ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান পাইলট কর্মসূচি নানা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরের তিন উপজেলায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম এর পাইলট কর্মসূচি শিক্ষক সংকট এবং শ্রেণি কক্ষের অভাবসহ নানা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। 

২ টি উপজেলায় শুধু ৮ম শ্রেণি চালু থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। আর একটি উপজেলায় শুরু থেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এ শিক্ষার কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৩ উপজেলায় এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখলেও ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেও নানা সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার পাইলট প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়। এর মধ্যে কাউনিয়া, গংগাচড়া এবং  সদর উপজেলায় একটি করে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রমের পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়।

বদরগঞ্জ উপজেলায় দুটি বিদ্যালয় একই সাথে ঐ পাইলট কর্মসূচি চালু করায় তা মামলা পর্যন্ত গড়ায়। ফলে ঐ উপজেলায় পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, মামলা সংক্রান্ত কারনে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। এদিকে চালুর পর বিভিন্ন সময়ে পাইলট প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়া বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে- কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের দর্জিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গংগাচড়া উপজেলার আরাজি নিয়ামত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রংপুর সদরের ধর্মদাস বার আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই কর্মসূচীর আওতায় কেবল গংগাচড়া উপজেলার আরাজি নিয়ামত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন এবং পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে অষ্ঠম শ্রেণীর পাঠদান চালু আছে বলে জানা গেছে। তবে নানা সীমাবন্ধতা সত্বেও এখনও কার্যক্রম চলছে তারাগঞ্জের চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পীরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মিঠাপুকুর উপজেলার তারাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রংপুর সদরের ধর্মদাস বার আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  নাজনীন আক্তার খানম বলেন, শ্রেণি কক্ষ এবং শিক্ষক সংকটের কারনে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৮ জন শিক্ষক দিয়ে দুটি শিফটে পাঠদান এমনি কষ্টকর ছিলো। তার ওপর ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিতে গেলে অনেক সময় ২ থেকে ৩ টি শ্রেণির কার্যক্রম প্রতি পিরিয়ডে বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বিষয়টি ভাল চোখে দেখেন না। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে অনেক সময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। শিক্ষার্থীর অভাবে ২০১৬ সাল থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে তা পুনরায় চালু করার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এর সমাধান পাওয়া গেলে পুনারায় পাঠদান শুরু করা  সম্ভব হবে। রংপুর সদরের ধর্মদাস বার আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য  জানান, ১ একর ৩ শতক জমির ওপর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সক্ষমতা থাকা সত্বেও শুধু শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষের অভাবের কারণে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন ধর্মদাস এলাকায় দরিদ্র লোকের বাস। তাই পাইলট প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ায় অভিভবকরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের ছেলেমেয়ের লেখা-পড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা  বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ অনেক বেশী উপকৃত হতো। রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, এটি সরকারের কোন পাইলট প্রোগ্রাম ছিলো না । তাই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন করে কোন বাজেট, শিক্ষক বা শ্রেণি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বলা হয়েছিলো, কোন উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের সক্ষমতা থাকে সে ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এসব বিদ্যমান সমস্যা উল্লেখ করে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পরবর্তি কোন নির্দেশনা আর পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ