ঢাকা, শুক্রবার 10 August 2018, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অধ্যাপক আফতাব হত্যা মামলায় তৃপ্তি কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী। অধ্যাপক আফতাব আহমেদ হত্যা মামলায় তৃপ্তিকে সিআইডি গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদনসহ গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার আদালতে নিলে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টের আদেশ থাকার বিষয়টি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম ফাহদ বিন আমিন  চৌধুরী রিমান্ডের আবেদনে কোনো আদেশ না দিয়ে তৃপ্তির আইনজীবীদের হাইকোর্টের আদেশটি আগামী সোমবার নিয়ে আসতে বলেন। সেদিন পর্যন্ত যশোরের শার্শার সাবেক এই সংসদ সদস্যকে কারাগারে রাখার আদেশ দেন হাকিম।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আফতাব হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পর এতে জড়িত সন্দেহে বুধবার রাতে ঢাকার বনানীর বাসা থেকে তৃপ্তিকে গ্রেফতার করে মামলাটির তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৃপ্তি জরুরি অবস্থা জারির পর ২০০৮ সালে ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবার স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছিলেন।

২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে একদল দুর্বৃত্ত ঢুকে ড্রয়িংরুমে গুলী করে ড. আফতাবকে হত্যা করে। তখন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। পরে মামলাটি পুলিশ ও ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে সিআইডিতে হস্তান্তর হয়।

 গ্রেফতার তৃপ্তিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক সুব্রত কুমার সাহা; তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে চান তৃপ্তিকে।

রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, “এমামলার আসামী সানজিদুল হাসান ইমনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে মফিকুল হাসান তৃপ্তি হত্যার সঙ্গে জড়িত মর্মে প্রকাশ পায়, যার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল করে তৃপ্তির জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ওমর ফারুক, নূরুজ্জামান তপন।

মাসুদ তালুকদার বলেন, আফতাব হত্যা মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন বলে আঁচ পেয়ে ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদন করেছিলেন তৃপ্তি। তখন হাই কোর্ট বেঞ্চ পরোয়ানা ছাড়া তাকে গ্রেফতার না করার রুল দেয়। “সেই রুলটি শেষ বহাল আছে। সুতরাং তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননা। তাছাড়া আজও সিআইডি রিমান্ড আবেদনের শুরুর লাইনেই তাকে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী বলেছেন।”

হাকিম হাইকোর্টের ওই আদেশ দেখতে চাইলে তৃপ্তির আইনজীবীরা এজন্য সময় চেয়ে বলেন, তারা পরে তা দেখাতে পারবেন। এরপর হাকিম ফাহদ বিন আমিন সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রেখে তৃপ্তিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় কাঠগড়ায় থাকা তৃপ্তিকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। আদেশের পর তাকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ