ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে ক্ষতিপূরণ না পেয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে জমির মালিকরা

 

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীর জলঢাকায় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে সরকারি রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে জমির মালিকরা সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

জমির মালিকদের অভিযোগে জানা গেছে, এলজিইডি’র অধীনে জলঢাকা উপজেলার কৈমারী হাট-বুড়িতিস্তা ঘাট ভায়া আলসিয়া পাড়া পর্যন্ত এক হাজার মিটার সড়ক পাকাকরণে কাজের জন্য মোট বরাদ্দ প্রদান করা হয় ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৪ টাকা। নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারী। কিন্তু নির্মাণাধীন সড়কের পার্শ্ববর্তী কৈমারী হাট সংলগ্ন ১৩১৪ দাগের ৪৩২ খতিয়ান ভুক্ত জমির মালিক আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আহমেদ হোসেন, আবু বক্কর সিদ্দিক, হায়দার, সহিদার ও ইয়াকুব আলীকে কোনো প্রকার নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তাদের জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ শুরু করা হয়। সড়ক নির্মাণের নকশা ও প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণের সময়ও জমির মালিকদের জানানো হয়নি। জমির মালিকরা মৌখিকভাবে একাধিক বার ঠিকাদারকে নিষেধ করার পরেও নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলে এক পর্যায়ে তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। জমির মালিক আহমেদ হোসেন জানান, মৌজা ম্যাপে ২৬ ফুট পুরাতন সড়কের সীমানা সঠিকভাবে চিহ্নিত না করে এবং ক্ষতিপূরণ না দিয়ে আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশ দিয়ে উভয় পার্শ্বে প্রায় ৮ ফুট জমি নিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ উক্ত স্থানে পুরাতন সড়কের জমিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গুডাউন ঘর, দোকান ও রাইচ মিল নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। তিনি জানান, সেখানে সরকারি যে জমি রয়েছে তাতে প্রস্তাবিত নতুন সড়ক নির্মাণ করার পরেও অনেক জমি থেকে যাবে। অপর জমির মালিক ইয়াকুব আলী জানান, আমাদের জমিতে সরকারি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে অথচ আমাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া দূরে থাউক অবগত বা কোনো নোটিশও করা হয়নি। আমাদের দাবি আমাদের জমি বুঝিয়ে দিয়ে মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ করা হউক। এ জন্য আমরা জেলা প্রশাসকসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন  করেছি। 

 এদিকে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিনয়ত যাতায়াতকারী ভ্যান চালক আব্দুল করিম, অটোচালক আলাউদ্দীন, নজরুল, শাহীনসহ অনেকে জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দের কারণে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। 

কৈমারী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আমি উদ্ধর্তন কর্মকর্তার নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করে ১৩১৪ দাগের ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে এবং পুরাতন সড়কের জমিতে কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে মর্মে জলঢাকা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম জানান, এব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নীলফামারী এলজিইডি’র নিবার্হী প্রকৌশলীকে নির্দ্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ