ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পেঁয়াজ-আদাসহ মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী

স্টাফ রিপোর্টার: শীতের আগেই বাজারে এসেছে শীতকালীন সবজি শিম। কিন্তু দাম আকাশচুম্বী। কেজি ১৫০-১৬০ টাকা। এদিকে কমছে না পেয়াঁজসহ বিভিন্ন মসলার দাম। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নতুন করে বাড়ছে আদার দাম। সবজি বাজারে পেপেসহ দু’একটি সবজির দাম কমলেও বৃদ্ধি পাওয়া চাল ও ডিমের দাম কমেনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, এখনো দেশী পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। আমদানি করা পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এদিকে নতুন করে বেড়েছে আদার দাম। প্রতি কেজিতে ১০-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আদা।
এদিকে সবজি বাজারে এসেছে শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত শিম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। শিমের পাশাপাশি চড়া দামে বক্রি হচ্ছে ফুলকপি, পাকা টমেটো ও উস্তে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিম ও ফুলকপি শীতকালীন সবজি। শীত আসতে এখনও  বেশ সময় বাকি আছে। তবে শীতের আগাম সবজি হিসেবে শিম ও ফুলকপি ইতোমধ্যে বাজারে চলে এসেছে। আগাম বাজারে আসায় এ দু’টি সবজির দাম একটু চড়া। তারা বলছেন, গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কম ছিল। ঢাকায় ট্রাক মালিকরা ট্রাক পাঠাতে আতঙ্কে ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করায় বাজারে সব রকম সবজির সরবরাহ ভালো। তাই দাম কমতে শুরু করেছে।
বাজারে দেখা  গেছে, মান ও বাজার ভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। ছোট আকারের ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। আর পাকা টমেটো ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাচামরিচ বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অজুহাতে প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি হয়েছে প্রতিটি সবজি। গত সপ্তাহে বাজারে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মতোই খুঁচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি হালি ডিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ ও মুরগির দাম। বাজারে গত সপ্তাহের মতো বয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি জোড়া কর্ক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকা। আর গরুর গোশত ৫২০ টাকা ও খাসি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর মাছের বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-২০০, আইড় ৪০০-৬০০ টাকা, বাইলা ৩৬০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪৫০-৬০০ টাকা, পুঁটি ১৮০-২০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৬০০ টাকা, মলা ৩২০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৭০০, দেশি মাগুর ৫০০-৭০০ টাকা, শোল ৫০০-৭০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। এদিকে স্বপ্ন সুপারশপে চলছে দেশি মাছের মেলা। তারা বিভিন্ন মাছের দামে ছাড় দিচ্ছে।
চালের বাজারে মোটা স্বর্ণা চালের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৮ টাকা। পাইজাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা এবং মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকা দরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ