ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে জমে উঠছে কুরবানির পশুর হাট ॥ চাহিদা দেশি গরুর

রাজশাহী : গতকাল রাজশাহী সিটি হাটে কুরবানির পশুর আমদানি ছিল প্রচুর -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : আর মাত্র দেড় সপ্তাহ পর পবিত্র ঈদুল ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদ। এ উপলক্ষে রাজশাহীর পশু হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। এবারেও দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর সিটি পশুর হাট সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষিতে মুখর হয়ে উঠে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃৎ এ হাট। এখানে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ভিড় জমাচ্ছেন। এদিন অন্যান্য পশু সরবরাহও বেড়েছে। হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি বেশি। তবে দেশি গরু কম হলেও চাহিদা ও দাম দুটোই বেশ চড়া। মহিষের আমদানিও চোখে পড়ার মতো। বিক্রেতারা বলছেন, গত তিন বছর থেকে ক্রেতাদের কাছে দেশি গরুর চাহিদা বেড়েছে। ফলে অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাড়িতে ছোট আকারের খামার তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারগুলোতে গরু পালনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তাই দেশি গরুর দাম এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। রাজশাহী সিটি হাট ছাড়াও নাওহাটা হাট, বানেশ্বর হাট, কেশরহাট, কাটাখালি হাট, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট, মহিষাল বাড়ি হাট ও মাচমইল হাটে কুরবানির পশুর দামের তারতম্য একই। রাজশাহী সিটি হাটে ছোট সাইজের গরুর (৬০ কেজি গোশত) দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের গরুর (৮০ কেজি গোশত) দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার ও বড় সাইজের গরুর (১০০-১৪০ কেজি গোশত) দাম ৯০ থেকে ১ লাখের ওপরে হাঁকা হচ্ছে। অপরদিকে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের কোরবানির ছাগলের দাম ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা, ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা ও ২০ থেকে ২৫ কেজি মাংস হবে এমন ছাগলের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে পাইকারি দামে গরু কিনে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন এমন পাইকাররা জানান, ভারতীয় গরুর দাম গত বছরের মতই রয়েছে। তবে দেশি গরুর দাম এবার তুলনামূলক বেড়েছে। এজন্য গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কথা বলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে পড়বে। তবে ভারতীয় গরু কম আসলে দেশীয় খামারিরা শেষ সময়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। সিটি হাটের গরু বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় হাটে গরু ও ছাগল আমদানি ও কেনাবেচা বেড়েছে। তবে হাটে দেশি গরুর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। কারণ, সারা বছর ধরে একজন খামারিকে গরু লালন-পালন করতে হয়। বাজারে গো-খাদ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এর ওপর কৃষি বিভাগের দেখানো স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে লালন-পালনের খরচ বাড়ায় গরুর দাম এবার কিছুটা বেড়েছে। তবে খরচ বাদে সামান্য লাভ পেলেই গরু ছেড়ে দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। হাটের ক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, শহরে বাড়িতে আগেভাগে কোরানির গরু কিনে রাখা দায়। তবে কোনো কোনো সময় শেষ দিকে পশু সংকট দেখা দিলে দাম দ্বিগুণ হয়। তাই হাতে ১০/১২ দিন সময় হাতে রেখেই কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন। কিন্তু গতবারে তুলনায় দেশি গরুর দাম বেশি। তার অভিযোগ গতবছর মাঝারি আকৃতির গরু ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া গেছে। কিন্তু এবার সেই গরুর দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা। তাই এবার তার মত অনেকেরই কোরবানির খরচ বাড়বে বলেও জানান এই ক্রেতা। রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন জানান, এবারের কোরবানির মৌসুমে প্রথম দিকে হাটে মহিষের আমদানি বেশি ছিল। কিন্তু সময় ঘনিয়ে আসায় এখন গরুর সরবরাহ বাড়েছে। তবে হাটে ভারতীয় গরু থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে দেশি গরুর চাহিদা বেশি। হাটে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। সেজন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ