অপ্রিয় হলেও তরুন ক্রীড়া সংগঠক জুয়েল হোসেন ভূঁইয়ার কথাটি সত্য। আমেরিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, আফ্রিকা, কানাডা, দক্ষিন কোরিয়া, ভারত ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডের টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে উজাড় করে। সাফল্য-ব্যর্থতার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। যা স্বাভাবিক। কারণ ক্রীড়ার ধরনটাই এমন। এই অবস্থায় লাল-সবুজ পাতাকা দেশের টেনিস অবহেলায় পড়ে আছে। সেটা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পারফেক্ট উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। সারা দেশের প্রেক্ষাপটে টেনিস কি? এর সংজ্ঞা কি কেউ জানে? না, নিশ্চিত ভাবে যা বলে দেয়া যায়।
টেনিসের সংজ্ঞা হলো রাজধানী ঢাকার শাহবাগের ফেডারেশন কার্যালয় পর্যন্ত। এ ভুবনের খেলোয়াড়রা কি বলবেন? আর কর্মকর্তাদের কথা বাদ দেয়া যাক। ওনারাতো বিশ্ববিখ্যাত! ঢাকার বাইরে ক’টি জেলায় টেনিস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়? বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থাগুলো স্থবির। সেটা টেনিসের বেলায় কার্যক্রমের বিচারে। কোথাও টুর্নামেন্ট নেই। তাই শোভন, হীরা লাল, বৈশখীর মতো সাউথ এশিয়ান জোন তারকা জন্ম নিচ্ছেন। বিকেএসপি দেশের টেনিসের সামান্য খোড়াক যোগাচ্ছে। ব্যাস! এটুকু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ!! তা জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ব্যর্থ কার্যক্রমের কারণে। এখন স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে, এ খেলার বাজেট কি ফেডারেশন কর্তৃক সারা দেশে পৌঁছায়? উত্তর কি পাওয়া যাবে?
এর পাশাপাশি সে কালের খোড়া অজুহাত স্পন্সর পাওয়া যায়নি! যা হাস্যকর ভাষ্য বটে!! স্পন্সর যোগাড় করার দায়িত্ব কার? সেটা কি দর্শকের? টেনিস উন্নয়নের পথে চেয়ার আগলে রেখে মাঠে সো হওয়া কর্মকর্তাদের অভিমত কি এ বিষয়ে? সবকিছু মিলিয়ে খেলাটি বর্তমানে মুখ থুবরে পড়ে রয়েছে। কোথাও টুর্নামেন্টের আয়োজন নেই। তা সারা দেশের প্রেক্ষাপটে। সে কারণে এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
কথাটি সত্য। এই প্রসঙ্গে ফেনী জেলার ক্রীড়া প্রেমী জামাল উদ্দিন সাগর বলেন, টেনিস স্মার্ট এবং সুন্দর পরিবেশের খেলা। যা মনে করি আমি। তাই জেলায় জেলায় সুন্দর পরিবেশ গড়া প্রয়োজন। সেটা হলে বাংলাদেশের টেনিস উন্নয়নের সূচনা পাবে। বঙ্গসাথী ক্লাবের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন মোল্লা। এ ক্রীড়া সম্পর্কে তার ভাষ্য, প্রতিটি জেলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিশ্লেষণে টেনিস শুধু মাত্র নাম। তা ছাড়া কিছু নয়।
যা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর খাতায় স্বর্নাক্ষরের পরিবর্তে অন্ধকার জগতের অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। উদাহরন নারায়ণগঞ্জ, কারণ কোনো খেলা নেই কয়েক বছর ধরে। সত্যি, এমন পর্যালোচনা আভাস দেয় দেশের টেনিসের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। জার্মানি, আমেরিকা না হোক, আপাতত ভারতকে ফলো করা উচিত। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন কর্মকর্তারা কি বলেন? ক্রীড়াটির উন্নয়নের পথে উত্তর পাওয়াটা খুবই জরুরী!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ