ঢাকা, শুক্রবার 19 October 2018, ৪ কার্তিক ১৪২৫,৮ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চীনা বন্দিশিবিরে আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলিম: জাতিসংঘ কমিটি

চীন সরকার দাবি করছে, শিনজিয়াং প্রদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটি কমিটি দাবি করেছে, চীন সরকার দেশটির ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে ‘উগ্রবাদ-বিরোধী শিবিরে’ আটকে রেখেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

জাতিসংঘের ‘এলিমিনেশন অব র‍্যাসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন’ কমিটির সদস্য গে ম্যাকডোগাল শুক্রবার জেনেভায় এই বিশ্ব সংস্থার চীন বিষয়ক দু’দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথমদিনে এ দাবি করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চীন সরকার উইঘুর স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলকে ‘একটি বিশাল বন্দিশিবিরে’ পরিণত করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

চীনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বেইজিং অবশ্য অতীতে এ ধরনের বন্দিশিবিরের অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

 

গে ম্যাকডোগাল

চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশিরভাগ সেদেশের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের।  গত কয়েক মাস ধরে এ খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, শিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপক হারে আটক করা হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসংঘের এই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদেরকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস’ বলেছে, বন্দিদেরকে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদেরকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শ্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দিদেরকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

হুয়া চুনিং

গত এপ্রিলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা লরা স্টোন দাবি করেছিলেন, চীন সরকার সেদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে আটকে রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, যে কেউ শিনজিয়াং প্রদেশ সফরে এসে দেখতে পারেন, এখানকার জনগণ শান্তিতে বসবাস করছে এবং সন্তুষ্টচিত্তে কর্মজীবন উপভোগ করছে। তারা উন্নত জীবনযাপন করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ