ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে -মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের শেষ সময় এসে গেছে। আমি অনেক দিন আগে একটি কথা বলেছিলাম, অতি দ্রুত রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটবে। কখন, কোথায়, কী ঘটবে আমরা কেউ তা জানি না। শুধু এটুকু জানি দেশে কোনো সরকার নেই। যেটুকু আছে সেটুকুরও পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে। দ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটবে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা কেন?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এরপরে শহিদুল আলমের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে এটা অকল্পনীয়। সরকার একদম বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আর নেই। জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই উপলব্ধি আজকে তাদের মধ্যে এসেছে বলেই তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেজন্য তারা সব শ্রেণীর মানুষের ওপর এত নির্যাতন করছে। ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার যে নির্যাতন করেছে এটা তাদের (সরকারকে) বুমেরাং করবে। সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। যতই নির্যাতন করুন, শিক্ষার্থীদের মূল্য আপনাদেরকে দিতেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা শিক্ষার্থীদের কারাগারে না পাঠাতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন। বলেছিলেন মাফ করে দিতে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন তাদের ক্ষমা নেই। এতে প্রমাণিত হয় শিক্ষামন্ত্রী হামলাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। যে ২২ জন ছাত্রকে রিমান্ডে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের রক্ত বৃথা যাবে? কী চেয়েছিল তারা? অন্যায় কোনো দাবি তো ছিল না তাদের। কিন্তু এখানেও একটা ফাঁকিবাজি ব্লাফ, যে প্রতারণা তারা করেছিল কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে। একইরকম প্রতারণা করা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের সাথে।
তিনি বলেন, সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, কিন্তু কোনও সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনও গ্রেফতার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল, সোনা চুরি হলো, কয়লা চুরি হলো, পাথর চুরি হলো, কঠিন শিলা চুরি হলো, কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।
মওদুদ বলেন, আমাদের নেত্রী কারাগারে, সবাই মামলায় জর্জরিত। বিএনপিকে নিঃশেষ করার যেই পরিকল্পনা, তাতে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু তাতে কি দেশের কোনও উন্নতি হয়েছে? প্রকৃতির যে আইন তা নিজস্ব গতিতে চলে। এর একটি দৃষ্টান্ত কোটা আন্দোলন এবং আরেকটি হলো শিক্ষার্থীদের হত্যার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন। এগুলো কী আমরা কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলাম? আজকে এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে এটা কি আমরা কখনও ভেবেছিলাম? এটাকেই বলে প্রকৃতির আইন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক ব্যক্তি। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার এই বক্তব্যের পরেই অন্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ