ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হজ্বযাত্রীরা দূষছেন এজেন্সিগুলোর হাব বলছে ব্যক্তিগত

* সৌদির হজ্ব মেডিকেল সেন্টারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা ॥ এ পর্যন্ত নিহত ৩০ জন
স্টাফ রিপোর্টার : ভিসা জটিলতায় এ বছর হজ্বে যেতে পারছেন না ৭২৭ হজ্বযাত্রী। এরমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৮৮ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৯ জন হজ্বযাত্রী ভিসা পাননি। হজ্বযাত্রী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। কিন্তু হজ্ব এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব বলছেন না যাওয়ার বিষয়টি হজ্বযাত্রীদের ব্যক্তিগত। এদিকে সৌদির হজ্ব মেডিকেল সেন্টারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গতকাল সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে।
জনা যায়, বাংলাদেশ থেকে এ বছর এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জনের হজ্বে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি দূতাবাস থেকে ভিসা না পাওয়া ৭২৭ জনের হজ্বযাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আটকে পড়া হজ্বযাত্রী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, এজেন্সিগুলো যথাসময়ে বাড়ি ভাড়া না করা, ভিসা আবেদন না করাসহ অবহেলা আর উদাসীনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন হজ্ব এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব। সংগঠনের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, এ বছর যারা হজ্বে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ অসুস্থতাসহ নানা কারণে যেতে চাইছেন না। মন্ত্রণালয় তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কেন তারা যাবেন না। তিনি বলেন, না যাওয়া যাত্রীদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। প্রতি বছরই এমনটা হয়ে থাকে।
এদিকে ৬৮৮ জনের ভিসা না হওয়ায় ব্যাখ্যা চেয়ে এজেন্সিগুলোকে চিঠি দিয়েছে হজ্ব অফিস। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ্ব ব্যবস্থাপনা মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। তিনি বলেন, যে ৬৮৮ জন যেতে পারছে না, এটা মন্ত্রণালয় বা সৌদি দূতাবাসের দোষে নয়। কিছুটা এজেন্সির কারণে। আর যে ব্যক্তি পাসপোর্ট দিয়েছেন, তারও দোষ আছে। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেটা তার দেখা উচিত।
বাংলাদেশ থেকে ১৪ জুলাই শুরু হওয়া হজ্ব ফ্লাইট শেষ যাত্রা করবে ১৬ আগস্ট। পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় এরইমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এখনও ১৪ ও ১৫ আগস্টের ৮টি ফ্লাইটের টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার সম্ভাব্য হজ্বের তারিখ হতে পারে ২২ আগস্ট। হজ্ব শেষে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট। এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ্বযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জনের হজ্ব করার কথা রয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত মক্কা বাংলাদেশ হজ্ব অফিসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ পাঁচ হাজার ২০৬ জন হজ্বযাত্রী সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় পৌঁছেছেন।
হজ্বে গিয়ে ৩০ বাংলাদেশীর মৃত্যু : চলতি মৌসুমে সৌদি আরবে হজ্ব করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে পুরুষ ২৪ ও নারী ৬ জন। মক্কায় ২৩, মদিনায় ৫ ও জেদ্দায় ২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মক্কায় বাংলাদেশ হজ্ব অফিসের কাউন্সেলর মাকসুদুর রহমান।
এদিকে সৌদি সূত্র জানায় সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ্ব মেডিকেল সেন্টারের আউটডোরে বাড়ছে অসুস্থ হজ্বযাত্রীর সংখ্যা। ১৫ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৩৩ হজ্বযাত্রী মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম হলেও বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি হজ্বযাত্রী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, হজ্বযাত্রীদের বেশিরভাগই মক্কায় অসুস্থ হচ্ছেন। মক্কা মেডিকেল সেন্টার থেকে রেফার করা প্রায় দেড় হাজার হজ্বযাত্রী সৌদির কেএসএ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে এ পর্যন্ত এক মহিলাসহ ৩০ হজ্বযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
মক্কা হজ্ব মেডিকেল সেন্টারের টিম লিডার ডা. মো. জাকির হোসেন খান জানান, অসুস্থদের মধ্যে ডায়রিয়া, ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেশি। সৌদির গরম আবহাওয়া ও অধিক তাপমাত্রার কারণে হজ্বযাত্রীরা অসুস্থ হচ্ছেন। হোটেল কিংবা বাড়ির এসি থেকে বাইরে প্রচণ্ড গরমে ঘোরাঘুরি করে, পবিত্র কাবা শরীফে জমজমের ঠান্ডা পানি পান করে, হোটেলের খাবার খেয়ে সর্বোপরি আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলাতে না পারায় অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ।
তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। রোগীরা প্রথমে পিলগ্রিম আইডি ও হেলথ কার্ড দেখিয়ে সিরিয়াল নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করছেন। ভেতরে প্রথমে স্বাস্থ্য সহকারীরা রোগের বর্ণনা শুনে পরে চিকিৎসকদের কাছে পাঠাচ্ছেন। সেন্টারটির দুটি কক্ষে পুরুষ ও একটি কক্ষে মহিলা রোগীদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ভেতরে অপেক্ষাকৃত বেশি অসুস্থ পুরুষ রোগীদের জন্য ৯ ও মহিলাদের জন্য সাত শয্যার অবজারভেশন কক্ষ রয়েছে।
মক্কা মেডিকেল সেন্টারে ৫১ ডাক্তার, ৩৯ নার্স, ৪১ ফার্মাসিস্ট ছয় ওটি সহায়ক ও ৬৫ জন হজ্ব সহায়ক দল কাজ করছে। টিম লিডার হাকিম হোসেন খান বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যতœ সহকারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
সিলেট থেকে বিমানের হজ্ব ফ্লাইট শুরু : এদিকে সিলেট থেকে সরাসরি সৌদি আরবে হজ্ব ফ্লাইট শুরু হয়েছে। ৪১৪ জন যাত্রী নিয়ে গত শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ্ব ফ্লাইট ছেড়ে যায়।
শুক্রবার হজ্ব ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজ্বাহান কামাল এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুল ইসলাম, পরিচালক (গ্রাহক সেবা) আলী আহসান, মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ, মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন প্রমুখ।
এবছর হজ্ব পালনে বিমানে যাবেন ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৫৬ হাজার ৪০১ জন হজ্বযাত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ