ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৩ দিনেও কারো সন্ধান মেলেনি ॥ ছবি নিয়ে পদ্মা পাড়ে স্বজনের আহাজারি

শরীয়তপুর জেলা ও নড়িয়া উপজেলা সংবাদদাতা : শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভয়াবহ পদ্মার ভাঙ্গনে অন্তু মকদম নামে আরো এক জনের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নিখোঁজদের স্বজনরা নৌকা ট্রলার যোগে পদ্মা নদীর ভাটিতে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও গত তিন দিনে কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি নিখোঁজ ১০ জনের। পদ্মানদীর পাড়ে নিখোঁজদের স্বজনরা ছবি হাতে নিয়ে লাশের অপেক্ষায় আহাজারি করেই চলছেন। নিখোঁজ স্বজনদের একটাই দাবী তারা অন্তত লাশটি পেতে চায়। প্রশাসন বলছে, নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে কেদারপুর ও মোক্তারের চর এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২শ ৯৫ জন পদ্মার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

নড়িয়া থানা ও শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানাযায়, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার সাধুর বাজার লঞ্চঘাট ধসে পদ্মা বিলীন হয়ে যায়। এ সময় ঘাটে থাকা দর্শনার্থী ও দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেয়ার কাজে নিয়োজিত কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২ টি ট্রলি, একটি মালামাল বহনকারী মাহেন্দ্র গাড়ী ৩টি মোটর সাইকেলসহ ¯্রােতের টানে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তবে গত স্থানীয় লোকের সহায়তায় বেশকিছু লোক তীরে উঠতে পারলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নিখোঁজদের স্বজনরা নৌকা ট্রলার যোগে পদ্মা নদীর ভাটিতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গত তিন দিনে কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি নিখোঁজ ১০ জনের। পদ্মার ভাঙ্গনে নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, নড়িয়ার চাকধ গ্রামের নাসির উদ্দিন হাওলাদার, কেদারপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন বয়াতী, মোক্তারের চর এলাকার মোশারফ চোকদার, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, বরিসাল জেলার বাসিন্দা আইটেল মোবাইল কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার আল আমিন, কেদারপুর গ্রামের শাহজাহান বেপারী, মজিবুর রহমান ছৈয়াল, নড়িয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল ছৈয়াল, দক্ষিণ চাকধ গ্রামের অন্তু মকদম ও স্থানীয় চা দোকান্দার গুবি দাস। 

ঘটনার পর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল নদীতে নেমে প্রবল ¯্রােতের কারণে উদ্ধার পরিচালনায় ব্যর্থ হয়। তারা গত তিনদিন নৌকা ট্রলার যোগে নদীর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হন্য হয়ে খুজছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা লাশের অপেক্ষায় পদ্মাপাড়ে আহাজারি করছে। স্বাজনদের কান্œায় পদ্মা পাড়ের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলে পদ্মার ভাঙ্গনের তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। ভাঙ্গন রোধে সরকারের ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলে ও আইনি জটিলতায় কাজ শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিরাট একটি অংশ। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন দ্রুত পদ্মার দক্ষিনতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন। এদিকে পদ্মার ভাঙ্গনে নিখোঁজ ও আহত ব্যক্তিগনসহ কেদারপুর ইউনিয়নের ১শ ৪৫জন ও মোক্তারের চর ইউনিয়নের পদ্মার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ১শ ৫০ জনের মধ্যে ৫কেজি চাল, কেজি করে ডাল, তেল, চিড়া, মুড়ি ও চিনি বিতরণ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন, মোক্তারের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম চোকিদার, কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ প্রমুখ।

বরিশালের নিখোঁজ আল আমিন হাসানের ভাই রুহুল আমি বলেন, আমার ভাই আইটিএল মোবাইল কোম্পানীর সেলস এক্সিকিউটিভ। সে এ এলাকায় মার্কেট ভিজিটে গিয়ে ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়। তিন যাবত তার খোঁজ করে ও কোন কুল কিনার করতে পারছি না। আমার ভাই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। আমরা ভাইয়ের লাশটা খুঁজে পাচ্ছি না।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন, নদীতে প্রচন্ড ¯্রােতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে। তবে নৌযান নিয়ে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ২টি ডুবুরীদল পদ্মা নদীর ভাটিতে চাঁদপুর মোহনা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছি। এ পর্যন্ত কোন লাশের সন্ধান মিলেনি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন বলেন, আরো একজন নিখোঁজের সংবাদ পেয়েছি। তবে এখনো কোন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তাদের খুঁজে পেতে সকল প্রকার কার্যক্রম জেলা প্রশান চালিয়ে যাচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারদের আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ