ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছুরিকাঘাতে আহত রিকশাচালক প্রাণ ফিরে পেল

বগুড়া অফিস: ছুরিকাহত এক রিকশাচালককে রক্ত দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন বগুড়ার পুলিশ। পুলিশ নিয়ে যখন দেশব্যাপী চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা ঠিক সেই সময় রিকশাচালক পিযুষ কুমারের (২৮) জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগণ রাত ৩টা পর্যন্ত দৌড় ঝাঁপ করেছেন তিন ব্যাগ ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের জন্য।
রিকশাচালক পিযুষ কুমার বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়া এলাকার দিলীপ কুমারের ছেলে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরের কৈগাড়ি মৎস্য অফিসের সামনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তার পেটের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যায়। রাস্তা থেকে আরেক রিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করে দেয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানায়- জরুরিভাবে তিনব্যাগ ‘ও নেগেটিভ’ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন। রক্ত দিতে না পারলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব না। এ সময় হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তরা। রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন তাও আবার ‘ও নেগেটিভ,’ এত রাতে কোথায় পাওয়া যাবে রেয়ার গ্রুপের ‘ও নেগেটিভ রক্ত!’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী উদ্যোগ নেন পুলিশ লাইন্স-এ কর্মরত সদস্যদের মধ্যে থেকে সংগ্রহের। সেখানকার শত-শত পুলিশের তালিকার মধ্যে পাওয়া যায় বিপ্লব নামের এক কনস্টেবলকে। এরপর তার বাসায় গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তার শরীর থেকে এক ব্যাগ রক্ত পাওয়া গেলেও প্রয়োজন আরো দুই ব্যাগ। কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ যোগাযোগ শুরু করে সন্ধানী, আশেপাশের ব্লাড ব্যাংক ছাড়াও অনলাইন রক্তদাতা সংগঠনগুলোর সাথে। যদিও ২-১ জন পাওয়া যায় তাও আবার ৪০-৫০ কিলোমিটার দুর থেকে রাতে কেউ আসতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত রাত তিনটা নাগাদ পুলিশ হন্যে হয়ে আরো দুইজন ডোনার সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করলে সংগ্রহ হয় তিন ব্যাগ রক্ত। রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি পুলিশের আরেকটি দল অভিযান শুরু করে রিকশুাচালক পিযুষকে ছুরিকাঘাতের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে। রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে আজম, আদম, কমল ও সোহাগ নামের চারজন ছিনতাইকারীকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তারা স্বীকার করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তারা রিকশা চালককে ছুরিকাঘাত করেছে।
এদিকে, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাতে তিনব্যাগ রক্ত দিতে না পারলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব  হতো না। আর পুলিশ এই উদ্যোগ না নিলে রোগীর পরিবারের পক্ষেও কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না। পিযুষের বাবা দিলীপ কুমার জানান, তিনি নিজেও পেশায় রিকশা চালক। বাবা ও ছেলে রিকশা চালিয়ে তাদের সংসার চলে। পুলিশের কাছে খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েও ছেলের জন্য কিছুই করতে পারেননি। পুলিশ নিজেই রক্ত সংগ্রহ করে তার ছেলেকে বাঁচিয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রিকশা চালক পিযুষকে বাঁচাতে রক্তের জন্য রাত তিনটা পর্যন্ত পুলিশ দৌড়ঝাঁপ করেছে। পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতার কারনে রাতেই তিন ব্যাগ রক্ত পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রক্ত দিতে পারায় শনিবার সকালে আহত পিযুষ কথা বলতে পেরেছে। তিনি এখন আশংকা মুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। শুধু এক রিকশাচালক নয়, বগুড়ার পুলিশ সদস্যরা নিয়মিতভাবে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে মুমূর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে বলে সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ