ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নগরীর সড়কগুলোর অবস্থা শোচনীয় দুর্ভোগের শেষ নেই

মাহমুদুল হক আনসারী : কয়েকদিনের লাগাতর বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা। জোয়ার ভাটা ও বৃষ্টির পানিতে নগরীর অনেকগুলো রাস্তা ও এলাকা প্রতিনিয়ত ভাসছে। পানিবদ্ধতার পর যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে সেটি হলো সড়কের বিদ্ধস্ত অবস্থা। নগরীর সবকটি প্রধান ও উপসড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। অতিবৃষ্টির কারণে সড়কগুলোর মরণদশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আগের পানিবদ্ধতা বাদ দিলে সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে ভয়াবহ পানিবদ্ধতায় সড়কগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। জুলাই মাসের প্রবল অব্যাহত বৃষ্টিতে ৩০০ কিলোমিটরের অধিক সড়ক আগেই ভেঙ্গেছে। পানিবদ্ধতায় সড়কগুলোর গর্ত ও খানা খন্দকের ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে সড়কে যান চলাচলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী সময় যাচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে নগরের কোথাও কোথাও সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘন্টা। পিচ ওঠে বড় বড় গর্ত তৈরী হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর অসংখ্য সড়কে। এসব গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি ও কাদা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি। তাই বলা যায়, যাতায়াতে দুর্ভোগের অন্ত নেই নগরবাসির। সময় এবং অর্থ ভোগান্তি লেগেই আছে।বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদনে উঠে আসছে বর্ষণের পর ভাঙ্গা সড়কে জনদুর্ভোগের কথা। বৃষ্টি ও জোয়ারের ব্যাপক ক্ষতিতে জনদুর্ভোগের মাধ্যমে নগরবাসীকে সাথে যে সমস্যা ভোগতে হচ্ছে তা হলো সড়কের বিড়ম্বনা। বেহাল রাস্তা ঘাটে চলাচলই যেন দায়। নগরীর প্রায় সড়কেরই করুণ দশা। এমনকি হাড়গোড় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয় কোনো কোনো সড়কে। প্রতিবছর রাস্তা মেরামত করা হয়, আবার যথারীতি বর্ষণে ভেঙ্গে যায় সেসব সড়ক। এর পর কখনো বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ভিটুমিন মেশানোর চেষ্টা এবং কোথাও কোথাও গর্তে ইট বালু বসিয়ে মেরামতের চেষ্টাও দেখা যায়। এভাবে চলছে সড়ক বিড়ম্বনা নগরবাসীর।এছাড়া নগরীর অধিকাংশ সড়কে সৃষ্ট খানা খন্দকগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। এসময় এসব গর্ত দেখতে মনে হয় রাস্তার উপর একেকটা যেন ছোটছোট ডোবা। এসব রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পরিবহন ও নগরবাসী। পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যে দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার একশত চোয়াত্তর কিলোমিটার। চলতি বছরের অধিক হারে ভারি বৃষ্টিতে মোট সড়কের চল্লিশ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব সড়কের কোথাও পিচডালাই উঠে গিয়ে বড় গর্ত, কোথাও খানাখন্দক সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চলছে ওয়াশার পানির পাইপ লাইন বসানোর খোড়াখুড়ি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ সাথে চলছে। এতে নগরবাসীর ভোগান্তির পরিধি আরো বেড়েছে।সিটি কর্পোরেশনের তথ্যনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোর্ট কানেকটিং রোড় ৬ কিলোমিটার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড় ২ কিলোমিটার, ডি টি রোড় ৬ কিলোমিটার,স্টাম রোড় ৩ কিলোমিটার, সিডিএ এভিনিউ রোড় ৬ কিলোমিটার, বায়েজিদ বোস্তামী রোড়, খাজা রোড়, মিয়া খান নগর রোড়, হালিশহর রোড় এবং বহদ্দার হাট নতুন ব্রিজ রোড়ের করুণ অবস্থায় জনভোগান্তি  সীমাহীন পর্যায়ে পৌছেছে। এছাড়াও নগরীর অনেকগুলো  দজবঙ্গ সড়কের হিসেব নেই। নগরীর কিছু কিছু রাস্তায় ইট বালি দিয়ে ক্ষণস্থায়ীভাবে রাস্তা মেরামতের কাজ চললেও দুর্ভোগ খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে মনে হয় না। উন্নয়নের কর্মসূচীতে নগরীর প্রায় সবগুলো সড়ক খোড়াখুড়িতে ব্যাস্ত। একদিকে সিটি কর্পোরেশন অন্যদিকে ওয়াসা এবং ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। দেখা যায় সিটি মেয়র, সিডিএ চেয়ারম্যান কোনো কোনো সড়ক পরির্দ্শন করে দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার কথা বলছেন। এসময় তারা উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন। এখানে কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে নানা কথা শুনতে পাওয়া যায়। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ে কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। নগরীর উন্নয়নে সবচেয়ে বেশী যেটি সমস্যা হিসেবে সেটা হচ্ছে সমন্বয়হীনতা। উন্নয়ন কর্মকা-ে সেবা সংস্থা সমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করছে সচেতন মহল। একটি সংস্থা কাজ শেষ করলে আরেকটি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ শুরু করে। খোড়াখুড়ি আর পাইপ বসানোর মতো কাজ সারা বছরই লেগে আছে। একটি সড়কও যেনো খোড়াখুড়ির বাইরে নেই। সমন্বয় অর্থ প্রাপ্তি সব সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মধ্যে হস্তগত হলে হয়তো এসব উন্নয়ন কাজে আরো গতি এবং জনভোগান্তি কমতো। নগরীর বাইরের সড়কগুলোর কথা বললে লেখার পরিধি অনেকগুণ বাড়বে। জেলা উপজেলার সড়কগুলোর করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে চলতি মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে। রাস্তার উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষ করে বৃষ্টির আক্রমণে পড়লেই রাস্তাগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। বাস্তবে কী পরিমাণ রাস্তার জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং সেখানে খরচ করা হয় তা জনগণ ওয়াকিবহাল নয়। তারপরও জনগণের দাবী হলো রাস্তাগুলো ঠিকঠাক রাখা।হয়তো সড়কের উন্নয়নের  সিংহভাগ অর্থ নানাভাবে ভাগ ভাটোয়ারা হয়ে পকেটস্থ হয়ে যায়। ফলে সময় যেতে না যেতেই সড়কগুলোর করুণ অবস্থা। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। সারাদেশেই এমন ধরনের সড়কের করুণদশা নিউজ পেপারে আসছে। এসব ভোগান্তির অন্যতম কারণ যথা সময়ে উন্নয়ন কর্মকা- শেষ না করা, উন্নয়নের অর্থ লুটপাট হয়ে যাওয়া এবং সমন্বয়হীনতা। দুর্নীতির উর্ধ্ধে উঠে জনস্বার্থে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সংশ্লিষ্ট সকলকেই আপন জায়গা থেকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব শেষ করতে হবে। এধরনের মানসিকতা যতদিন জনগণের মধ্যে তৈরী হবে না সে পর্য্ন্ত জনভোগান্তির কোনো কুলকিনারা আসা করা যায় না। শহর থেকে নগরে যাতায়াত করায় দূরহ অবস্থা। উপজেলা এবং সবগুলো ইউনিয়নের উপসড়কের অবস্থা করুণ বলা চলে।
এখানে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে শহর ও নগরে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। নাগরিক কর্মকা- চালাতে গিয়ে সড়ক ও পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেখানেই জনদুর্ভোগ আর ভোগান্তি।এসব সড়কের উন্নয়ন সংস্কার যথাসময়ে হওয়া দরকার। এর জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন যথাসময়ে অর্থ প্রাপ্ত হলেই এসব রাস্তা ঘাটের হয়তো বা সংস্কার দেখা যাবে। কিন্তু এ দীর্ঘ সময় খানাখন্দকে ভরা এসব গ্রামীণ জনপদের কী সুরাহা বা সমাধান আমার জানা নেই। স্থানীয় প্রশাসন জেলা প্রশাসন তাদের সমন্বয়ে গ্রামীণ এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর জরিপ ও হিসেব করে সংস্কারের উদ্দ্যোগ নিলে হয়তো গ্রামের জনগণ কিছুটা হলেও রাস্তায় চলাচলের ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। আশা থাকবে প্রশাসন শহর ও নগরের বিধ্বস্ত সড়কসমূহ খুব কম সময়ের মধ্যে জন ও যান চলাচলের উপযোগী করে তুলবেন।
-গবেষক, প্রাবন্ধিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ