ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাত কূয়ার সেচে কৃষকের ভাগ্য বদল

আল হেলাল নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার এবং গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী উদ্ভাবিত ডাগওেয়ল বা পাতকুয়া সেচের মাধ্যমে শেরপরের নালিতাবাড়ীর কৃষকরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। কৃষি মন্ত্রীর উদ্ভাসিত পাতকুয়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী রাচমন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ প্রকল্পে এমপি হিসেবে প্রাপ্ত কাবিটার ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বি এ ডি সি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ পাতকুয়া ১১ জানুয়ারি উদ্বোধনের আগেই রামচন্দ্রকুড়া এলাকার ২৫ একর জমি শুষ্ক রবি মওসুমের সেচের আওতায় আসার ফলে তিন শতাধিক কৃষক উকৃত হয়েছে। সোলার পাম্প চালিত ডাগওয়েল বা পাত কুয়ার মাধ্যমে সংরক্ষিত পানির সেচ কার্যক্রম ছাড়াও গৃহস্থালির কাজেও পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। ডাগওয়েলের সুবিধাভোগী কৃষকরা আলু, লাউ, পটল, গম, মরিচ, রশুন, পিঁয়াজ, পুঁই শাক, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শশা, করলা, ভূট্টা বেগুন, সিম, ছোলা ও মশুর ডালসহ নানা প্রকার ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন শেরপুর জোন অফিসের সহকারী প্রকৌশলী শাহ কিবরিয়া মাহবুব তন্ময় জানা, শুষ্ক ও রবি মওসুমে নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের সেচের অভাবে অনেক কৃষি আবাদযোগ্য জমি পতিত থাকতো। কৃষি মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ডাগওয়েল করার প্রস্তাব করা হলে বি এ ডি সি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের দিকে এর খনন কাজ শুরু করে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পানি ব্যবহার করে কৃষকদের সেচের আওতায় আনা গেছে। নির্মিত ডাগওয়েল ১১৮ ফুট গভীর। ব্যাস হচ্ছে ১৮ ইঞ্চি। এখানে ২০ ফুট পানি সবসময় থাকবে। আর ডাগওয়েলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয়। পাতকুয়ার এ পানি পাম্প করার পর তা সরবরাহ করার জন্য ট্যাংকি থেকে ৩ ইঞ্চি ডেলিভারি পাইপ আছে। তার থেকে ৫০০ মিটার ভূগর্ভস্থ্য সেচ নালা করে দেয় হয়েছে। এতে কৃষকগণ ফিতা পাইপ ব্যবহার করতে পারছে। ডাগওয়েল হওয়ার পর এলাকায় যারা সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল তার ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছে। আনুমানিক ৩ শতের মতো কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। ২৫ একরের মতো জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে এই ডাগওয়েলের কারণে। নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফ ইকবাল জানান, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশক্রমে কাবিটার ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়েছে। এই পাতকুয়া থেকে শুষ্ক মওসুমে যেসব রবি ফসল আবাদ হয় সেই ফসলে এ সেচ দেয়া যাচ্ছ। এ পানি শুষ্ক মওসুমে ব্যবহার করা হয়। কুয়া থেকে পানি উত্তোলনে প্রক্রিয়া সৌর শক্তির মাধ্যমে চলে। ফলে এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব হচ্ছে না। পাশাপাশি যে এলাকায় এই পাতকুয়া থেকে পানি নিয়ে সেচ দিয়ে এখন খুব সহজেই সবজিসহ রবিশস্য আবাদ করা হচ্ছে। এতে করে একদিকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাড়ছে। পাশাপাশি শুষ্ক মওসুমে কৃষকরা কম খরচে আবাদ করতে পারছে।
রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা দৈনিক সংগ্রামকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে এখানে কখনো কৃষি আবাদ হতো না। ডাগওয়েল পাতকুয়া দেয়ায় কৃষিতে অনেক উন্নয়ন হয়েছ্ েপাতকুয়ার ও  সৌরবিদ্যুত আমাদের কৃষিতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কৃষকগণ বিনা খরচেই পানি পাচ্ছে যার ফলে এখন সোনার ফসল ফলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ