ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে ঈদবাজার জমে উঠেনি

মুহাম্মদ নূরে আলম : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে বিক্রি এখনও জমে উঠেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ঈদ কেন্দ্রিক পোশাক বিক্রিতেও ভাটা দেখা দিয়েছে। বেচা-বিক্রি একেবারেই কম। অন্যান্য সময় যে পরিমাণ বিক্রি হতো গত ১০ দিনে তার থেকেও অনেক কম বিক্রি হয়েছে। অথচ ঈদের বাকী আর মাত্র ১০ দিন।
গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট, টুইন টাওয়ার, রাজধানী সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের কথার সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু কিছু মার্কেটে হাতেগোনা কিছু ক্রেতা-দর্শনার্থীর দেখা মিললেও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদের নতুন পোশাকের বিক্রি তুলনামূলক কম হয়। তবে এবার অন্যবারের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কারণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিক্রি একেবারেই হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ হলেও ক্রেতার সংকট এখনো রয়েছে।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, মুসলমানদের সব থেকে বড় উৎসব ঈদ। এ উৎসব উদযাপনের বড় অংশজুড়েই থাকে নতুন পোশাক। তবে রোজার ঈদের তুলনায় কুরবানির ঈদের নতুন পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তারপরও ঈদ কেন্দ্রিক কিছু বিক্রি তো হয়। সে আসায় দোকানে অনেক নতুন পোশাক এনেছি। কিন্তু বিক্রি নেই। আশা করছি আগামী সপ্তাহে মোটামুটি ভালো বিক্রি হবে। এবার ঈদ বাজারে নতুন কি পোশাক এসেছে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, নতুন তেমন কোনো পোশাক আসেনি। রোজার ঈদেই যেসব পোশাক বিক্রি হয়েছে এখনো সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে। তবে রঙ এবং ডিজাইনের মধ্যে ভিন্নতা আছে। থ্রি-পিস, ফোর-পিস, টু-পিস, লেহাঙ্গা, গ্রাউন সব ধরনেরই পাশাক আমাদের কাছে আছে। এর মধ্যে ৬০০-৩০০০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে থ্রি-পিস, ফোর-পিস আছে ১০০০-২৫০০ টাকা দামের, লেহাঙ্গা আছে ১১০০-৩৫০০ টাকা দামের। আর গ্রাউন পাওয়া যাবে ১৫০০-৬০০০ হাজার টাকার মধ্যে। নিউমার্কেটে ছেলেদের পোশাক বিক্রেতা মিনহাজ বলেন, ঈদ কেন্দ্রিক কোনো বিক্রি নেই। বিক্রি হবে কি করে ক্রেতাই তো আসছে না। সাধারণ সময়ে যে বিক্রি হয় এখন সেই বিক্রিও নেই। সাধারণত শুক্রবার মার্কেটে ভিড় থাকে। মার্কেটের দিকে তাকিয়ে দেখেন কি অবস্থা? ক্রেতা তো দূরের কথা দর্শনার্থীও নেই। তিনি বলেন, আমাদের কাছে জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্ট এবং টি শার্ট আছে। ক্রেতারা প্যান্ট ৬০০-২০০০ টাকার মধ্যে পাবেন। টি শার্ট আছে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দামের। শান্তিনগরে অবস্থিত টুইন টাওয়ার মার্কেটের ভ্যালেন্টাইন প্রতিষ্ঠানের শামিম হোসেন জয় বলেন, কুরবানির ঈদের সাধারণত নতুন পোশাক খুব একটা আসে না। গত রোজার ঈদের মধুবালা খুব ভালো বিক্রি হয়েছে। আমরা আশা করছি এবারও মধুবালা বিক্রি ভালো হবে। তবে ঈদের বিক্রি শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে কিছু বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
পোশাকের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, রোজার ঈদে যে দামে পোশাক বিক্রি হয়েছে এখনো সেই দামই রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাম একটু কম রাখা হচ্ছে। তবে কোনো পোশাকের দাম বাড়েনি। আমরা মধুবালা পোশাক বিক্রি করছি ২৫০০-৬০০০ টাকায়। মধুবালার পাশাপাশি আছে অফসোল্ডার। ভারতীয় এই পোশাকটি পাওয়া যাবে ১৫০০-৫৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিভিন্ন দামের ভারতীয় পোশাক আছে। রাজধানী মার্কেটের ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস বিক্রি করি। এসব থ্রি-পিসের দাম ৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত। এ মার্কেটে সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ বেশি আসে। তাদের কথা চিন্তা করেই পণ্য আনা হয়। এ ব্যবসায়ী বলেন, রোজার ঈদে বিক্রি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু কুরবানি ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রি একেবারেই নেই। কুরবানি এ ঈদে সব সময় বিক্রি কম হয়। তবে এবার মন্দা একটু বেশিই। ক্রেতা-দর্শনার্থী না থাকায় অধিকাংশ সময় অলস কাটাতে হচ্ছে।
রাজধানী সুপার মার্কেটের মো. জুয়েল বলেন, গত রোজার ঈদের বাচ্চাদের যে গেঞ্জি সেট ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই গেঞ্জির সেট ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি। শুধু গেঞ্জির সেট নয় সব ধরনের পোশাকের দাম এখন রোজার ঈদের তুলনায় বেশ কম। এরপরও বিক্রি নেই। বিশেষ করে নারীদের পোশাক ও পণ্যের আধিক্যের কারণে নারীরাই মূলত এসব মার্কেটের ক্রেতা। মার্কেটের ভিতরে-বাইরে সকাল থেকেই বিক্রেতারা অলস সময় পার করেছেন। রাজধানীর নিউমার্কেট-এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা কলেজের সামনে ছেলেদের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের তেমন ভিড়-উপস্থিতি ছিল না। রুচিসম্পন্ন, পর্যাপ্ত ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি থরে থরে সাজিয়ে রাখলেও ক্রেতা সাধারণের তেমন আগাগোনা নেই দোকানগুলোতে। মেয়েদের পোশাক-গহনা-কসমেটিকের দোকানগুলোতে কিছু ভিড় কিন্তু ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতে তেমন ভিড় নেই? এ বিষয়ে নিউ মার্কেটের ছেলেদের পোশাকের এমএম ফ্যাশনের হাউজের দোকানী আওয়াল শেখ বলেন, আমরা সব ধরনের নিউ কালেকশন নিয়ে আসছি।  ছেলেরা এখনও ঈদের কেনাকাটা শুরু করেনি। যেহেতু কিছুদিনের মধ্যেই দর্জিপাড়ায় পোশাক তৈরির অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যাবে সে কারণে নারীদের ঈদ কেনাকাটা জমজমাট হয়ে উঠেছে। মার্কেটটির পাশের দোকান ওয়ান ক্লাবের বিক্রয় কর্মী নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে বর্তমানে অল্প কিছু ক্রেতা পাচ্ছি, আশা করি আগামী সপ্তাহে ঈদ কেনাকাটা জমজমাট হয়ে উঠবে। এদিকে নিউমার্কেটে ছেলেদের সানগ্লাস, বেল্ট, জুতা, স্যান্ডেলের দোকানগুলোতেও তেমন একটা ক্রেতা উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় প্যান্টের দোকানগুলো ঘুরে জিন্স প্যান্ট দেখছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় আহমেদ এবং আশিকুর রহমান। তন্ময় আহমেদ বলেন, আজ ঘুরে ঘুরে কি কালেকশন আছে তা দেখতে এসেছি। ঈদের মূল কেনাকাটা শুরু করবো ঈদের ৪/৫ দিন আগে। তাই এখন তেমন ক্রেতাদের উপস্থিতি নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ