ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উন্নয়নের ধারায় কাউকে পেছনে রাখা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার: উন্নয়নের ধারায় কাউকে কোনোভাবেই পেছনে রাখা যাবে না। প্রতিটি মানুষকেই উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষকে অবশ্যই উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কৌশলগুলো চিহ্নিত করে তাদের ইচ্ছে ও কর্মশক্তিকে বাড়াতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে প্রথমবারের মতো রাজধানীর চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি)-তে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
 ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি। গ্র্যান্ড ফাইনালে ‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষায় সরকারের করণীয়’-শীর্ষক চূড়ান্ত লড়াই-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও রানার আপ হয় ইডেন মহিলা কলেজ। তৃতীয় স্থান অধিকার করে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়।
 বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর মোট বাজেটের ৪-৫% বরাদ্দ, সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কমপক্ষে ৩% কোটাসংরক্ষণ, , জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি হিসেবে ২-৩টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ, দুঃস্থ প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, চিত্তবিনোদন, সর্বস্তরে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করাসহ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের দাবি জানান।
ড.মোজাম্মেল হক খান বলেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এর মূল লক্ষ্য- উন্নয়নের ধারায় কাউকে কোনোভাবেই পেছনে রেখে যাবে না। প্রতিটি মানুষকেই উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সেই নিরিখে দেশের ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষকে অবশ্যই উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কৌশলগুলো চিহ্নিত করে তাদের ইচ্ছে ও কর্মশক্তিকে বাড়াতে হবে। এতে করে তারা আরো কাজ করতে উৎসাহী হবে।
 তাদেরকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে এই সরকারের অবদান অন্য যে কোনো সরকারের তুলনায় অগ্রসর। প্রতিবন্ধীবান্ধব এই সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
মমতাজ বেগম বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ আগে গ্রহণ করা হলে এখন সমস্যায় পড়তে হতো না, ৪৭ বছরে অনেক এগিয়ে যেতাম।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নসহ তাদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের প্রচেষ্টা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। শুধু তাই নয় প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় নাগরিক হিসেবে আমরা যারা অপ্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে তারাও সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। তিনি ২০০৮ সালের সরকার মহানগর ইমারত বিধিমালায় প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা পার্কিং, টয়লেট, র‌্যাম্প তৈরির কথা উল্লেখ করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনে ভাতা প্রদান, শিক্ষা গ্রহণ ও চিকিৎসা সেবাসহ নানা অধিকারের কথা বলা থাকলেও তারও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ