ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা ও ঈদের পূর্বে বেতন বোনাস পরিশোধ করার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের ৭ দিন পূর্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের পূর্ণ উৎসব বোনাস ও আগস্ট মাসের অর্ধ বেতন পরিশোধ এবং কালক্ষেপণ বন্ধ করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৮ হজার  টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গার্মেনট শ্রমিক ফ্রন্ট।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে এই দাবি জানায়। এসময় সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক জুলফিকার আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সম্পা বসু, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক ও খুরশিদ আলম মিথুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার গত মাসে রাষ্ট্রীয় কলকারখানার শ্রমিকদের জন্য নতুন যে মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সেই মজুরি কাঠামো অনুসারে নিম্নতম মজুরি ৩ বৎসরের ইনক্রিমেন্টসহ বর্তমানে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ টাকা। সরকারের এই মজুরি ঘোষণার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, বর্তমান বাজারদর অনুসারে মজুরি ১৮ হাজার টাকার কম হলে ন্যূনতম মানবিক জীবন-যাপনের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রায়ত্ব কলকারখানার অবস্থা অত্যন্ত রুগ্ন বিপরিতে চলতি বৎসর জাতীয় রপ্তানী আয়ের ৮৩ দশমিক ৫ ভাগ এসেছে গার্মেন্ট খাত থেকে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। অথচ সেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি কমানোর জন্য বহুমুখী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়। একদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণায় কালক্ষেপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষ এমন মজুরি প্রস্তাব করেছে যা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রকৃত মজুরি কমিয়ে দেবে। সরকার মনোনীত শ্রমিক প্রতিনিধিও শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করে কম মজুরি প্রস্তাব করেছে। আবার সিপিডি গবেষণা, ২০১৬ সালের গবেষণার ফলাফলে বলেছিল পুষ্টিমান বিবেচনায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৭হাজার টাকার বেশী হওয়া প্রয়োজন। তাদের বর্তমান গবেষণার ফলাফলেও তারা বলছে শ্রমিকরা যে সকল দ্রব্য ব্যবহার করে সেই সকল দ্রব্যে গত ৫ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৭.২% হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অথচ বর্তমানে অত্যন্ত কম মজুরি প্রস্তাব করে ২২ বা ২৩ আগস্ট ঈদ উদযাপিত হবে, তাই গার্মেন্ট শ্রমিকদের অন্তত আগস্ট মাসের অর্ধ বেতন ও পূর্ণ উৎসব বোনাস কমপক্ষে ঈদের ৭ দিন আগে পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে  সরকারের প্রতি আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ এই সকল অপতৎপরতা বন্ধ করে নিম্নতম মজুরি ১৮ হাজার টাকার ভিত্তিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো অবিলম্বে ঘোষণা করার জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০ তারিখের পরে ঈদ হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চলতি মাসের বেতন ঈদের আগেই পরিশোধ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ