ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানের গজনিতে তালেবান- সেনাবাহিনী সংঘর্ষে নিহত অর্ধশতাধিক

১০ আগস্ট, আলজাজিরা/রয়টার্স : আফগানিস্তানের গজনি শহরের কিছু অংশ দখলকারী তালেবান সদস্যদের হটিয়ে দিয়ে এলাকাটি পুনর্দখলের দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে তালেবানের ৩০ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ সদস্য রয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ ও গজনির প্রাদেশিক পুলিশকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় গজনি শহরে হামলা চালায় তালেবান সদস্যরা। বিভিন্ন ঘর-বাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকায় শেল হামলা চালায় তারা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দখলে নেয় শহরের কিছু অংশ। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দিনগত রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আফগান বাহিনী ও তালেবান সদস্যদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলতে থাকে। আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলো না স্থানীয়রা। দক্ষিণাঞ্চলীয় আফগানিস্তানের সঙ্গে কাবুলের সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধ শেষে শুক্রবার তালেবানকে হটিয়ে শহরটি পুনর্দখলে নেওয়ার দাবি করে আফগান বাহিনী।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রাডমানিশ পরে বলেন, সেনাবাহিনী পুলিশকে সহায়তা করেছে এবং এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারি বাহিনীর হাতে রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের পর পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। কিভাবে তালেবান শহরটিতে অনুপ্রবেশ করলো তা জানার চেষ্টা করছে তারা।

গজনি সিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাজ মোহাম্মদ হেমাত জানান, তালেবানের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ২০ জন আহত হয়েছে। প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান ফরিদ আহমেদ মাশাল মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত তালেবান সদস্যদের মরদেহ রাস্তাতেই পড়ে আছে। শহরের দক্ষিণ প্রান্তের একটি সেতুর নিচ থেকে ৩৯ তালেবান সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে বন্দুকযুদ্ধ চলাকালীন আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রাতভর সরকারি বাহিনী ও তালেবান সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এক পর্যায়ে কাবুলের সঙ্গে গজনিকে সংযোগকারী হাইওয়েটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। গজনির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তালেবান সদস্যরা আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।’

গাজনি পুলিশ প্রধান জেনারেল ফরিদ আহমদ মাশাল বলেন, তালেবানরা নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা দখল করেছে। এই হামলা আশেপাশের জেলাগুলোতে কয়েক মাসের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার হুমকি দিচ্ছে। আফগান বাহিনীকে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার ও ড্রোন পাঠিয়েছে।

রাজধানী কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টার থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে গাজনিতে লড়াই শুরু হয়। এরই মধ্যে আফগান বাহিনী সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে নগরীতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। তবে ছবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মুসলমানদের ধর্মী উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আফগানিস্তানের ১৭ বছরের যুদ্ধের অবসানে  আলোচনা শুরু হওয়ার যে আশা করা হয়েছিল শুক্রবারের হামলায় তা ভেস্তে গেল বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ