ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঐক্যবদ্ধ হলে স্বৈরশাসক বিদায় নিতে বাধ্য হবে 

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের উদ্দেশে গণফোরাম সভাপতি ও আইনজ্ঞ ড. কামাল  হোসেন বলেছেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে স্বৈরশাসনকে বিদায় নিতে হবে বা দেশ ছাড়তে হবে। তা না হলে আমাদের সাথে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে গ্যারান্টিও দিতে পারি। তিনি বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, অন্যায় কোনদিন এদেশের জনগণ মেনে নেয়নি। তারা পরিবর্তন আনেই। দ্রুত ক্ষমতা থেকে বিদায় হন। দেশকে দেউলিয়া করার কোনও অধিকার আপনাদের নেই। তিনি বলেন, আমাদের ছাগল মনে করবেন না, আমাদের ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, ডা. জাফরুল্লাহ খান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ,ব,ম, মোস্তফা আমীন, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুণ চৌধুরী, প্রকৌশলী ম . ইনামুল হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ। 

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, এদেশ আমাদের। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম তা বাস্তবায়ন সম্ভব। ’৭১এ কেউ কি ভেবেছিল যে আমরা ন’মাসে স্বাধীন হব। এখন বলা হচ্ছে স্বৈরশাসন আমাদের শেষ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু জনগণকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র হয় না। তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ড. কামাল হোসেন বলেন, মানুষ চুরির হিসাব নেবেই। দেশ যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে, সেজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে শুধু একটি ব্যাংক থেকে। এত টাকা দিয়ে কী হয়? যারা চুরি করেছেন, তারা বিদেশে চলে যান। দেশত্যাগ করে সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন এবং ভোগ করেন। তিনি বলেন, দেশকে দেউলিয়া করে বেঁচে থাকা অর্থহীন। আমরা নীরব দর্শক হিসেবে দেখতে থাকব, আর দেশে গুম-খুন চলতে থাকবে?

তিনি সম্প্রতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেশ চালাতে হয়। তিনি বলেন, এদেশ কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী পরিবারের নয়। দেশের মালিক জনগণ। সবাই দেশের মালিক। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের মালিককে সারা দেশে প্রচার প্রচাণায় নামতে হবে। দেশ রক্ষায় জনগণকেই ঐকবদ্ধ হতে হবে। উদ্যোগ জনগণকেই নিতে হবে।

ড. কামাল হোসেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে দেশের সর্বত্র ঈদের ছুটিতে সমমনাদের কাছে যেতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ২০০৮’এ এজাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তাই আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এজাতি। তিনি বলেন, সবাই দেশের মালিক। সবাই নিজেকে দেশের মালিক হিসাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি। যে যতটুকু পারে তাকে সে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণকে বোঝানোর দায়িত্ব নিতে বলেন তিনি। কোন ব্যক্তির ওপর ভর না করতে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশকে আইনের পথে নিয়ে আসার ব্যাপারে সবাইকে বোঝাতে হবে। আর যারা উল্টো পথে আছে তাদের থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে জনগণকে বোঝাতে তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এধরনের কাজে অবশ্যই সাড়া পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নিজের কায়দায় করা সংসদ, তথাকথিত ক্ষমতা একটাও থাকবে না। ১৫৩ জন তথাকথিত সংসদ সদস্যকে মেনে নেয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান পড়ে দেখুন, দেশের মালিক জনগণ। দেখার সময় না থাকলে অনুলিপি করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনার উপলব্ধির ক্ষমতা আছে। জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হালুয়া রুটির ভাগের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি দেশবাসী। তিনি বলেন, জনগণকে কথা বলতে দিতে হবে। জনগণ কথা বললে কোনো ধরনের গুজব সৃষ্টি হবে না। জনগণকে পুলিশ দিয়ে দমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্যও গণতন্ত্র দরকার।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। কার কোন দল তা এখন বাদ। ঘরে আগুন লেগেছে তাই আজ তা নেভাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ