ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের কৈজুরীহাট মসজিদ আধুনিক স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনার তীরের কৈজুরীহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরের কৈজুরীহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। বাংলা ১৩৩৭ সনে  স্থাপিত প্রাচীণ এই মসজিদটি দিন দিন পর্যটকদেরও দৃষ্টি কাড়ছে। সর্বশেষ ২০১২ সাল থেকে এই মসজিদটিকে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে  ঢেলে সাজানো হচ্ছে। মূল মসজিদের সাথে তিন তলা ফাউন্ডেশনের ২য়তলাও সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যেই। ৫টি গম্বুজ ও ১২টি মিনারে সমৃদ্ধ মসজিদটি শাহজাদপুর উপজেলার মধ্যে অন্যতম মসজিদ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার মুছুল্লী নীচতলায় এবং ২য় তলায় ১৫শ মুছুল্লী এক সাথে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে মসজিদটির সংস্কার বাবদ খরচ হচ্ছে ১ কোটি টাকা। ব্যক্তি অনুদানে সংস্কার করা এই মসজিদটি যমুনাপাড়ের মানুষের ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতীক। মসজিদটি তৎকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠা করেন আল্লামা পীরে কামেল শাহ সুফী মহি উদ্দিন আনসারী। আর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফুরফুরা শরীফের খলিফা হযরত আবু বক্কর সিদ্দিকী (রহঃ) । মসজিদটির বিশেষত্ব হচ্ছে প্রতি শুক্রবার কৈজুরীতে হাট বসে। আর এই মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যমুনার এপার ও ওপার দুপাড়ের গ্রাম ছাড়াও দূর দূরান্ত এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুছুল্লী এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসে। মসজিদটি নির্মাণে সিমেন্ট ও সুড়কীর ব্যবহার রয়েছে। মিনার গুলিতে বিভিন্ন কড়ির প্লেট ভাঙ্গা দেয়া আছে। বর্তমানে মসজিদটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ হাজী এ্যাড.আব্দুল খালেক। তিনি জানান, মসজিদটির নির্মাণশৈলী মুসলিম স্থাপত্যকলার আবহে। এবং এটি যমুনাপাড়ের মানুষের ভালবাসার স্তম্ভ। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও মসজিদটির সম্মুখে এসে ভাঙ্গন থমকে যায়। যার অছিলায় ভাঙ্গনের কবল থেকে কৈজুরী হাট ও আশেপাশের গ্রাম রক্ষা পায়। যমুনা তীরে দাড়িয়ে এই মসজিদটি যমুনাকে  যেন থমকে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৈজুরীহাট মসজিদটি কয়েক বছর আগে ভাঙ্গনের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকলেও নদী থেকে মাত্র ৫০গজ দুরে এসে ভাঙ্গন বন্ধ হয়। উপজেলার প্রাচীন ও আশে পাশে এলাকার সবচেয়ে নান্দনিক এই মসজিদটি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে গুরুত্ব বহন করছে। যার ফলে এই মসজিদটির উন্নয়ন কর্মকান্ডে মুছুল্লীদের অনুদান এবং ব্যয়বহুল স্থাপত্যশৈলীর  প্রমান বহন করে। আগামীদিনে এই মসজিদটি যমুনা নদী দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা করছেন এলাকার মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ