ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তরুণদের ডিপ্লোমা শিক্ষার ব্যাপক প্রসার চাই

আবুল হাসান/খনরঞ্জন রায় : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ‘তের-চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই’। এই বয়সের ছেলেমেয়েদের সামনে থাকে অদম্য আশা আর জীবনজগত সম্পর্কে থাকে অতি কৌতূহল। মানুষের জীবনের ধাপগুলো হলো শিশু, কিশোর ও বয়স্ক (Childhood, adolescent and Adult) । শিশু বয়স বলতে জন্মের পরে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত। অবশ্য দেশভেদে বয়সের তারতম্য ঘটতে পারে। কিশোর বলতে শিশু ও বয়স্ক মানুষের মধ্যবর্তী সময়কালকে বুঝানো হয়।
মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে মনোবিজ্ঞানীরা কিশোর বয়সকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মনোবিজ্ঞানী কিশোর বয়সকে বলেন- Age of Turmoil অর্থাৎ সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। কারণ হলো শিশু বয়সীরা যখন কিশোর বয়সে পদার্পণ করে তখন তারা মনে করে আমি কোথায় ছিলাম, কোথায় যাচ্ছি তার কারণ হলো মানুষের বয়সের বিভিন্ন ধাপে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এ বয়সেই।
ব্যক্তিত্বের উন্মেষ শৈশবে হলে কিশোর বয়সে ঘটে ব্যক্তিত্বের জাগরণ। এটাই বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময় কিশোরের শরীরে-মনে যে আলোড়ন ঘটে, তাতে ভাঙা-গড়া, উল্লঙ্ঘন-উত্তরণ দুটি ক্রিয়ারই প্রণোদনা কাজ করে। তারা চায় সনাতন সাধারণ গতানুগতিকের গন্ডি ভেঙে নতুন, অসাধারণ, গ-িছাপানো কোনো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। তাকে মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত করে, কিশোরই পারে তেমন আদর্শের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতে। আমাদের ইতিহাস থেকে আমরা চৌদ্দ বছরের কিশোর বিপ্লবী ‘ক্ষুদিরাম বসু’র নাম করতে পারি, সে দেশের স্বাধীনতার জন্য হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েছিল। কিশোরসমাজ যেকোনো জাতির উন্নয়নের চালিকাশক্তি। আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও কিশোরসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষার দাবিকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল কিশোর যুবসমাজ। এদেশের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল কিশোর যুবকের ত্যাগের বিনিময়ে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রক্ত হিম করা অনেক কাহিনীর একটি নরসিংদীর বৌয়াকড়স্থ ১১ বছরের জামালকে টেলিফোন এক্সেচঞ্জ অফিসে স্থাপিত পাক বাহিনীর সেনা ছাউনিতে ধরে এনে হাত বেঁধে বারবার বলা হয়েছিল, বল পাকিস্তান জিন্দাবাদ। সে প্রতিবার উচ্চারণ করেছিল, ‘জয় বাংলা’। টোপ দেওয়া হলো, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বললে তাকে মুক্তি দেয়া হবে। তবু কিশোর রাজি হয়নি। সে আবারো বলেছিল, জয় বাংলা। শেষে তাকে বলা হলো পাকিস্তান জিন্দাবাদ বললে মিলবে মুক্তি আর জয় বাংলা বললে গুলি, নির্ঘাত মৃত্যু। সেই কিশোর তখন মাতৃভূমির মাটি কপালে ঠেকিয়ে বাংলা বলতে বলতে প্রাণ দিয়েছিল।
শুধু জামাল নয়, দেশের জন্য তখন লড়াই করেছিল অসংখ্য শিশু-কিশোর। বয়সের কারণে মুক্তিবাহিনীতে ওদের জায়গা হয়নি সহজে। কিন্তু ওদের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছেন অনেক বাঘা বাঘা মুক্তি কমান্ডারও। এমনও ঘটেছে, রাইফেলটাও ঠিকমতো তুলে ধরতে পারে না, তবু মুক্তিযুদ্ধে এসেছে। তবে শিশু-কিশোর মুক্তিযোদ্ধারা ছিল অসীম সাহসী। অসীম তাদের বুকের বল।
আরেক কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটো। পুরো নাম গোলাম দস্তগীর টিটো। বিজয় দিবসের মাত্র দুদিন আগে, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর এক অপারেশনের শহীদ হয় টিটো। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে তখন লড়াই করছিল টিটো। লড়াইটা হয়েছিল সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কলমা গ্রামে।
আরেক অসীম সাহসী কিশোর মোজাম্মেল হক। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীরপ্রতীক খেতাব পেয়েছেন। বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া এমনি আরেক কিশোর মুক্তিযোদ্ধা লালু। পুরো নাম শহীদুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। টাঙ্গাইলের দামাল কিশোর। অসীম সাহসের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের নানান রকম সাহায্য-সহযোগিতা করেন। লড়াই করেন গোপালপুর, ভূঞাপুর, মধুপুর ও নাগরপুরের বেশ কয়েকটি রণাঙ্গনে। সবচেয়ে কমবয়সী বীরপ্রতীক খেতাব পেয়েছিলেন তিনিই। লালু ছিলেন একেবারে পুঁচকে এক মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা দেয়া অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতির কাছে অস্ত্র জমা দিতে এলেন লালুও। কিন্তু ওই খুদে মুক্তিযোদ্ধাকে দেখে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ভীষণ অবাক। মঞ্চ থেকে নেমে খুদে লালুকে কোলে নিয়ে মঞ্চে বসালেন রাষ্ট্রপতি।
এদের মতো অনেক খুদে মুক্তিযোদ্ধা লড়াই করেছেন। কেউ লড়াই করেছেন পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি। কেউ গোপন খবর এনে দিয়েছেন। কেউ মুক্তিযুদ্ধাদের নানা কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। যুদ্ধ করতে করতে কেউ শহীদ হয়েছেন। কেউ এখনও বেঁচে আছেন। গৌরবোজ্জ্বল কিশোর ভূমিকার ঐতিহাসিকতার মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলায় সাক্ষাৎ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুন, অপরণ, মারধর হেন অপরাধ নেই যা তারা করছে না। মাদকের সঙ্গেও রয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোর সংশ্লিষ্টতা।
এসব গ্রুপ গঠনে নেপথ্য ভূমিকা পালন করছেন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। কিশোর গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের গডফাদাররা ফোন করে বসেন। তাই পুলিশ এতদিন গ্যাং  গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সংশয়ে ভুগেছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তারের অশুভ উদ্দেশে উত্থান হয়েছে এসব গ্যাং গ্রুপের। অনেক স্কুল ও কলেজে একাধিক গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। খেলা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে পান থেকে চুন খসলেই এরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে। কিছু কিছু গ্রুপের বিরুদ্ধে ইভটিজিং ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ আছে। বোমাবাজিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসেও এরা পারদর্শী। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ৯ম শ্রেণির স্কুলছাত্র আদনান ইসফারের হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ গ্যাং গ্রুপগুলোর তৎপরতা রোধে তালিকা তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। তবে এ ধরনের ঘটনা শুধু বড় বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, সারাদেশেই রয়েছে কিশোর গ্যাং  গ্রুপের তৎপরতা। এক্ষেত্রে হাতে হাতে মোবাইল ফোনে নষ্ট হচ্ছে আগামীর প্রজন্ম। প্রাণঘাতী গেমসে ঝুঁকছে অনেকেই। ইন্টারনেটে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ছে তারা।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কিশোর অপরাধের প্রবণতা বাড়লেও সাম্প্রতিককালে এ প্রবণতা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে বিদ্যমান, হতাশা, নৈরাজ্য আর দারিদ্র্য কিশোর অপরাধ সৃষ্টির প্রধান কারণ। শহরের দূষিত পরিবেশে মানবেতর জীবন-যাপন ও অশিক্ষা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য কিশোরদের চুরি, ছিনতাই, সর্বোপরি খুনের মতো অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য করে।
কিশোর অপরাধের নানা মাত্রিকতার মাঝে অন্যতম অপরাধ বাল্যবিয়ে। এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল Adolescent Pregnancy বাংলা ভাবান্তর ‘কৈশোরে গর্ভধারণ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ’। কিশোরী গর্ভবতী মহিলারা কম ওজনের সন্তান জন্মদান করে। এদের গর্ভজাত শিশুরা মারাত্মক পুষ্টিহীনতার শিকার হয়। কিশোরী মা ও তার সন্তানের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের চিত্র ভয়াবহ। এদেশে বিবাহের বয়স সংক্রান্ত সুস্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে অভিভাবকদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ১০ হতে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের তথ্য জরিপে না আনলেও এ বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশে এখনো প্রায় ৩০% মেয়েদের ১৫ বছরের আগেই বিয়ে হয়, ৬৫% মেয়েদের বিয়ে হয় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে এবং এদের মধ্যে ৬০% মেয়েরা গর্ভবতী হয় ১৯ বছরের মধ্যে। ১৫ থেকে ১৯ বছরের বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার অনেক বেশি।
কিশোরী মা এবং তাদের গর্ভজাত সন্তানের মৃত্যুহার অন্য বয়সী মায়েদের তুলনায় অনেক বেশি। সামাজিক সচেতনতা ছাড়াও আমাদের গলদ আছে শিক্ষা গ্রহণ ব্যবস্থায়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে গেছে সম্পূর্ণ পরীক্ষানির্ভর। এই মহাজগতে কেবল বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের ১২ বছরের শিক্ষাজীবনে চার-চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়, যা প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীকে সার্বিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে না। ছোটবেলা থেকে একজন শিক্ষার্থীকে সব বিষয়ে পন্ডিত বানানোর চেষ্টা হচ্ছে।
তথাকথিত জিপিএ ফাইভের পেছনে এভাবে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের কেবল ছুটতে শেখাচ্ছি। তারাও ছুটছে দিগি¦দিক। একটি পরীক্ষা বা একটু কম নম্বরপ্রাপ্তি তাদের স্বপ্ন ও মেধাকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরাই পৃথিবীর একমাত্র সুখী লোক নয়। তা আমরা তাদের বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। কিশোরদের জন্য বর্ণিল আশ্চর্যময় জগৎ অপেক্ষা করছে। সেটিকে খুঁজে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের শিক্ষাজীবী, শ্রমজীবী আর পরিকল্পনাবিদদের। আশাব্যঞ্জক চিত্রও আমাদের আছে। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। মানুষের মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ু দুটিই বেড়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার কমেছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে, আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বেড়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া শিশুর হার কমেছে, সাক্ষরতা ও নারী শিক্ষার হার বেড়েছে এরকম আরও নানামুখী অর্জন আমাদের আছে।
কিন্তু, সবকিছুর মূলে যে সমাজ, সে সমাজের মূল্যবোধ, আদর্শ আর নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তার জড়তা, নীতিহীন কদর্য মানসিকতা, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাব আমাদের পিছু ছাড়ছে না। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে সমাজের জরা কাটবে না যদি সমাজের একটা বিরাট অংশ নৈতিক চরিত্র এবং সামাজিক নৈপুণ্যের ক্ষেত্রে চরম দীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করে। যে সমাজ কিশোর আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্বে দিতে পারে সে কিশোর সমাজ কেন আজ দিশাহারা পথভ্রষ্ট, কেন আজ জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত। জাতির অভিভাবকদের ভেবে দেখা উচিত। মনে রাখতে হবে আজকের কিশোর-যুবসমাজ আগামী দিনের নেতৃত্ব। এভাবে কিশোর সমাজ বিপথগামী হলে ভবিষ্যতে জাতির জীবনে নেমে আসবে অন্ধকার, ভেঙে পড়বে জাতির মেরুদণ্ড, ভেসে যাবে মূল্যবোধ, নেতৃত্বহীন হবে এ জাতি, দিশাহারা হবে এদেশের সরল প্রাণ মানুষ।
শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুর অন্তর্নিহিত সহজাত চারটি ক্ষমতার কথা মাথায় রাখা আবশ্যক : যেমন- শিশুর অপার বিস্ময়, অসীম আনন্দ, অফুরন্ত শক্তি, সীমাহীন কৌতূহল। আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে শিশুর জন্য ভিতরের সজীবতা বিকশিত করার মাধ্যমকে সমন্বয় করতে পারিনি। জীবনের সঙ্গে কর্মের সম্পর্কটা খুব গভীর। জীবনবোধকে জাগ্রত রাখতে হলে প্রত্যেকেরই সুনির্দিষ্ট কাজ করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা আসে না, কখনো কখনো ব্যর্থতা বা ভুলের মাশুল গুণতে হয়। হতাশা ঢেকে দিতে পারে জীবনের গতিপথ। তাই বলে থমকে না গিয়ে জীবন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে আর প্রয়োজনে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই শিক্ষাই গ্রহণের সুযোগ করতে হবে শিশু-কিশোর তরুণদের। সংশোধনের বিধি-বিধান ও আমাদের গবেষণা করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিশু-কিশোরদের কর্মতৎপরতার ডিপ্লোমা শিক্ষার আরো ব্যাপক প্রসার ঘটানো দরকার। এজন্য সরকারের ডিপ্লোমা শিক্ষা বিস্তারের নীতিকে গতিশীল যেমন করতে হবে, তেমনি সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টায় এখনই বাংলাদেশের পর্যাপ্ত ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবেই উচ্চতর তাত্ত্বিক ও ডিপ্লোমা শিক্ষার যুগ্ম ধারায়, কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে জাতির জীবন। যুগোপযোগী ডিপ্লোমা শিক্ষাই হতে পারে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার।
এ কাজটি সহজ করার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ন্যায় এলাকাভিত্তিক ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাতে তৃণমূলে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ বৃদ্ধি পাবে। জনপ্রিয় হবে সুর্নিদিষ্ট কর্মপ্রাপ্তির শিক্ষা, শিক্ষা ও কর্মের কারণে কিশোর অপরাধ, বাল্যবিবাহ ও কিশোর শ্রম বন্ধ হবে। তবেই সমাজের জরা কাটবে এবং আলোকিত মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে। সমাজের এই জরা কাটাতে হলে আমাদের মূল্যবোধের সংকট, উত্তরণ ও কর্মপ্রাপ্তির আদর্শ শিক্ষায় নজর দিতেই হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ