ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ট্রাফিক সপ্তাহ বেড়ে ১০ দিন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশজুড়ে চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে সুফল পাওয়ার কথা জানিয়ে এ কর্মসূচি আরও তিন দিন বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৫ অগাস্ট ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর সড়কে শৃঙ্খলায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। এটা টেকসই করতে অভিযান চলমান রাখা দরকার। এ জন্য ট্রাফিক সপ্তাহ ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাজধানী থেকে তাদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।নয় দফা দাবিতে এই আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাজপথে পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা শুরু করে। সেখানে দেখা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও আইন প্রণেতারাও অনেক ক্ষেত্রে আইন মানছেন না।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন; ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’- এই শ্লোগান নিয়ে গত রোববার শুরু হয় ট্রাফিক সপ্তাহ, যা গতকাল শনিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ কমিশনার জানান, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ছয় দিনে ঢাকায় ট্রাফিক আইন অমান্য করায় মোট ৫২ হাজার ৪১৭টি মামলা করা হয়েছে। সেই সাথে আদায় করা হয়েছে তিন কোটির বেশি জরিমানা। পাশাপাশি পথচারী ও চালকদের সচেতন করতে মাইকিং, পোস্টার এবং লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলন আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাদের দাবি যৌক্তিক, ন্যায্য। আমরা নৈতিকভাবে এটাকে সমর্থন করি।” কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনে ‘একটি অপশক্তি ঢুকে যায়’ মন্তব্য করে পুলিশ কমিশনার বলেন, “তাদের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে , গ্রেপ্তারও হয়েছে। বাকিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ঝিগাতলা-ধানমন্ডিতে সংঘর্ষের সময় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, “এরপরও পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ