ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হালাল পণ্যের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোন করার পরামর্শ বিডা’র

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজস্ব মিলনায়তনে ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিডার চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার: রফতানি বৃদ্ধি, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং আরও অধিক হারে জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে হালাল পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হালাল পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “হালাল সনদের মানদ- এবং প্রতিবন্ধকতা : বাংলাদেশের সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ, সাবেক পরিচালক এম বশির উদ্দিন ভূইয়া এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির সহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম  বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ ভাগই মুসলমান। যার ফলে হালাল পণ্য উৎপাদান ও রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে হালাল বিষয়টি খাদ্য পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের সঙ্গেও জড়িত।

হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান এবং জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন আমিনুল ইসলাম। সর্বোপরি হালাল পণ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকারের পক্ষ হতে সর্বাত্মক নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ইসলামিক বাজার মূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা পৃথিবীর মোট খরচের প্রায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সারা বিশ্বে হালাল পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে ও প্রতিনিয়ত তা বাড়ছে। পৃথিবী জুড়ে হালাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ড এগিয়ে রয়েছে কিন্তু মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবেও আমরা ভালো অবস্থানে যেতে পারিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ সাইদ বলেন, মুসলিম প্রধান দেশগুলোর পাশাপাশি অমুসলিম জনবহুল দেশগুলোতে হালাল পণ্যের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হালাল পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি মার্কেট রিসার্চ এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সারা পৃথিবীতে হালাল পণ্যের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৪ সালে এটি প্রায় ১০ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়নে এসে দাঁড়াবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশে শুধুমাত্র গোশত রফতানি করছে। বিশেষ করে গো-খাদ্যে যেন কোনভাবেই ক্ষতিকারক রাসায়নিক অথবা ঔষধ ব্যবহার কার না হয় সেদিকে আরো যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। তবে ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি আগ্রহী বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ