ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীতে কুরবানির পশু মোটাতাজা করতে শেষ সময়ে ব্যস্ত চাষি ও খামারীরা

কুমারখালী : কেশবপুর গ্রামের হারুন শেখ এই গরুটি মোটাতাজা করছেন

মাহমুদ শরীফ, (কুমারখালী) থেকে: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পশু মোটাতাজাকরনের পেশায় নিয়োজিত সাধারণ চাষী ও খামার মালিকেরা। পবিত্র কোরবানীর ঈদের আর মাত্র মাসের সময় বাঁকি থাকায় শেষ বারের মত পশুগুলোর যত্ন নিচ্ছে তারা। কেউ কেউ বাজার যাছাইও শুরু করেছে।
ওষুধ এবং গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকারী পশু চিকিৎকদের অসহযোগীতা আর বারবার লোকশানের পরও এবছর প্রায় ৩৫/৪০ হাজার গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানীর পশুহাটগুলোতে বিক্রির জন্য। যার বাজার মূল্য প্রায় দুইশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আর এ সমস্ত প্রান্তিক চাষী ও খামারীদের এখন দু:চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে গরুর লাভজনক মূল্য না পাওয়া আর ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ রোধ করা হলে বিগত  বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশিষ্ট সাধারণ চাষী ও  খামার মালিকেরা।
কুমারখালীর কোরবানির পশুর প্রধান বাজার হচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট। চাষী ও খামারিরা স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে পশু বিক্রি করতে না পারলে নিজেরাই ট্রাকে চেপে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটগুলোতে পশু নিয়ে হাজির হয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পশুকে শেষ সময়ের মত আদর আপ্যায়ন করা হচ্ছে। অনেকেই ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার হাটে যাওয়ার জন্য নিচ্ছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যাপারীরা বাড়িবাড়ি যেয়ে পশু কেনার জন্য দরদাম শুরু করেছে। তারা গরু অনুযায়ী ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকায় কিনতে শুরু করেছেন।
কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নতুন পুরাতন পশুহাটগুলোতে প্রচুর কোরবানীর পশু উঠছে। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালোই হচ্ছে বলে হাট মালিকেরা জানিয়েছেন। গত দুই বছর ভারতীয় গরুর অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে  চাষী ও খামার মালিকেরা দাম না পাওয়ায়  চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। গেল দুই বছরে অনেকেই তাদের পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।
কুমারখালী উপজেলা হাঁসদিয়া গ্রামের জাফর আলী মোল্লা বলেন, গত বছর দুইটি নেপালী গরু মোটাতাজা করেছিলাম, আশা ছিল ৪০/৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। কিন্ত ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ করার ফলে গরুর দাম নিচে নেমে যায়। ফলে আমার লাভের পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছিল, সেজন্য পশু মোটাতাজা করা ছেড়ে দিয়েছি। একই গ্রামের আরিফুল ও বাক্কার এবার ২টি করে গরু মোটাতাজা করেছে। কেশবপুর গ্রামের সুজন, শরিফুল, আতিয়ার, মামুন ও আকবার শেখ প্রতি বছরেই ২/৩টি করে কোরবানীর পশু মোটাতাজা করে থাকে। তারা জানায়, ১০/১২ বছর ধরে গরু মোটাতাজা করছি। গেল ২/৩ বছর লোকশানের পাল্লায় ভারি ছিল, তবুও লাভের আশায় এবারও হাড্ডিসার গরু কিনে মোটাতাজা করে আগ্রহে বসে রয়েছি। চর আগ্রাকুন্ডা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কৌতুক মেকার ২টি কোরবানীর গরু মোটাতাজা করেছে, তার আশা সব খরচাদী বাদ দিয়ে এবছর লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে বলে মনে করছেন। হাঁসদিয়ার গরু চাষী ও মৌওসুমী ব্যবসায়ী কোরবান আলী গরু পালন ও বাঁকীতে কিনে ব্যবসা করতে যেয়ে আজ নি:স্ব। উপজেলার বাঁশগ্রাম, চাপড়া, এনায়েতপুর, গোবিন্দপুর, মহেন্দ্রপুর, দয়রামপুর, জগন্নাথপুর, হাসিমপুর, কল্যাণপুর এলাকা গরু চাষী ও খামারের জন্য খ্যাতি পেয়েছে। অবশ্য এবার লোকশানের আশংকায় গরু মোটাতাজা করনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। খামার মালিক ও চাষীরা জানায়, যদি গত বছরের ন্যায় এ বছরও যদি ভারতীয় গরু বাংলাদেশের বাজার দখল করে নেয় এবং গরুর আশানুরুপ দাম না পাওয়া যায়- তাহলে লাভের চেয়ে চাষী ও খামার মালিকদের লোকসানের পরিমাণই গুনতে হবে বেশী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ