ঢাকা, শনিবার 11 August 2018, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেরানীগঞ্জে শিশুরা চালাচ্ছে গাড়ি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

এইচ এম এরশাদ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) থেকে: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলন করলেও রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে ফিটনেসবিহীন  বাস, হিউম্যানহলার , অটোরিকশা ,লেগুনা চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছে। এসব পরিবহনেরও নেই ফিটনেস কাগজপত্র। এ ছাড়া এসব পরিবহনের অধিকাংশ চালকই শিশু-কিশোর। তাদের শেল্টার দিচ্ছে এক শ্রেণির পরিবহন চাঁদাবাজ  সন্ত্রাসী । উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি, ও মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন তারা ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইকুরিয়া হাসনাবাদ  বিআরটিএ‘র বিশ্বরোডে সরেজমিন দেখা গেছে, পরিবহনের চালকরা বেশিরভাগই ১৫-১৭ বছরের শিশু-কিশোর। তারা হেলপার থেকে এখন গাড়িচালক। নেই তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স। এসব চালককে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। অদক্ষ চালকের কারণে কেরানীগঞ্জে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২ বছরে ঢাকা-মাওয়া সড়ক,  ইকুরিয়া ,হাসনাবাদ চীনমৈত্রী ১ম সেতু ঢাল , জিনজিরা-নবাবগঞ্জ ও কোনাখোলা-হেমায়েতপুর সড়কে ইস্পাহানী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক, শাক্তা ইউনিয়নের বাসিন্দা কমল ঘোষ, সাইদুর রহমান, কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা ডা. মো. নওফেলসহ ২৫ জনকে সড়কে প্রাণ দিতে হয়েছে। এ ছাড়া পঙ্গু হয়ে জীবন-যাপন করছে শাক্তা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির কেরানীগঞ্জ এই হেলপার এখন চালক  বিশ্বরোডে ট্রফিকের সামনে চালাচ্ছে গাড়ি শিক্ষার্থী স্বর্ণা, ইস্পাহানী কলেজের শিক্ষার্থী মুক্তা মনিসহ কমপক্ষে ১০-১৫ জন। এর মধ্যে জিনজিরা-নবাবগঞ্জ সড়কে এন মল্লিক পরিবহনের চাপায় সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে। ৫ মাস আগে এন মল্লিক পরিবহনের চাপায় শাক্তা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও ইস্পাহানী কলেজের শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিলেও পরে তা থেমে যায়।
এছাড়া স্বাধীন পরিবহন পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দু গাড়ির চাপাঁয় অল্পের জণ্য বেচে যায় মানবকন্ঠের সাংবাদিক কেরানীগঞ্জের প্রতিনিধি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন । আজ ও হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে ,রাতে ঘুম হারাম করে দিয়েছে,  স্বাধীন পরিবহন।
এদিকে আবাদুল্লাাহপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলম বলেন, আবাদুল্লাাহপুর ও তেঘরিয়া কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অর্ধশত হিউম্যানহলার (লেগুনা)রাজধানীর নয়াবাজার ও পোস্তাগোলা রুটে চলাচল করে। এসব পরিবহনের চালকদের বয়স ১৫-১৭ বছর। তাদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। মাওয়া সড়কে গাড়ি চালানোর রোড পারমিট নেই তাদের  বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় তারা। এ রুটে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। এ অবস্থার নেই কোনো প্রতিকার। এদিকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সুযোগে হিউম্যানহলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। পরিবহনের কাছে কেরানীগঞ্জের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। কোনো কারণে গাড়ির সংকট হলেই জনপ্রতি পোস্তাগোলা - কদমতলী  ২৫ টাকার ভাড়া-৫০,হাসনাবাদ থেকে আব্দুল্লাহপুর ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা , কদমতলী থেকে কোনাখোলা-রামেরকান্দায় নিলয় পরিবহন ও অটোরিকশায় চলাচল করতে গেলে ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকে।
 তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ জজ মিয়া বলেন, ঢাকা-মাওয়া সড়কে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছেন। এর পরও ফাঁকে ফাঁকে অটোরিকশা চলতে দেখা যায়। গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এসব চালকের বেশিরভাগই শিশু।
কদমতলী এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন, জসিম উদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও কেরানীগঞ্জে পরিবহনের চালক ও মালিকরা কর্ণপাত করছেন না। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, আগের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ