ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবারও আরিফুল হক সিসিকের মেয়র নির্বাচিত

কবির আহমদ, সিলেট : বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী আবারও আধ্যাত্মিক নগরী সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল শনিবার স্থগিত দুটি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি দুই হাজার ১০২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা প্রতীকে ৫২৭ ভোট পেয়েছেন। সিসিকের সবকটি (১৩৪) কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৩৯৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে ৬ হাজার ২০১ ভোট বেশি পেয়েছেন আরিফুল হক।
গত ৩০ জুলাই সিসিকের চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে অনিয়মের কারণে দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। বাকি ১৩২টি কেন্দ্রে কামরানের চেয়ে ৪৬২৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন আরিফ। তবে স্থগিতকৃত ২৪নং ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং ২৭নং ওয়ার্ডের হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র মিলিয়ে ভোট সংখ্যা ৪৭৮৭ হওয়ায় আরিফকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা সিদ্ধান্ত নেয় পুনরায় ওই দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের। ফলে ভোটে এগিয়ে থাকার পরও অপেক্ষায় থাকতে হয় আরিফকে। গতকাল ১১ আগস্ট শনিবার স্থগিত এ দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে আরিফের অপেক্ষার প্রহর গুণা শেষ হয়। দুটি কেন্দ্রে আরিফ বিশাল ব্যবধানের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো নগর পিতা নির্বাচিত হন।
এদিকে, গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে আরিফ পেয়েছেন ১০৪৯ ভোট, নৌকায় কামরান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অপরদিকে হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে আরিফ পেয়েছেন ১০৫৩ ভোট, নৌকায় কামরান পেয়েছেন ৩৫৪ ভোট। নির্বাচনের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, ‘আজ পুনঃভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
ছিল না ৩০ জুলাইর পরিবেশ
৩০ জুলাই সোমবার ছিল আধ্যাত্মিক নগরী নামে খ্যাত সিলেট এক আতঙ্কের নগরী। উদ্বেগ-উৎকন্ঠার নগরী।  সেদিনের ভয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আজও ভুলতে পারছেন না নগরবাসী। জালভোট, কেন্দ্রদখল, মারামারি, অস্ত্রের মহড়া কি হয়নি সেদিন। সেদিন এমন বিতর্কিত ঘটনার কারণে স্থগিত হয়েছিল দু’টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। গতকাল শনিবার কেন্দ্র দু’টিতে শান্তিপূর্ণভাবে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ছিল না ৩০ জুলাইর পরিবেশ।
ভোটগ্রহণের শুরুর দিকে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও সাড়ে ১০ টা থেকে পুরোদমে চলে ভোটগ্রহণ, বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। নারী ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল কেন্দ্র দুটিতে। অন্যদিকে সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত ১৪টি কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গত ৩০ জুলাই নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে। তাই দু’টি ওয়ার্ডের সামগ্রিক ফলাফল আটকে যায়। আটকে যায় মেয়রপদের চূড়ান্ত ফলাফল। দুই কাউন্সিলর ও দুই নারী কাউন্সিলর পদের ফলাফল।
কাউন্সিলর : জামায়াত ১ আওয়ামী লীগ ১
এদিকে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত পুনঃনির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের একজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন নির্বাচিত হয়েছেন। ২৪নং ওয়ার্ডে জামায়াত ঘরানার কাউন্সিলর হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন সোহেল আহমদ রিপন।
গতকাল ২৪ নং ওয়ার্ডে স্থগিত হওয়া কেন্দ্র গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুনঃভোটে রিপন পেয়েছেন ৭৬৭ ভোট। ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে তার প্রাপ্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর সুহিন ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন দুই হাজার ৯০৬ ভোট। পুন:ভোটে তিনি পেয়েছেন ৪৮৫ ভোট। স্থগিত হওয়া গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ পুনরায় ভোট গ্রহণ হয়। এতে ৫০১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেন রিপন। স্থগিত হওয়া এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২২২১ জন।
এদকি, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৭ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী ঘরনার আজম খান। এর আগে তিনি ১১৫২ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। গতকাল হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুন:ভোটে তিনি ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে ৫৫৬ ভোট পান। তিনি মোট ৩৮১০টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বনন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল জলিল নজরুল টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক নিয়ে ৬২৭ ভোট পেয়েছেন। তার  প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৭২৯। ২৭নং ওয়ার্ডে স্থগিত হওয়া কেন্দ্র হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২৫৬৬ জন।
এছাড়া ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের পুন:নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নাজনীন আক্তার কণা নির্বাচিত হয়েছেন। জিপ গাড়ি প্রতিক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নার্গিস সুলতানা চশমা প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ৯৭৩ ভোট। ২২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন রেবেকা আক্তার লাকী। জিপ গাড়ি প্রতিক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালেহা কবীর শেপী চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৭ ভোট। ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন রোকসানা বেগম শাহনাজ। চশমা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৭০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছামিরুন নেছা গ্লাস প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯১ ভোট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ