ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের টিকিট ॥ কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড়

মুহাম্মদ নূরে আলম : ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন থেকেই কমলাপুর স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মানুষের এক একটি লাইন যেন এক একটি ট্রেনের মতো। ট্রেনে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির গতকাল শনিবার চতুর্থ দিনেও কমলাপুরে ছিল উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা সংগ্রহ করেন ঈদের অগ্রিম টিকিট। এবার ঈদে ট্রেনের বিশেষ সার্ভিস থাকছে চার দিন। রেলের মহাপরিচালক আশা করছেন, এবার ঈদে ট্রেনে বড় ধরনের সিডিউল বিপর্যয় হবে না। গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় টিকিট বিক্রি শুরু হলেও অনেকেই লাইনে দাঁড়ান বুধবার বিকালেই। ছেলেদের লাইন স্টেশনের বাইরে গিয়ে ঠেকে। মেয়েদের লাইনেও ছিলো না তিল ধারনের ঠাই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা ঈদের অগ্রিম টিকিট পেলেও, অনেকের অভিযোগ এসি বগির টিকিট না পাওয়া নিয়ে। এরইমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। এবার রেলওয়ে ঈদ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২১ আগষ্ট পর্যন্ত চারদিন বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এই চারদিনই ঢাকা ছেড়ে যাওয়া প্রতিদিনের ৬৭টি ট্রেনের সাথে থাকবে বাড়তি বগি। আরো ঈদের আগের চার দিন বাড়তি পাঁচটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে যাবে। প্রতিদিন ট্রেনে করেই ঢাকা ছাড়তে পারবে লক্ষাধিক মানুষ। এসি কামলার টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ অনেক যাত্রীর। প্রতি দিন ৬৭টি নিয়মিত ট্রেনের সাথে বাড়তি পাঁচটি বিশেষ ট্রেনে করে এবার ঈদে বাড়ি যেতে পারবে মানুষ।
অন্যান্য বছর ঈদের টিকিট বিক্রির প্রথম দুই দিন তেমন একটা ভিড় থাকে না। ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিনের টিকেটের চাহিদা বেশি থাকে বলে ভিড়ের চাপ বেশি থাকে টিকিট বিক্রি শুরুর তৃতীয় দিন থেকে। তবে গত বুধবার বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকেটের জন্য আগের রাত থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে অপেক্ষায় ছিলেন টিকিট প্রত্যাশীরা। সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার সময় লাইন দেখা যায় স্টেশনের মূল ফটক পর্যন্ত। সূচি অনুযায়ী বুধবার বিক্রি হয়েছে ১৭ অগাস্টের বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনের টিকিট। লাইনে সামনের দিকে যারা ছিলেন, প্রত্যাশিত টিকিট তারা পেয়েছেন। তবে পেছনে থাকা অনেককে টিকিট না পাওয়ার হতাশা নিয়েই প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে হয়েছে।
হাফিজুর রহমান নামের একজন জানান, রাজশাহীর ট্রেনের টিকেটের জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশনে আসেন তিনি। কাউন্টারের সামনে তার সামনে ছিলেন ২৯ জন। তারপরও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিট পাননি তিনি। হাফিজুর বলেন, “এসি টিকেটের জন্য কালকে আবার আসব। যদি না পাই পরের দিন আবার আসব। তাও টিকিট না পেলে এবার ঈদে বাড়িই যাব না। ব্যাংক কর্মকর্তা আইনুল হক রাজশাহীর টিকেটের জন্য কাউন্টারে এসেছিলেন মঙ্গলবার রাত ১০টায়। সারা রাত অপেক্ষার পর বুধবার সকাল ৯টায় তিনি কাঙ্কিত টিকিট হাতে পান। ঈদের ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন বুধবার কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট পেয়েছেন এই নারী। আইনুল বলেন, “আমি এমনিতে বাসেই যাই। কিন্তু ফোর লেইনের কাজের জন্য এবার অনেক যানজট। সময়ও বেশি লাগছে। এজন্য ট্রেনে যাব। চট্টগ্রামের ট্রেনের টিকেটের জন্যও কাউন্টারের সামনে বেশ ভিড় দেখা যায়। এ কাউন্টারের সামনে সাইফুজ্জামান শোভন নামে একজন বললেন, তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন রাত ১০টায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টিকিট হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শোভন বলেন, “এসি টিকিট চেয়েছিলাম, পেয়ে গেছি। খুবই ভালো লাগছে। আরামে যাওয়া যাবে। নারী কাউন্টারের সামনে জুঁই নামে একজন বললেন, তিনি কমলাপুরে এসেছেন রাত ৯টায়। কিন্তু এগারো ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রত্যাশা অনুযায়ী এসি টিকিট পাননি। “আমি রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি টিকিট চেয়েছিলাম। লাইনে আমি সবার আগে। আমিই যদি এসি টিকিট না পাই তাহলে এসি টিকিট গেল কই।”
কমলাপুরে ট্রেনের আগাম টিকিটের জন্য রাত জেগে লাইনে দাঁড়ানোর ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রাম নিচ্ছেন নারীরা। এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকেটের চাহিদা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরের ট্রেন নীলসাগর ও লালমনি এক্সপ্রেসের বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায় বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যে। একই অবস্থা দেখা যায় দেওয়ানগঞ্জের তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকেটের ক্ষেত্রেও। গতকাল শনিবার বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ২৩ হাজার ৫৩৬টি অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, “মোটামুটি সুশৃঙ্খলভাবেই টিকিট দেওয়া হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিট না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসি টিকেটের চাহিদা বেশি। এজন্য সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এখনও অনেক কাউন্টারে নন এসি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ