ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যানবাহনের সংকটে মানুষের ভোগান্তি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি বাস মালিক ও শ্রমিকদের আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে রাজধানীতে যানবাহনের সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকের খবরেই জানানো হয়েছে, আন্দোলন থেমে গেলেও এবং পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও রাজপথে যাত্রী বহনকারী যানবাহন চলাচল করেছে খুবই স্বল্পসংখ্যক। এর ফলে বেশির ভাগ সড়কে ও বাস স্টপেজে হাজার হাজার মানুষকে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব মানুষকে বৃষ্টিতে যেমন ভিজতে হয়েছে, তেমনি পুড়তে হয়েছে প্রচন্ড রোদেও। এভাবে অপেক্ষা করার সময় কখনো কোনোদিক থেকে হঠাৎ কোনো বাস বা টেম্পু ধরনের কোনো যানবাহন এসে হাজির হলেই গাড়িতে ওঠার জন্য রীতিমতো কুস্তি করতে হয়েছে সকলকে। কুস্তি করেছে এমনকি বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুও। এই একটি বিষয়ে স্কুলগামী শিশু-কিশোর থেকে অফিসগামী চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী পর্যন্ত প্রত্যেকেই সমান তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন। পড়ছেন মহাবিপদেও। গুরুতর অসুস্থদেরও হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। সড়কে অ্যাম্বুলেসও তেমন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ সব মিলিয়েই রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থার কারণ জানাতে গিয়ে বিভিন্ন রিপোর্টে প্রথমত শিক্ষার্থীদের অন্দোলনের কথা বলা হলেও পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের আকস্মিক ও অঘোষিত ধর্মঘটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধের দাবিতে গত ২৯ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ সে আন্দোলনের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছিলেন। অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত আন্দোলন হলেও এবং সে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ধরনের কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালানো না হলেও বিশেষ মহলের উসকানিতে মালিক ও শ্রমিকরা ভেবে বসেছে যেন ওই আন্দোলন চলছিল তাদের বিরুদ্ধে। এরই প্রতিক্রিয়ায় অঘোষিত ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজধানীর পাশাপাশি তারা সারাদেশেও অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছিল। 

এই ধর্মঘট চলেছে তিনদিনÑ গত সোমবার পর্যন্ত। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। কেন হয়নি তার কারণ জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমের রিপোর্টে বিশেষভাবে পুলিশের হয়রানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, একদিকে গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্সসহ কাগজপত্রের সঙ্গে পুলিশ ড্রাইভারদের লাইসেন্সও পরীক্ষা শুরু করেছে। এই ট্রাফিক সপ্তাহের নামেও পুলিশ প্রধানত মালিক ও শ্রমিকদের কাগজপত্র পরীক্ষার কাজেই মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ওদিকে অধিকাংশ গাড়ির যেহেতু ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই এবং খুব কমসংখ্যক ড্রাইভারেরই যেহেতু বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, সে কারণে রাজপথ থেকে শত শত গাড়ি যেমন হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে, তেমনি বৈধ লাইসেন্সধারী ড্রাইভারদেরও পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে যানবাহন সংকটের, যার ফলে প্রচন্ড ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ। 

শুধু রাজধানীতে নয়, একই অবস্থা চলছে সারা দেশেও। প্রসঙ্গক্রমে যাত্রীবহনকারী যানবাহনের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ ও লরির মতো পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের সংকটও প্রাধান্যে এসেছে। বলা হচ্ছে এবং একথা সত্যও যে, সংখ্যা স্বল্পতার পাশাপাশি মালিকরা হঠাৎ ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার ফলে পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর সে কারণে বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে।   

বলার অপেক্ষা রাখে না, পবিত্র ঈদুল আযহার ঠিক প্রাক্কালে যানবাহনের এ ধরনের সংকট এবং মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের জনসমর্থিত আন্দোলনের বিরুদ্ধে মালিক-শ্রমিকরা যে ধর্মঘট করেছেন আমরা তার নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের উচিত ছিল ঈদ পরবর্তী অন্য কোনো সময়ে তাদের ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা। তাহলে সংকট এত মারাত্মক হতে পারতো না। মালিক ও শ্রমিকদের উচিত আইনানুযায়ী নিজেদের লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র সময়মতো ঠিক করে নেয়া, যাতে এবারের মতো হঠাৎ করে সমস্যায় না পড়তে হয় এবং জনগণকেও ভোগান্তির শিকার বানাতে না হয়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কিছু করা যায় কি না সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা বিআরটিএসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ