ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2018, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইউপি সদস্যকে স্বাক্ষর করতে না দিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

খুলনা অফিস : খুলনার দাকোপ উপজেলার ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের পরিষদের মাসিক সভার অবহিতকরণ নোটিশ না দেয়া এবং সভার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে ইউপির ১নং ওয়ার্ড’র সদস্য গাজী ফয়সাল আলমকে পরিষদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ইউপি চেয়ারম্যান মিহির ম-ল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী সভা থেকে তাকে বের করে দেন।
এ ঘটনায় ফয়সাল আলম জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে ইউপি সদস্য গাজী ফয়সাল আলম উল্লেখ করেন, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মিহির ম-ল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরাসহ অনেকেই জিম্মি। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান মিহির ম-লের ভাই শংকর মন্ডলকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।
মূলত: তার পর থেকেই তিনি মিহিরের রোষানলে পড়েন। ইতোমধ্যেই চেয়ারম্যান তার ওপর হামলা এবং একাধিক মামলা দায়েরসহ হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছেন।
ওয়ার্ডের কোন কাজও তাকে করতে দেয়া হয় না, উপরন্তু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে এলাকা ছাড়া করার ষড়যন্ত্র করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব গেবিন্দ রায় ষড়যন্ত্র করে পরিষদে জুন ও জুলাই মাসের মাসিক সভার নোটিশ তাকে দেয়নি। সর্বশেষ তিনি ইউপি সদস্য রূপক রায় ও মলিনা জোর্দ্দারের মাধ্যমে জানতে পেরে সোমবার সকাল ১০টায় পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থিত হন। সেখানে পরিষদের সদস্য মলিনা জোর্দ্দার, বিথীকা রায়, বিষ্ণুপদ মিস্ত্রী, রুপক রায়, সিন্ধু শেখর রায়, রবীনন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, অমরেন্দ্রনাথ গাইন, সুখেন্দু রপ্তান বুলু, প্রদীপ সরকার, তাপস মিস্ত্রী, কনিকা মিস্ত্রী ও গ্রাম্য আদালত সহকারী প্রতীভা রায়সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি সভায় উপস্থিত হলে চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
এমনকি মারমুখি ভঙ্গিতে তার দিকে আসতে উদ্যত হলে ইউপি সদস্যরা তাকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে মিহির তাকে পরিষদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় তিনি সভার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে চাইলে উচ্চস্বরে মিহির বলতে থাকে, ‘তুই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিস, আমি চেয়ারম্যান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, আমি যা বলবো এই পরিষদে তাই-ই হবে, তোর কোন বাপ আছে, তোর ইউএনও, ডিসির কাছে যা। তারা পারলে আমার কিছু করুক, তুই এই পরিষদের চতুর সীমানায় আসবিনা, পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে চলে যাবি’ ইত্যাদি বলে তাকে জোর পূর্বক পরিষদ থেকে বের করে দেয়।
লিখিত অভিযোগে তিনি পরিষদের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং মাসিক সভার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সুযোগ পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিক মামলার আসামি চেয়ারম্যান মিহির ম-লের হাত থেকে রক্ষা পেতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ