ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাক্ষুসে মাছ

রুহুল আমিন রাকিব : এক গাঁয়ে ছিলো একটা পুকুর। পুকুরে জুড়ে সব সময় পানি থাকত। ওই পুকুরে,মাছ ও ব্যাঙ এক সাথে বসবাস করত। ওরা এক জন আর এক জনের কাছে নিজের ভালো মন্দ সব রকম কথা শেয়ার করত। ব্যাঙ ও মাছের মাঝে খুব ভাব ছিলো। বর্ষা এলে নতুন পানিতে মনের সুখে ব্যাঙ গান ধরতো।

আর মাছ নতুন পানিতে সারা পুকুর জুড়ে ঘুরে বেড়াতো। বেশ হাসি-খুশিতে ওদের দিনগুলো চলে যেতো।

রোজ রাতে মনের সুখে ব্যাঙ ও মাছ গল্প করত।

তবে এবার বর্ষাকালে, হঠাৎ একরাতে ঘটলো বড় রকমের দুর্ঘটনা। সারা পুকুর জুড়ে মাছগুলো ছোটা-ছুটি করতে লাগলো। ব্যাঙ ভয়ে  গুটি-শুটি মেরে গর্তে ঢুকে পরলো। রাতে পুকুরের মাছগুলোর ছোটাছুটি শেষে যখন সকাল হলো,তখন পরিবেশ একদম শান্ত হয়ে গেলো।

ব্যাঙ ভয়ে ভয়ে গর্ত থেকে বাহির হয়ে এলো। মাছ কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ব্যাঙের কাছে রাতের সেই ভয়ংকর ঘটনা খুলে বললো। মাছ ব্যাঙের কাছে বললো বন্ধু কাল রাতে এক রাক্ষুসে মাছ কোথা থেকে যেন বর্ষার পানির সাথে ভাসতে ভাসতে এই পুকুরে এসেছে। আর সেই রাক্ষুসে মাছ কাল রাতে আমাদের জাতি ভাই,ছোট ছোট মাছগুলোকে ধরে খেয়ে ফেলছে। বন্ধু যে কোন সময় এই রাক্ষুসে মাছ আমাদের কেউ খেয়ে ফেলবে। আমার জন্মের পরে এতো বড় রাক্ষুসে মাছ আমি কখন-ই দেখি নাই। এর মনে একটুও মায়া দয়া নেই। সময় থাকতে আমাদের'কে জীবন নিয়ে এই পুকুর থেকে চলে যেতে হবে। না হলে যে কোন সময় এই রাক্ষুসে মাছের সামনে পড়তে হবে। আর সামনে পড়লে একটুও নিস্তার মিলবে না। মাছের কাতর কণ্ঠ শুনে ব্যাঙ বললো,বন্ধু এতো দিন ধরে এই পুকুরে এক সাথে আছি,কী করে এই পুকুর ছেড়ে চলে যাই বলতো?

তার চেয়ে,চলো দু'জনে গর্তে লুকিয়ে থাকি, দেখি কয়েক দিন পরে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়। একটা না একটা উপায়'তো বের হবে-ই। মনে রেখ বন্ধু, যে'তার নিজের জাতি ভাইয়ের ক্ষতি করে, মেরে ফেলে সে কখন-ই সফল হতে পারবে না। তুমি কয়েক দিন একটু কষ্ট করে রাতের বেলায় সাবধানে থাকিও।

দেখতে দেখতে এ-ভাবে আরো কয়েদিন কেটে গেলো। রোজ রাতের আঁধারে এভাবে-ই আরও অনেক ছোট-বড় মাছ খেয়ে ফেললো রাক্ষুসে মাছ'টা। যে পুকুর জুড়ে সব সময় শান্তি ছিলো, আজ যেন সেই পুকুর জুড়ে মৃত্যুর মিছিল। আজ রাতেও অনেক তা-ব চালিয়েছে রাক্ষুসে মাছ'টা।

তবে আজকের সকাল'টা কয়েক দিনের চেয়ে যেন একটু ভিন্ন। পুকুরের চারপাশ জুড়ে অনেক মানুষের ভিড়। অনেকে অনেক রকম কথা বলছে। মাছ ও ব্যাঙ ভয় পেয়ে গেলো। যে যার মতো করে গর্তে লুকিয়ে গেলো। একটু পরে ওরা লক্ষ করলো কয়েক জন মানুষ,কিছু একটা হাতে করে নিয়ে পানিতে নেমে পড়লো। পুরো পুকুর জুড়ে সাঁতার কেটে এক ঘাট থেকে আর এক ঘাটে চলে এলো। হঠাৎ মানুষগুলোর চিৎকার শুনে আরও ভয় পেয়ে গেলো,মাছ ও ব্যাঙ। ূওরা ভালো করে লক্ষ্য করলো তিন চারজন মানুষ মিলে ধরাধরি করে রাক্ষুসে মাছ'টাকে তীরে তুলে আনলো। এরপরে ছোট-ছোট মাছগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হলো। একটু পরে মানুষের ভিড় কমে গেল। দিন শেষে রাত এলো তবে আজকের রাত'টা ঠিক আগের মতো শান্ত মনে হলো। একটু পরে বৃষ্টি এলো,ব্যাঙ মনের সুখে গান ধরলো।

সেদিন রাতে মাছের কাছে ব্যাঙ বললো কি হলো বন্ধু?

একদিন না আমি তোমাকে বলছি যে তার নিজের জাতি ভাইয়ের ক্ষতি করে, সে কখনই ভালো থাকতে পারবে না। সে কখন-ই সফল হতে পারবে না।

সেদিনের পর থেকে আবারও পুকুর জুড়ে শান্তি ফিরে এলো। মনের সুখে,ব্যাঙ ও মাছ বসবাস করতে লাগলো। আবার ও বর্ষা এলো নতুন পানি পেয়ে মনের সুখে ব্যাঙ গান ধরলো! আর সারা পুকুর-ময় মাছ ঘুরে বেড়াতে লাগলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ