ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্ততি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান

খুলনা : নগরীর বিএনপি কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের জরুরি সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম

খুলনা অফিস: খুলনায় ২০ দলীয় জোটের সভা থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও শাসক দলীয় ক্যাডারদের পৈশাচিক হামলার নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হয়েছে। মন্ত্রীসভায় পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরিবহন শ্রমিকদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার হবে অভিযোগ করে তা প্রত্যাখ্যান এবং জনস্বার্থে সংশোধিত আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর নারকীয় হামলা, তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশীপ আরোপ, ৫৭ ধারার অপব্যবহারের মাধ্যমে গণহারে মামলা এবং আন্দোলন সম্পৃক্তদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। অবৈধ অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানকল্পে এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চূড়ান্ত ও কঠোর আন্দোলনের প্রস্ততি নিতে ২০ দলীয় জোটের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়।
গতকাল বুধবার দুপুর ২ টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহানগর কমিটির এসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি ও মহানগর ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন বিজেপির সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, জেপি (জাফর) সভাপতি মোস্তফা কামাল, খুলনা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দিন, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সেন্টু, জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি খান গোলাম রসুল, খেলাফত মজলিসের সহকারি সেক্রেটারি হাফেজ শফিকুর রহমান, মুসলিম লীগের অফিস সম্পাদক মো. দাউদ ইসলাম।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, এডভোকেট বজলুর রহমান, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম, স ম আব্দুর রহমান, শাহজালাল বাবলু, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, সিরাজুল হক নান্নু, ইকবাল হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান মুরাদ, শাহিনুল ইসলাম পাখী, শফিকুল আলম তুহিন, মহিবুজ্জামান কচি, এহতেশামুল হক শাওন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নাজিরউদ্দিন আহমেদ নান্নু প্রমুখ।
সভা থেকে সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ছয় মাস যাবৎ কারাবন্দী বিএনপির চেযারপারসন, সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের সংগ্রামের আপোসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দাবি করা হয়।
সভা থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে অবিলম্বে কোন ধরনের প্রহসন না করে কিংবা ছলচাতুরির আশ্রয় না নিয়ে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
সভা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ছেলে মেয়েদের ওপর পুলিশ প্রশাসন ও তাদের সামনেই আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শাসক দলীয় ক্যাডার ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিক লীগের হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানানো হয়। এ সব ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ, স্থির চিত্র ও পরিচিতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরে এলে তাদেরকে খুজে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে সকল সাংবাদিক পৈশাচিক হামলার শিকার হয়েছেন সভা থেকে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে এসব হামলার সাথে জড়িতদের বিচার ও কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়।
সভা থেকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের অবৈধ ৫৭ ধারা প্রয়োগ করে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবী, সাধারণ সচেতন মানুষ, অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক মামলা দায়ের, মিথ্যা-বানোয়াট এসব মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
সভা থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, হাসপাতালে কিংবা বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের সবার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করার দাবি জানানো হয়।
হামলাকারী সন্ত্রাসী ক্যাডার যারা ঢাকার রাজপথে সাধারণ জনতা ও ছাত্রদের প্রতিরোধের সম্মুখিন হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলায় সভা থেকে তিব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, খুনের নেশায় উন্মক্তরা জনগনের টাকায় বিদেশে চিকিৎসা করবে আর কোমলমতি শিশুরা হামলার শিকার হয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে এমন নৈরাজ্য আর চলতে পারেনা।
সভা থেকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার ড. শহিদুল আলমকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
সভা থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হওয়া সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কান্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করায় তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।
সভা থেকে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে খুলনা মহানগরী থেকে বিএনপির ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার এবং রূপসা উপজেলায় বানোয়াট দুই মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সভা থেকে খুলনার পাটকল গুলোতে বিদ্যমান সংকট, শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বোনাস না দেয়ার নিন্দা জানিয়ে ঈদের আগেই তাদের পাওনা মিটিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ